নয় বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে হার
jugantor
প্রথম ওয়ানডে
নয় বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে হার

  ক্রীড়া প্রতিবেদক  

০৬ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৩০৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ছয় রানের মধ্যে সাঝঘরে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার। ৬২ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন। বাংলাদেশ তখন নিজেদের প্রিয় ফরম্যাটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আরেকটি অনায়াস জয়ের সুবাস পাচ্ছিল।

সেখান থেকেই এক জুটিতে পাশার দান উলটে দিল স্বাগতিকরা। সিকান্দার রাজা (১৩৫*) ও ইনোসেন্ট কাইয়ার (১১০) জোড়া সেঞ্চুরি এবং তাদের রেকর্ড গড়া জুটিতে (১৯২) নয় বছর ও ১৯ ম্যাচ পর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে বহু কাঙ্ক্ষিত জয়ের দেখা পেল জিম্বাবুয়ে।

শুক্রবার হারারেতে প্রথম ওয়ানডেতে ১০ বল বাকি থাকতেই পাঁচ উইকেটের দাপুটে জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। ২০১৩ সালের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটিই জিম্বাবুয়ের প্রথম জয়। ২-১ ব্যবধানে টি ২০ সিরিজ হারের পর ওয়ানডেতেও বাংলাদেশের শুরুটা হলো হারের হতাশায়। কাল টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে চার ফিফটিতে দুই উইকেটে ৩০৩ রানের বড় সংগ্রহই গড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ৩০০ ছাড়ানো পুঁজি নিয়েও দলকে জেতাতে পারলেন না বোলাররা।

কাল যেন কোনো কিছুই পক্ষে ছিল না বাংলাদেশের। ব্যাটিংয়ে যখন তাণ্ডব চালানো শুরু করেছিলেন লিটন দাস তখনই চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এরপর হাতে ব্যথা পাওয়ায় ফিল্ডিংয়ে নামতে পারেননি মুশফিকও। বোলিংয়ের সময় পায়ে আঘাত পাওয়া শরীফুল ইসলামকেও স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়তে হয়। যদিও পরে তিনি বোলিং করেছেন।

একই সঙ্গে জিম্বাবুয়ের প্রতি ভাগ্য দেবী ছিলেন সুপ্রসন্ন। কাইয়া জীবন পেয়েছেন কয়েকবার। রাজা ও জঙ্গুয়ের ক্যাচও ছেড়েছে বাংলাদেশ। রাজা ফিরতে পারতেন ৪৩ রানেই। কিন্তু তাসকিনের বলে বদলি হিসাবে নামা তাইজুল ক্যাচ তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন। কাইয়া জীবন পান ৬৮, ৭৪ এবং ১১০ রানে।

চতুর্থ উইকেটে কাইয়া ও রাজার ১৯২ রানের ম্যারাথন জুটিতেই বাংলাদেশের মুঠো থেকে ম্যাচ বের করে নেয় স্বাগতিকরা। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে যেকোনো উইকেটে জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ জুটি এটি। কাইয়া চতুর্থ ম্যাচেই তার প্রথম ওয়ানডে শতক পূর্ণ করেন ১১৫ বলে। একই ওভারে রাজা তুলে নেন নিজের চতুর্থ ওয়ানডে শতক। তিন অংক ছুঁতে তার লাগে ৮১ বল। কাইয়া ১১০ রানে থামলেও ১০৯ বলে ১৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলকে জিতিয়েই ফেরেন ম্যাচসেরা রাজা।

এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসে শুরুতে ধরে খেলে পরে রান বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। সেই পরিকল্পনাতেই সফল হয়েছিল সফরকারীরা। শতরানের উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ও লিটন দাস গড়ে দেন ভিত। টপ অর্ডারের চার ব্যাটারই পেয়েছেন ফিফটি। তবে সেঞ্চুরি না পাওয়ার হতাশা রয়েই গেছে।

৮৮ বলে ৬২ রানে আউট হন অধিনায়ক তামিম। তার আগেই বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসাবে ওয়ানডেতে আট হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এই মাইলফলক ছোঁয়া ইতিহাসের নবম ওপেনার তিনি। রাজার লেংথ বল মিড উইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন তামিম।

কিন্তু পিচ করে একটু থমকে আসে বল। তামিমের ব্যাটের কানায় লেগে সহজ ক্যাচ যায় শর্ট থার্ড ম্যানে। সেখানে ক্যাচ নেন ইনোসেন্ট কাইয়া। ভাঙে লিটন ও তামিমের চতুর্থ শতরানের জুটি। এই জুটি থেকে আসে ১১৯ রান। শুরুতে লিটন ছিলেন কিছুটা মন্থর। সময়ের সঙ্গে তিনিও এগিয়ে যেতে থাকেন।

ফিফটির পর অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। দারুণ কিছু শটে ছুটছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু আচমকাই থামতে হলো তাকে। ৩৪তম ওভারে সিকান্দার রাজার বল আলতো করে অন সাইডে খেলেই দ্রুত রান নিতে ছোটেন লিটন। রানের শেষ পর্যায়ে তাকে দেখা যায় একটু খোঁড়াতে। পরে মাঠেই পড়ে যান তিনি।

ফিজিও এসে চিকিৎসাও করেন তাৎক্ষণিক। তবে আর উঠে দাঁড়ানোর অবস্থা হয়নি। মাঠ ছাড়তে হয় তাকে স্ট্রেচারে করে। এই চোটে সিরিজই শেষ হয়ে গেল লিটনের। নয় চার ও এক ছক্কায় ৮৯ বলে ৮১ রান করেন লিটন। তার ফিফটি করতে লেগেছিল ৭৫ বল। পরের ৩১ রান আসে মাত্র ১৪ বলেই।

এরপর রানের গতি বাড়ানোর কাজটা করেছেন এনামুল হক বিজয়। ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনি ফিরেছেন তিন বছর পর। ফেরার ম্যাচটিও রাঙালেন দারুণ এক ফিফটিতে। মিল্টন শুম্বার বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে পঞ্চাশে পা রাখেন ৪৭ বলেই। ৩৯ ওয়ানডেতে তার চতুর্থ ফিফটি এটি, সেঞ্চুরি আছে তিনটি।

তবে তারও সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি। ৭১ রানে একবার জীবন পাওয়ার পরও এগোতে পারেননি। আউট হন ৭৩ রানে। ভিক্টর নিয়াচির ফুল লেংথ বল চেষ্টা করেন ছক্কায় উড়াতে। তবে মারে জোর পাননি বেশি। লং অনে ক্যাচ নেন তারিসাই মুসাকান্দা। মুশফিকের রানের গতি বাড়ানোর যেন কোনো তাড়া ছিল না।

তিনি অপরাজিত থাকেন ৪৯ বলে ৫২ করে। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ ১২ বলে করেন অপরাজিত ২০। প্রথম ২৫ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ১১৬ রান। পরের ২৫ ওভারে আসে ১৮৮ রান! জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক রেজিস চাকাভা ব্যবহার করেন আট বোলার।

প্রথম ওয়ানডে

নয় বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে হার

 ক্রীড়া প্রতিবেদক 
০৬ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৩০৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ছয় রানের মধ্যে সাঝঘরে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার। ৬২ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন। বাংলাদেশ তখন নিজেদের প্রিয় ফরম্যাটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আরেকটি অনায়াস জয়ের সুবাস পাচ্ছিল।

সেখান থেকেই এক জুটিতে পাশার দান উলটে দিল স্বাগতিকরা। সিকান্দার রাজা (১৩৫*) ও ইনোসেন্ট কাইয়ার (১১০) জোড়া সেঞ্চুরি এবং তাদের রেকর্ড গড়া জুটিতে (১৯২) নয় বছর ও ১৯ ম্যাচ পর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে বহু কাঙ্ক্ষিত জয়ের দেখা পেল জিম্বাবুয়ে।

শুক্রবার হারারেতে প্রথম ওয়ানডেতে ১০ বল বাকি থাকতেই পাঁচ উইকেটের দাপুটে জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। ২০১৩ সালের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটিই জিম্বাবুয়ের প্রথম জয়। ২-১ ব্যবধানে টি ২০ সিরিজ হারের পর ওয়ানডেতেও বাংলাদেশের শুরুটা হলো হারের হতাশায়। কাল টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে চার ফিফটিতে দুই উইকেটে ৩০৩ রানের বড় সংগ্রহই গড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ৩০০ ছাড়ানো পুঁজি নিয়েও দলকে জেতাতে পারলেন না বোলাররা।

কাল যেন কোনো কিছুই পক্ষে ছিল না বাংলাদেশের। ব্যাটিংয়ে যখন তাণ্ডব চালানো শুরু করেছিলেন লিটন দাস তখনই চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এরপর হাতে ব্যথা পাওয়ায় ফিল্ডিংয়ে নামতে পারেননি মুশফিকও। বোলিংয়ের সময় পায়ে আঘাত পাওয়া শরীফুল ইসলামকেও স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়তে হয়। যদিও পরে তিনি বোলিং করেছেন।

একই সঙ্গে জিম্বাবুয়ের প্রতি ভাগ্য দেবী ছিলেন সুপ্রসন্ন। কাইয়া জীবন পেয়েছেন কয়েকবার। রাজা ও জঙ্গুয়ের ক্যাচও ছেড়েছে বাংলাদেশ। রাজা ফিরতে পারতেন ৪৩ রানেই। কিন্তু তাসকিনের বলে বদলি হিসাবে নামা তাইজুল ক্যাচ তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন। কাইয়া জীবন পান ৬৮, ৭৪ এবং ১১০ রানে।

চতুর্থ উইকেটে কাইয়া ও রাজার ১৯২ রানের ম্যারাথন জুটিতেই বাংলাদেশের মুঠো থেকে ম্যাচ বের করে নেয় স্বাগতিকরা। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে যেকোনো উইকেটে জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ জুটি এটি। কাইয়া চতুর্থ ম্যাচেই তার প্রথম ওয়ানডে শতক পূর্ণ করেন ১১৫ বলে। একই ওভারে রাজা তুলে নেন নিজের চতুর্থ ওয়ানডে শতক। তিন অংক ছুঁতে তার লাগে ৮১ বল। কাইয়া ১১০ রানে থামলেও ১০৯ বলে ১৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলকে জিতিয়েই ফেরেন ম্যাচসেরা রাজা।

এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসে শুরুতে ধরে খেলে পরে রান বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। সেই পরিকল্পনাতেই সফল হয়েছিল সফরকারীরা। শতরানের উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ও লিটন দাস গড়ে দেন ভিত। টপ অর্ডারের চার ব্যাটারই পেয়েছেন ফিফটি। তবে সেঞ্চুরি না পাওয়ার হতাশা রয়েই গেছে।

৮৮ বলে ৬২ রানে আউট হন অধিনায়ক তামিম। তার আগেই বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসাবে ওয়ানডেতে আট হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এই মাইলফলক ছোঁয়া ইতিহাসের নবম ওপেনার তিনি। রাজার লেংথ বল মিড উইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন তামিম।

কিন্তু পিচ করে একটু থমকে আসে বল। তামিমের ব্যাটের কানায় লেগে সহজ ক্যাচ যায় শর্ট থার্ড ম্যানে। সেখানে ক্যাচ নেন ইনোসেন্ট কাইয়া। ভাঙে লিটন ও তামিমের চতুর্থ শতরানের জুটি। এই জুটি থেকে আসে ১১৯ রান। শুরুতে লিটন ছিলেন কিছুটা মন্থর। সময়ের সঙ্গে তিনিও এগিয়ে যেতে থাকেন।

ফিফটির পর অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। দারুণ কিছু শটে ছুটছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু আচমকাই থামতে হলো তাকে। ৩৪তম ওভারে সিকান্দার রাজার বল আলতো করে অন সাইডে খেলেই দ্রুত রান নিতে ছোটেন লিটন। রানের শেষ পর্যায়ে তাকে দেখা যায় একটু খোঁড়াতে। পরে মাঠেই পড়ে যান তিনি।

ফিজিও এসে চিকিৎসাও করেন তাৎক্ষণিক। তবে আর উঠে দাঁড়ানোর অবস্থা হয়নি। মাঠ ছাড়তে হয় তাকে স্ট্রেচারে করে। এই চোটে সিরিজই শেষ হয়ে গেল লিটনের। নয় চার ও এক ছক্কায় ৮৯ বলে ৮১ রান করেন লিটন। তার ফিফটি করতে লেগেছিল ৭৫ বল। পরের ৩১ রান আসে মাত্র ১৪ বলেই।

এরপর রানের গতি বাড়ানোর কাজটা করেছেন এনামুল হক বিজয়। ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনি ফিরেছেন তিন বছর পর। ফেরার ম্যাচটিও রাঙালেন দারুণ এক ফিফটিতে। মিল্টন শুম্বার বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে পঞ্চাশে পা রাখেন ৪৭ বলেই। ৩৯ ওয়ানডেতে তার চতুর্থ ফিফটি এটি, সেঞ্চুরি আছে তিনটি।

তবে তারও সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি। ৭১ রানে একবার জীবন পাওয়ার পরও এগোতে পারেননি। আউট হন ৭৩ রানে। ভিক্টর নিয়াচির ফুল লেংথ বল চেষ্টা করেন ছক্কায় উড়াতে। তবে মারে জোর পাননি বেশি। লং অনে ক্যাচ নেন তারিসাই মুসাকান্দা। মুশফিকের রানের গতি বাড়ানোর যেন কোনো তাড়া ছিল না।

তিনি অপরাজিত থাকেন ৪৯ বলে ৫২ করে। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ ১২ বলে করেন অপরাজিত ২০। প্রথম ২৫ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ১১৬ রান। পরের ২৫ ওভারে আসে ১৮৮ রান! জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক রেজিস চাকাভা ব্যবহার করেন আট বোলার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন