চূড়ান্ত আন্দোলনে ধীরে চলো নীতি
jugantor
চূড়ান্ত আন্দোলনে ধীরে চলো নীতি

  হাবিবুর রহমান খান  

০৬ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তৃণমূল থেকে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের চাপ থাকা সত্ত্বেও আপাতত কঠোর কর্মসূচিতে যাচ্ছে না বিএনপি। ভোলায় পুলিশের হামলায় দুই নেতা নিহত হওয়ার পরও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেই আছেন তারা।

ঘোষণা করা হয়েছে শোক ও বিক্ষোভ কর্মসূচি। এসব কর্মসূচিতে যাতে বিশৃঙ্খলা বা সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান, সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ে অতীতে তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া সরকার বা বিভিন্ন শক্তির প্রলোভনে পড়ে হটকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার নেতিবাচক ফল আমরা পেয়েছি। কিন্তু এবার খুব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চূড়ান্ত আন্দোলনে অনেকটাই ধীরে চলো নীতিতে দলের হাইকমান্ড।

তাদের মতে, ভোলায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সেখানে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যার জন্য এভাবে গুলি চালাতে হবে। একটি পরিস্থিতি তৈরি করে বিএনপিকে এখনই রাজপথে নামানোর কৌশল হতে পারে। তাই আমরাও এবার সে ফাঁদে পা দেব না। আপাতত ইস্যুভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি, দল গোছানো আর বৃহত্তর ঐক্যেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, অনেকে জানতে চান কবে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তাদের কথা শুনে আমি অবাক হই। বিএনপি তো আন্দোলনের মধ্যেই আছে। সরকারের নানা ব্যর্থতায় আমরা রাজপথেই প্রতিবাদ করছি। আন্দোলন মানে তো গাড়ি ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও নয়। আমরা এসবে বিশ্বাস করি না। জনগণও সেটা চায় না। আমরা চাই সরকারবিরোধী একটি গণআন্দোলন। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করর্ছি। বৃহত্তর ঐক্য তৈরিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করছি। গণঅভ্যুত্থান ছাড়া এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটানো সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, বিএনপির সব সময় গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। কিন্তু সরকার তার গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে সব সময় বিএনপির ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করে। অতীতে আমরা সরকারের এমন নীলনকশা দেখেছি। সরকার একটা বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করে বিএনপিকে আন্দোলনে উসকে দিতে চাইছে। কিন্তু আমরা সরকারের কোনো উসকানিতে পা দেব না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সময়মতো চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জানা গেছে, ভোলায় পুলিশি হামলার পরপরই দলের নীতিনির্ধারকরা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। পুরো পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ করেন তারা। বৈঠকে প্রায় সব নেতাই একমত হন, এ ঘটনার পেছনে সরকারের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে। তারা মনে করেন, এর পেছনে সরকারের মূলত দুটি উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এক, যে কোনো ভাবে এই মুহূর্তে বিএনপিকে রাজপথে নামাতে চায় সরকার। এমন বার্তা তাদের কাছে রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, রাজপথে নামলে সরকার কতটা কঠিন হতে পারে বিরোধী দলগুলোকে এমন বার্তা দেওয়া। তবে সরকার যে কৌশলই নিক আমাদের ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ মুহূর্তে ইস্যুভিত্তিক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সরকারবিরোধী জনমত তৈরির দিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে নেতারা মত দেন। তারা জানান, কঠোর কর্মসূচি দিলেই সংঘাত ও সহিংসতা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

এতে দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা নতুন করে মামলা-হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর বাকি। নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে এত আগে মাঠে নামলে ফল নিয়ে ঘরে ফেরা কঠিন হবে। আন্দোলনের ফল এবার যাতে ঘরে আনা যায় সেই কৌশলেই এগোতে হবে।

দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান-দুর্নীতি, অনিয়ম আর সবশেষ ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক। দ্রব্যমূলের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস। জনগণ সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ। জন ক্ষোভকে ভিন্ন খাতে নিতে সরকার নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। বিএনপিকে রাজপথে নামিয়ে তাদের ব্যর্থতার দায় বিএনপির ঘাড়ে চাপাতে চাইছে। কিন্তু বিএনপি সে পথে পা বাড়াবে না। তাছাড়া দেশের এমন পরিস্থিতিতে হরতাল, অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেও এই মুহূর্তে কঠোর আন্দোলনে না যাওয়ার পক্ষে হাইকমান্ড।

