‘অর্থ পাচারে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে সরকার’
jugantor
এনডিবির টাকা মিছিল
‘অর্থ পাচারে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে সরকার’

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৬ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টাকা

অর্থ পাচার ও লোডশেডিং বন্ধের দাবিতে শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতীকী টাকা মিছিল ও সমাবেশ করেছে নতুনধারা বাংলাদেশ (এনডিবি)।

সমাবেশে দলটির নেতারা বলেন, সরকার বিভিন্নভাবে অর্থ পাচারকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। অর্থ পাচার রোধ আইনে যত ধরনের ঘাটতি আছে, সব দূর করে এখনই পাচার রোধে পদক্ষেপ না নিলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।

এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর সভাপতিত্বে সমাবেশে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, আবুল হোসেন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিপুণ মিস্ত্রি, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াজেদ রানা, ঢাকা মহানগর উত্তর এনডিবির সদস্য উজ্জ্বল প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

সমাবেশে মোমিন মেহেদী বলেন, আমাদের মন্ত্রীরা বলেছেন, আমরা টাকা পাচারের জন্য আইন করিনি। এ কথার মাধ্যমে তারা ও তাদের সরকার পাচারকারীদের উৎসাহিত করছেন-যা সত্যিকারার্থেই লজ্জাজনক। তর্ক-বিতর্কে একে-অন্যকে দোষারোপ করতে দেখা যায়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সব স্তিমিত হয়ে যায়। ওদিকে নীরবে চলতে থাকে বাণিজ্যের নামে অর্থ পাচার।

এনডিবির চেয়ারম্যান আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য বিশ্লেষণে আমদানির কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে প্রতিবছর রেকর্ড গড়ার চিত্র দেখা যাচ্ছে। জিএফআইয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০০৩ সালে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ২৭৫ কোটি মার্কিন ডলার। ২০০৪ সালে ৩৮১ কোটি মার্কিন ডলার। ২০০৫ সালে ৪২৬ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১৫ সালে এক হাজার ১০১ কোটি ডলার পাচার হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বছরে গড়ে হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যায়।

বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলছে, প্রধানত ১০টি দেশ এই অর্থ পাচারের বড় গন্তব্যস্থল। দেশগুলো হলো-সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, হংকং ও থাইল্যান্ড। আর পাচার চলছে মূলত বাণিজ্যে কারসাজি ও হুন্ডির মাধ্যমে।

সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা বলেন, দেশের অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের কথা আর কী বলব, বাংলাদেশের টাকা পাচারকারীদের সরকার বিভিন্নভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। অবিলম্বে এ আইনের ত্রুটি দূর করে আন্তর্জাতিকভাবে পাচার রোধে পদক্ষেপ না নিলে অর্থনৈতিকভাবে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। শুধু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে অনেক সময় লেগে যায়। গত ১৮ বছরে যে পরিমাণ অর্থ পাচারের কথা বলা হচ্ছে, তা সর্বশেষ তিন অর্থবছরের মোট বাজেটের কাছাকাছি।

এ ছাড়া পাচারের এই অর্থ দেশের বর্তমান জিডিপির ৩১ শতাংশ। অনেকে তুলনা করে বলছেন, পাচারের এই টাকা দিয়ে কয়েকটি পদ্মা সেতু বানানো যেত। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের অন্যতম অংশ মেট্রোরেলই বা কতগুলো বানানো সম্ভব ছিল, এ হিসাবও কষছেন কেউ কেউ।

এনডিবির টাকা মিছিল

‘অর্থ পাচারে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে সরকার’

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৬ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
টাকা
অর্থ পাচার ও লোডশেডিং সমস্যার সমাধানের দাবিতে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নতুন ধারা সংগঠনের প্রতিবাদ সমাবেশ -যুগান্তর

অর্থ পাচার ও লোডশেডিং বন্ধের দাবিতে শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতীকী টাকা মিছিল ও সমাবেশ করেছে নতুনধারা বাংলাদেশ (এনডিবি)।

সমাবেশে দলটির নেতারা বলেন, সরকার বিভিন্নভাবে অর্থ পাচারকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। অর্থ পাচার রোধ আইনে যত ধরনের ঘাটতি আছে, সব দূর করে এখনই পাচার রোধে পদক্ষেপ না নিলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।

এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর সভাপতিত্বে সমাবেশে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, আবুল হোসেন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিপুণ মিস্ত্রি, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াজেদ রানা, ঢাকা মহানগর উত্তর এনডিবির সদস্য উজ্জ্বল প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

সমাবেশে মোমিন মেহেদী বলেন, আমাদের মন্ত্রীরা বলেছেন, আমরা টাকা পাচারের জন্য আইন করিনি। এ কথার মাধ্যমে তারা ও তাদের সরকার পাচারকারীদের উৎসাহিত করছেন-যা সত্যিকারার্থেই লজ্জাজনক। তর্ক-বিতর্কে একে-অন্যকে দোষারোপ করতে দেখা যায়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সব স্তিমিত হয়ে যায়। ওদিকে নীরবে চলতে থাকে বাণিজ্যের নামে অর্থ পাচার।

এনডিবির চেয়ারম্যান আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য বিশ্লেষণে আমদানির কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে প্রতিবছর রেকর্ড গড়ার চিত্র দেখা যাচ্ছে। জিএফআইয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০০৩ সালে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ২৭৫ কোটি মার্কিন ডলার। ২০০৪ সালে ৩৮১ কোটি মার্কিন ডলার। ২০০৫ সালে ৪২৬ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১৫ সালে এক হাজার ১০১ কোটি ডলার পাচার হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বছরে গড়ে হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যায়।

বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলছে, প্রধানত ১০টি দেশ এই অর্থ পাচারের বড় গন্তব্যস্থল। দেশগুলো হলো-সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, হংকং ও থাইল্যান্ড। আর পাচার চলছে মূলত বাণিজ্যে কারসাজি ও হুন্ডির মাধ্যমে।

সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা বলেন, দেশের অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের কথা আর কী বলব, বাংলাদেশের টাকা পাচারকারীদের সরকার বিভিন্নভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। অবিলম্বে এ আইনের ত্রুটি দূর করে আন্তর্জাতিকভাবে পাচার রোধে পদক্ষেপ না নিলে অর্থনৈতিকভাবে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। শুধু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে অনেক সময় লেগে যায়। গত ১৮ বছরে যে পরিমাণ অর্থ পাচারের কথা বলা হচ্ছে, তা সর্বশেষ তিন অর্থবছরের মোট বাজেটের কাছাকাছি।

এ ছাড়া পাচারের এই অর্থ দেশের বর্তমান জিডিপির ৩১ শতাংশ। অনেকে তুলনা করে বলছেন, পাচারের এই টাকা দিয়ে কয়েকটি পদ্মা সেতু বানানো যেত। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের অন্যতম অংশ মেট্রোরেলই বা কতগুলো বানানো সম্ভব ছিল, এ হিসাবও কষছেন কেউ কেউ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন