দুই ছাত্রলীগ নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
jugantor
দুই ছাত্রলীগ নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  রাঙামাটি প্রতিনিধি  

০৭ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে চাকমা সম্প্রদায়ের এক কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় দুই ছাত্রলীগ নেতাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর বাবা শুক্রবার রাতে বাঘাইছড়ি থানায় এ মামলা করেন। আসামিরা হলেন উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি যীশু চৌধুরী (২৭), সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া ওরফে সোহেল (২৬), একই এলাকার মো. আরিফ (২৬), মো. রাশেল (২৯) ও অমল বড়ুয়া (৪৫)। অভিযুক্ত দুই নেতাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ছাত্রলীগ। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওই ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী বড়ুয়াপাড়া এলাকায় ১৫ জুলাই ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে।

বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন খান বলেন, মামলার পরপরই আসামিদের ধরতে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়েছে। এখনো কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, যেকোনো মুহূর্তে আসামিদের গ্রেফতার সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগীকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, ঘটনা জানাজানি হলে তাৎক্ষণিক যীশু চৌধুরী ও বিপ্লব বড়ুয়াকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার দায়ে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ওই দুজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাদের জায়গায় কিশোর ধরকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জনি খানকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সানি দে ও যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম সবুজ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ছাত্রীর বয়স ২১ বছর। পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে ১৫ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বিপ্লব বড়ুয়া জরুরি আলাপ আছে বলে মেয়েটিকে বাড়ির বাইরে ডেকে আনেন। পরে রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন ভোরে ভুক্তভোগী বাড়ি ফিরে ঘটনার বর্ণনা দেন। এ সময় তিনি জানান, বাড়ির বাইরে ডেকে নেওয়ার পর আসামিরা তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক বড়ুয়াপাড়ায় বিপ্লবের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে সারা রাত তারা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চালানোর কারণে মামলা দিতে দেরি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী।

এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে দেখা দিয়েছে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা। ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার করেঙ্গাতলী ও সাজেক এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে পাহাড়ের তিন সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ। এ সময় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার বলেন, ঘটনার খবর শোনার পর থেকে সেদিকে তীব্র নজর রাখছি। আশা করি, শিগগিরই আসামিরা ধরা পড়বে।

দুই ছাত্রলীগ নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

 রাঙামাটি প্রতিনিধি 
০৭ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে চাকমা সম্প্রদায়ের এক কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় দুই ছাত্রলীগ নেতাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর বাবা শুক্রবার রাতে বাঘাইছড়ি থানায় এ মামলা করেন। আসামিরা হলেন উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি যীশু চৌধুরী (২৭), সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া ওরফে সোহেল (২৬), একই এলাকার মো. আরিফ (২৬), মো. রাশেল (২৯) ও অমল বড়ুয়া (৪৫)। অভিযুক্ত দুই নেতাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ছাত্রলীগ। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওই ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী বড়ুয়াপাড়া এলাকায় ১৫ জুলাই ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে।

বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন খান বলেন, মামলার পরপরই আসামিদের ধরতে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়েছে। এখনো কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, যেকোনো মুহূর্তে আসামিদের গ্রেফতার সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগীকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, ঘটনা জানাজানি হলে তাৎক্ষণিক যীশু চৌধুরী ও বিপ্লব বড়ুয়াকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার দায়ে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ওই দুজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাদের জায়গায় কিশোর ধরকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জনি খানকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সানি দে ও যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম সবুজ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ছাত্রীর বয়স ২১ বছর। পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে ১৫ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বিপ্লব বড়ুয়া জরুরি আলাপ আছে বলে মেয়েটিকে বাড়ির বাইরে ডেকে আনেন। পরে রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন ভোরে ভুক্তভোগী বাড়ি ফিরে ঘটনার বর্ণনা দেন। এ সময় তিনি জানান, বাড়ির বাইরে ডেকে নেওয়ার পর আসামিরা তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক বড়ুয়াপাড়ায় বিপ্লবের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে সারা রাত তারা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চালানোর কারণে মামলা দিতে দেরি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী।

এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে দেখা দিয়েছে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা। ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার করেঙ্গাতলী ও সাজেক এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে পাহাড়ের তিন সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ। এ সময় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার বলেন, ঘটনার খবর শোনার পর থেকে সেদিকে তীব্র নজর রাখছি। আশা করি, শিগগিরই আসামিরা ধরা পড়বে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন