সানেমের বাজেট মূল্যায়ন

বিনিয়োগ কর্মসংস্থানসহ চার দুর্বল দিক

এসডিজির মহাসড়কে উঠতে না পারার এবং স্থিতাবস্থা ধরে রাখার বাজেট

  যুগান্তর রিপোর্ট ১০ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকনোমিক মর্ডেলিং (সানেম) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, ব্যক্তি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাতে রক্তক্ষরণ এবং ব্যালেন্স অব পেমেন্টে ভারসাম্যহীন হল বাজেটের সবচেয়ে দুর্বল দিক। এসব দুর্বলতা নিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে যাওয়া যায় না। তাই অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট হল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মহাসড়কে উঠতে না পারার বাজেট। এ বাজেটে শুধু এসডিজির অলিগলিতে ঘুরে বেড়ানো হয়েছে। কখনও অন্ধকার চোরাগলিতেও ঢুকে গেছে। তাই বাজেটে নতুন কিছু নেই। স্থিতাবস্থা ধরে রাখার বাজেট বলা যায়।

শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ‘বাজেটের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতির ত্রৈমাত্রিক পর্যালালোচনা’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান। এ সময় সংস্থাটির রিসার্চ ডিরেক্টর সায়েদা হক বিদিশা, সিনিয়র রিসার্স ফেলো ইফফাত আনজুম, জুবায়ের হক ও নাজমুল হক উপস্থিত ছিলেন।

সেলিম রায়হান মূল প্রবন্ধে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হলে আরও বড় বাজেট প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বাস্তবায়ন নিয়ে। বাজেট বাস্তবায়ন কম হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক অর্থনীতি রয়েছে। কারণ ৮০ শতাংশ বাজেট বাস্তবায়ন করেই এবং ব্যক্তি বিনিয়োগ ছাড়াই যদি জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপর তুলে নিয়ে যাওয়া যায় তাহলে বাজেট বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর তৎপরতা থাকবে কিভাবে? বাজেট বাস্তবায়নে তাদের কোনো চাপ নেই। এটা এক ধরনের মিস ম্যাচ। তিনি বলেন, বৃহৎ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ধীরগতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নির্বাচনী বছরের অনিশ্চয়তা থাকার পরেও বেসরকারি বিনিয়োগের যে প্রত্যাশার কথা বাজেটে বলা হয়েছে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাছাড়া ডুয়িং বিজনেস পরিবেশ উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কতটুকু হয়েছে এবং আগামীতে কিভাবে ডুয়িং বিজনেস পরিবেশ উন্নয়ন হবে। সেসব বিষয়ে সুনিদিষ্ট কোনো ব্যাখা দেয়া হয়নি। ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়ানোরও আর কোনো সুস্পষ্ট উদ্যোগের কথা বলা হয়নি। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো ব্যাখা নেই। বাজেটে কারিগরি প্রশিক্ষণ বৃদ্ধির কথা বলা হলেও সে প্রশিক্ষণ নিয়ে মানুষ বিদেশ যেতে পারবে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ চাহিদা অনুযায়ী দক্ষজনশক্তি গড়ে তোলার কোনো দিকনির্দেশনা নেই। গত কয়েক বছরে পোশাক শিল্পে প্রচুর শ্রমিক কমে গেছে। সেদিকে খেয়াল করা হয়নি। কিভাবে শ্রমঘন শিল্প প্রতিষ্ঠা হবে তারও কোনো কথা নেই।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ এজন্য আগামী অর্থবছর ব্যাংক কমিশন গঠন হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু সানেম মনে করে একটি শক্তিশালী ও নিরপক্ষে ব্যাংক কমিশন গঠন হওয়া উচিত। ব্যাংকিং খাতের বর্তমান যে অবস্থা এটা কোনো ভাবেই কাম্য নয়। এ অবস্থা নিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। রাজস্ব আদায় লক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত কয়েক বছর কর সংগ্রহের হার ১৬ শতাংশের মতো। সেখানে কর সংগ্রহ ব্যবস্থায় বড় রকমের কোনো সংস্কার না করেই কিভাবে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বোধগম্য নয়। ভ্যাট আইন ২০১৯ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও এ বিষয়ে বাজেট বক্তৃতায় কোনো দিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। বাজেটের একটি বড় অংশ খরচ হচ্ছে সুদ পরিশোধে। সরকারকে আগামী দিনে স্বল্প সুদের ঋণ প্রাপ্তির দিকে মনোযোগী হতে হবে। অন্যথায় টেকসই ঋণ নেয়ার ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। ঘাটতি অর্থায়ন পূরণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়ার বিষয়ে আরও বিশদ পর্যালোচনার প্রয়োজন।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রতিবছর এডিপির আকার বাড়ছে। কিন্তু বাস্তবায়ন অবস্থা গতানুগতিক। প্রথম ৮-১০ মাসে মাত্র ৫০-৫২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়। আর বাদবাকি শেষ ২-৩ মাসে বাস্তবায়নের জন্য তাড়াহুড়ো করতে হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের যে চরিত্র তা নিয়েই মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে। ফলে কোনো প্রকল্পই ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়া বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এডিপি বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ‘রিওয়ার্ড অ্যান্ড পানিশমেন্ট’ এর ব্যবস্থা রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী বছর হওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ছাড় ও ব্যয়ে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। কেন না, অহেতুক অর্থ ব্যয় বেড়ে যেত পারে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্থের অপচয় হতে পারে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.