বিএনপির দুজন নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে বলেন, ভোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের নামে কোথাও যেন সহিংসতা না হয় এ ব্যাপারে সব স্তরের নেতাদের বার্তা দেওয়া হয়। মিছিলকে কেন্দ্র করে তৃতীয় কোনো পক্ষ যাতে ভাঙচুর চালিয়ে বিএনপির ওপর দায় চাপাতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে দায়িত্বশীল নেতাদের বলা হয়। হাইকমান্ডের এমন বার্তা পাওয়ার পর সারা দেশে বিক্ষোভ হলেও কোথাও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। এমনকি ভোলা জেলা ছাত্রদল সভাপতির মৃত্যুর পরও কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

নয়াপল্টনে তার জানাজা ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে কিন্তু সেটা যাতে সংঘর্ষে রূপ না নেয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা। কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে না জড়ান সেটা তারা দেখভাল করেন। পুলিশ যেখানে দায়িত্ব পালন করে তার আশপাশে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া নয়াপল্টনের বিভিন্ন গলি ও সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও ছিল তাদের কড়া নজরদারি। ফলে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয় জানাজা।

জানাজা থেকে ৩ দিনের শোক ও ৩ দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি বিদেশিদের সমর্থন আদায়ে কাজ করে যাচ্ছেন দলটির নেতারা। এদিকে ভোলায় নেতাদের হত্যা এবং সরকারের নানা ব্যর্থতার প্রতিবাদে দলের কট্টরপন্থি সিনিয়র নেতা ও তরুণ নেতাদের একাংশ এখনই হার্ডলাইনে যাওয়ার পক্ষে। তারা মনে করেন, কঠোর কর্মসূচি পালন করলে সারা দেশে নেতাকর্মীদের মনোবল আরও চাঙ্গা হবে। ক্ষমতাসীন দল ও বিদেশিদের কাছেও একটি বার্তা পৌঁছে যাবে।

এজন্য এ অংশটি কঠোর কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক আলোচনা সভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য চলাকালে নেতাকর্মীরা উচ্চৈঃস্বরে ‘হরতাল, হরতাল’ বলে চিৎকার করেন। এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, আগে রাস্তা দখল করতে হবে।

এ বিষয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, সরকার নানাভাবে বিএনপি ও নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছে। নির্যাতন করছে। গুলি চালিয়ে হত্যা করছে। কিন্তু এরপরও তারা সরকারের ফাঁদে পা দেবে না। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে জনগণকে আরও সম্পৃক্ত করা হবে। এর ধারাবাহিকতায় তারা কঠোর আন্দোলনে যাবেন।

চূড়ান্ত আন্দোলনে ধীরে চলো নীতি

 হাবিবুর রহমান খান 
০৬ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তৃণমূল থেকে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের চাপ থাকা সত্ত্বেও আপাতত কঠোর কর্মসূচিতে যাচ্ছে না বিএনপি। ভোলায় পুলিশের হামলায় দুই নেতা নিহত হওয়ার পরও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেই আছেন তারা।

ঘোষণা করা হয়েছে শোক ও বিক্ষোভ কর্মসূচি। এসব কর্মসূচিতে যাতে বিশৃঙ্খলা বা সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান, সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ে অতীতে তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া সরকার বা বিভিন্ন শক্তির প্রলোভনে পড়ে হটকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার নেতিবাচক ফল আমরা পেয়েছি। কিন্তু এবার খুব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চূড়ান্ত আন্দোলনে অনেকটাই ধীরে চলো নীতিতে দলের হাইকমান্ড।

তাদের মতে, ভোলায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সেখানে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যার জন্য এভাবে গুলি চালাতে হবে। একটি পরিস্থিতি তৈরি করে বিএনপিকে এখনই রাজপথে নামানোর কৌশল হতে পারে। তাই আমরাও এবার সে ফাঁদে পা দেব না। আপাতত ইস্যুভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি, দল গোছানো আর বৃহত্তর ঐক্যেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, অনেকে জানতে চান কবে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তাদের কথা শুনে আমি অবাক হই। বিএনপি তো আন্দোলনের মধ্যেই আছে। সরকারের নানা ব্যর্থতায় আমরা রাজপথেই প্রতিবাদ করছি। আন্দোলন মানে তো গাড়ি ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও নয়। আমরা এসবে বিশ্বাস করি না। জনগণও সেটা চায় না। আমরা চাই সরকারবিরোধী একটি গণআন্দোলন। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করর্ছি। বৃহত্তর ঐক্য তৈরিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করছি। গণঅভ্যুত্থান ছাড়া এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটানো সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, বিএনপির সব সময় গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। কিন্তু সরকার তার গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে সব সময় বিএনপির ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করে। অতীতে আমরা সরকারের এমন নীলনকশা দেখেছি। সরকার একটা বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করে বিএনপিকে আন্দোলনে উসকে দিতে চাইছে। কিন্তু আমরা সরকারের কোনো উসকানিতে পা দেব না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সময়মতো চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জানা গেছে, ভোলায় পুলিশি হামলার পরপরই দলের নীতিনির্ধারকরা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। পুরো পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ করেন তারা। বৈঠকে প্রায় সব নেতাই একমত হন, এ ঘটনার পেছনে সরকারের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে। তারা মনে করেন, এর পেছনে সরকারের মূলত দুটি উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এক, যে কোনো ভাবে এই মুহূর্তে বিএনপিকে রাজপথে নামাতে চায় সরকার। এমন বার্তা তাদের কাছে রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, রাজপথে নামলে সরকার কতটা কঠিন হতে পারে বিরোধী দলগুলোকে এমন বার্তা দেওয়া। তবে সরকার যে কৌশলই নিক আমাদের ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ মুহূর্তে ইস্যুভিত্তিক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সরকারবিরোধী জনমত তৈরির দিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে নেতারা মত দেন। তারা জানান, কঠোর কর্মসূচি দিলেই সংঘাত ও সহিংসতা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

এতে দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা নতুন করে মামলা-হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর বাকি। নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে এত আগে মাঠে নামলে ফল নিয়ে ঘরে ফেরা কঠিন হবে। আন্দোলনের ফল এবার যাতে ঘরে আনা যায় সেই কৌশলেই এগোতে হবে।

দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান-দুর্নীতি, অনিয়ম আর সবশেষ ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক। দ্রব্যমূলের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস। জনগণ সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ। জন ক্ষোভকে ভিন্ন খাতে নিতে সরকার নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। বিএনপিকে রাজপথে নামিয়ে তাদের ব্যর্থতার দায় বিএনপির ঘাড়ে চাপাতে চাইছে। কিন্তু বিএনপি সে পথে পা বাড়াবে না। তাছাড়া দেশের এমন পরিস্থিতিতে হরতাল, অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেও এই মুহূর্তে কঠোর আন্দোলনে না যাওয়ার পক্ষে হাইকমান্ড।

বিএনপির দুজন নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে বলেন, ভোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের নামে কোথাও যেন সহিংসতা না হয় এ ব্যাপারে সব স্তরের নেতাদের বার্তা দেওয়া হয়। মিছিলকে কেন্দ্র করে তৃতীয় কোনো পক্ষ যাতে ভাঙচুর চালিয়ে বিএনপির ওপর দায় চাপাতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে দায়িত্বশীল নেতাদের বলা হয়। হাইকমান্ডের এমন বার্তা পাওয়ার পর সারা দেশে বিক্ষোভ হলেও কোথাও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। এমনকি ভোলা জেলা ছাত্রদল সভাপতির মৃত্যুর পরও কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

নয়াপল্টনে তার জানাজা ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে কিন্তু সেটা যাতে সংঘর্ষে রূপ না নেয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা। কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে না জড়ান সেটা তারা দেখভাল করেন। পুলিশ যেখানে দায়িত্ব পালন করে তার আশপাশে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া নয়াপল্টনের বিভিন্ন গলি ও সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও ছিল তাদের কড়া নজরদারি। ফলে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয় জানাজা।

জানাজা থেকে ৩ দিনের শোক ও ৩ দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি বিদেশিদের সমর্থন আদায়ে কাজ করে যাচ্ছেন দলটির নেতারা। এদিকে ভোলায় নেতাদের হত্যা এবং সরকারের নানা ব্যর্থতার প্রতিবাদে দলের কট্টরপন্থি সিনিয়র নেতা ও তরুণ নেতাদের একাংশ এখনই হার্ডলাইনে যাওয়ার পক্ষে। তারা মনে করেন, কঠোর কর্মসূচি পালন করলে সারা দেশে নেতাকর্মীদের মনোবল আরও চাঙ্গা হবে। ক্ষমতাসীন দল ও বিদেশিদের কাছেও একটি বার্তা পৌঁছে যাবে।

এজন্য এ অংশটি কঠোর কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক আলোচনা সভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য চলাকালে নেতাকর্মীরা উচ্চৈঃস্বরে ‘হরতাল, হরতাল’ বলে চিৎকার করেন। এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, আগে রাস্তা দখল করতে হবে।

এ বিষয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, সরকার নানাভাবে বিএনপি ও নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছে। নির্যাতন করছে। গুলি চালিয়ে হত্যা করছে। কিন্তু এরপরও তারা সরকারের ফাঁদে পা দেবে না। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে জনগণকে আরও সম্পৃক্ত করা হবে। এর ধারাবাহিকতায় তারা কঠোর আন্দোলনে যাবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন