বাবা বাড়ি ফিরবে, আশা অবুঝ শিশু আফরার
jugantor
বাবা বাড়ি ফিরবে, আশা অবুঝ শিশু আফরার
নুরে আলমের স্ত্রীর চোখে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

  ভোলা প্রতিনিধি  

০৬ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভোলায় সংঘর্ষে নিহত জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলম

পাঁচ বছরের অবুঝ শিশু আশরাফ বিনতে আলম আফরা। ভোলায় সংঘর্ষে নিহত জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলমের একমাত্র সন্তান।

আফরা এখন নার্সারিতে পড়ছে। বাবা আর ফিরে আসবে না-এটা বোঝার ক্ষমতাও হয়নি তার। শুক্রবার তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে পাথর নুরে আলমের স্ত্রী ইফফাত জাহান শিফাত। তার চোখে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। আফরাকে কিভাবে মানুষ করবেন সেই চিন্তায় বিভোর তিনি।

শিফাত বলেন, আফরা তার বাবার পথ চেয়ে আছে। ও জানে না-তার বাবা আর কখনও ফিরবে না। তাকে কোলে নেবে না আর কোনো দিন। ওর বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়ে ডাক্তার হবে। সেই স্বপ্ন এখন কঠিন অনিশ্চয়তায়। কীভাবে তাকে মানুষ করব বুঝতে পারছি না। স্বামী হত্যার বিচার আল্লাহর কাছে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

৩১ জুলাই ভোলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন নুরে আলম। ৩ দিন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার মারা যান তিনি।

শুক্রবার রাতে নুরে আলমের জানাজার আগে তার বড় ভাই প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম বলেন, তার পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ নেই। তার ছোট ভাই নুরে আলমও খুব ভালো ছেলে। তার সঙ্গেও কারও বিরোধ ছিল না। শুধু রাজনীতি করার কারণে কারও কারও সঙ্গে বিরোধ হয়েছে। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। বলেন, আমার বাবা ও মামা মারা গেছেন। ছোট ভাইর রেখে যাওয়া একমাত্র শিশু সন্তানকে মানুষ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাব। কিন্তু পিতার অভাব কোনো দিন পূরণ হবে না। এই পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোলা সরকারি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করেন নুরে আলম। ২০১৮ সালে তার হাতে দেয়া হয় জেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব। সেই থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন তিনি। ৪ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে নুরে আলম ছিলেন সবার ছোট।

শহরে টেন স্পোর্টস নামে খেলাধুলার সামগ্রী বিক্রির একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে কতটা ভালো জানতেন তার প্রমাণ দেখা গেছে, নুরে আলমের লাশ ভোলায় পৌঁছার পর। ভেদুরিয়া ফেরিঘাট থেকে শতাধিক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি ভোলায় প্রবেশ করে রাত ৯টায়।

প্রথমে জেলা বিএনপি অফিসের সামনে দলীয় পতাকা দিয়ে কফিন ঢেকে দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল হক, নির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিএনপির সম্পাদক হারুন অর

রশিদ ট্রুমেসহ সিনিয়র নেতারা। এরপর দুই কিলোমিটারজুড়ে বহর নিয়ে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় আলতাজের রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠে। সেখানে তার জানাজায় মানুষের ঢল নামে। জানাজায় জেলা বিজেপির (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-পার্থ) সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা ডা. আবু সালেহের কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হয়।

মসজিদে দোয়া ও মিলাদ : ভোলায় সংঘর্ষে নিহত নুরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শুক্রবার জেলা সদরের বেশিরভাগ মসজিদে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির আয়োজন করে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে ও শহরের মসজিদগুলোতে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় নেতারা যার যার এলাকার দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পরবর্তী ৩ দিন শ্রমিক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বাবা বাড়ি ফিরবে, আশা অবুঝ শিশু আফরার

নুরে আলমের স্ত্রীর চোখে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
 ভোলা প্রতিনিধি 
০৬ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ভোলায় সংঘর্ষে নিহত জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলম
নুরে আলমের স্ত্রী ইফফাত জাহান শিফাত ও পাঁচ বছরের অবুঝ শিশু আশরাফ বিনতে আলম আফরা -যুগান্তর

পাঁচ বছরের অবুঝ শিশু আশরাফ বিনতে আলম আফরা। ভোলায় সংঘর্ষে নিহত জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলমের একমাত্র সন্তান।

আফরা এখন নার্সারিতে পড়ছে। বাবা আর ফিরে আসবে না-এটা বোঝার ক্ষমতাও হয়নি তার। শুক্রবার তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে পাথর নুরে আলমের স্ত্রী ইফফাত জাহান শিফাত। তার চোখে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। আফরাকে কিভাবে মানুষ করবেন সেই চিন্তায় বিভোর তিনি।

শিফাত বলেন, আফরা তার বাবার পথ চেয়ে আছে। ও জানে না-তার বাবা আর কখনও ফিরবে না। তাকে কোলে নেবে না আর কোনো দিন। ওর বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়ে ডাক্তার হবে। সেই স্বপ্ন এখন কঠিন অনিশ্চয়তায়। কীভাবে তাকে মানুষ করব বুঝতে পারছি না। স্বামী হত্যার বিচার আল্লাহর কাছে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

৩১ জুলাই ভোলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন নুরে আলম। ৩ দিন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার মারা যান তিনি।

শুক্রবার রাতে নুরে আলমের জানাজার আগে তার বড় ভাই প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম বলেন, তার পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ নেই। তার ছোট ভাই নুরে আলমও খুব ভালো ছেলে। তার সঙ্গেও কারও বিরোধ ছিল না। শুধু রাজনীতি করার কারণে কারও কারও সঙ্গে বিরোধ হয়েছে। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। বলেন, আমার বাবা ও মামা মারা গেছেন। ছোট ভাইর রেখে যাওয়া একমাত্র শিশু সন্তানকে মানুষ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাব। কিন্তু পিতার অভাব কোনো দিন পূরণ হবে না। এই পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোলা সরকারি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করেন নুরে আলম। ২০১৮ সালে তার হাতে দেয়া হয় জেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব। সেই থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন তিনি। ৪ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে নুরে আলম ছিলেন সবার ছোট।

শহরে টেন স্পোর্টস নামে খেলাধুলার সামগ্রী বিক্রির একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে কতটা ভালো জানতেন তার প্রমাণ দেখা গেছে, নুরে আলমের লাশ ভোলায় পৌঁছার পর। ভেদুরিয়া ফেরিঘাট থেকে শতাধিক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি ভোলায় প্রবেশ করে রাত ৯টায়।

প্রথমে জেলা বিএনপি অফিসের সামনে দলীয় পতাকা দিয়ে কফিন ঢেকে দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল হক, নির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিএনপির সম্পাদক হারুন অর

রশিদ ট্রুমেসহ সিনিয়র নেতারা। এরপর দুই কিলোমিটারজুড়ে বহর নিয়ে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় আলতাজের রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠে। সেখানে তার জানাজায় মানুষের ঢল নামে। জানাজায় জেলা বিজেপির (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-পার্থ) সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা ডা. আবু সালেহের কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হয়।

মসজিদে দোয়া ও মিলাদ : ভোলায় সংঘর্ষে নিহত নুরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শুক্রবার জেলা সদরের বেশিরভাগ মসজিদে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির আয়োজন করে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে ও শহরের মসজিদগুলোতে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় নেতারা যার যার এলাকার দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পরবর্তী ৩ দিন শ্রমিক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন