আওয়ামী লীগে প্রার্থীর ভিড় বিএনপিতে একক

মনোনয়ন চান জাতীয় পার্টির দুই নেতা

  জাভেদ মোস্তফা, সাভার ১০ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৯ (সাভার) আসনে আওয়ামী লীগের ৩ প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে নেমেছেন। অপরদিকে বিএনপির আছে একক প্রার্থী। গুরুত্বপূর্ণ সাভার উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বৃহৎ এ আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে প্রকাশ্যে তিন প্রার্থীর মধ্যেই চলছে মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতা। বর্তমান এমপি ডা. এনামুর রহমান, সাবেক এমপি মুরাদ জং ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হাসান তুহিন মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। বর্তমান এমপি ডা. এনামকে সমর্থন দিচ্ছে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সমর্থিত একটি বৃহৎ অংশ। অপরদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার রয়েছেন মুরাদ জংয়ের পক্ষে। কেন্দ্রের সবুজ সংকেত পেয়ে মুরাদ জং এলাকায় গণসংযোগে নেমেছেন বলে দাবি করেছেন। আবার ফারুক হাসান তুহিনের পক্ষেও রয়েছেন দলের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা। তাই সবাইকেই সমীহ করে চলছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। ভিন্ন ভিন্নভাবে তারা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের প্রচার-প্রচারণা। আর বিএনপির প্রায় চূড়ান্ত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিনের পক্ষে নেতাকর্মীরা মাঠে আছেন। নাশকতার মামলার কারণে তিনি অনেকটা আড়ালে রয়েছেন।

শিল্পকারখানা ও শ্রমিক অধ্যুষিত সাভার এলাকায় রয়েছে নানা সমস্যা। বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বিগত সময়ে এলাকার অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। শত শত কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে আমার আমলে।

ডা. এনামের মালিকানাধীন এনাম মেডিকেল কলেজ রানা প্লাজা ধসে আহতদের সেবা ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আলোচনায় আসে। ডা. এনাম নিজেও পরিচিতি পান দেশ-বিদেশে। এ পরিচিতি আর জনপ্রিয়তার সূত্র ধরেই গত নির্বাচনে ডা. এনামুর রহমানকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, রাজনীতিতে নতুন হলেও দলের উচ্চমহলে চমক সৃষ্টি করেছেন সাভারের এ সংসদ সদস্য। স্থানীয় আওয়ামী লীগের কোন্দল মিটিয়ে নেতাদের মধ্যে দূরত্ব কমাতে তিনি সমর্থ হয়েছেন।

অন্যদিকে রানা প্লাজা ধসের সময় সাভারের আরেক পরিচিত মুখ মুরাদ জং ছিলেন এ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি সাভারের সাবেক এমপি আনোয়ার জংয়ের ছেলে। সাভারের জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা শামসুদ্দোহা খান মজলিশের মৃত্যুর পর স্থানীয়ভাবে আওয়ামী রাজনীতির হাল ধরার কেউ ছিল না। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে মুরাদ জং সুদূর আমেরিকা থেকে এসে সাভারের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং বিপুল ভোটে বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় মুরাদ জং ইমেজ সংকটে পড়েন। নির্বাচনী তৎপরতা প্রসঙ্গে মুরাদ জং যুগান্তরকে বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য দল থেকে নির্দেশনা পেয়েছি। সে আলোকেই এলাকায় কাজ করছি।

অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী ফারুক হাসান তুহিন যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ বড় দল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে একাধিক প্রার্থী থাকতে পারে। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো কাজ করব না। আগামী নির্বাচনে দল যাকেই মনোনয়ন দিক আওয়ামী লীগ ও নৌকার পক্ষে কাজ করব।

এ ছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবু আহমেদ নাসিম পাভেলও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন।

মনোনয়ন যুদ্ধের প্রতিযোগিতায় আছে বিএনপির একাধিক প্রার্থী। তবে তা অনেকটা গোপনে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন নিজেদের পক্ষে। কর্মী-সমর্থকদের প্রস্তুত করছেন নির্বাচনের জন্য। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত তিনবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিনের। তার বাবা ইদ্রিস দেওয়ানও ছিলেন এ আসনের সংসদ সদস্য। শীর্ষ পর্যায়ের সবুজ সংকেত তিনি পেয়েছেন বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। এ ছাড়াও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) মিজানুর রহমানও এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন বলে গুঞ্জন আছে। সাভার থানা বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে বলেন, জনসমর্থনের দিক দিয়ে এখানে বিএনপির অবস্থান অনেক মজবুত। এ আসনে অতীতে সব সময় বিএনপিই জয়লাভ করেছে। কিন্তু গত বিতর্কিত নির্বাচনে এখানকার আসন ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও অবাধ হয় তাহলে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ব্যবধান হবে দেড় থেকে দুই লাখ ভোটের। যদিও ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের করা একাধিক নাশকতার মামলায় তিনি আড়ালে রয়েছেন। তবুও নেতাকর্মীরা মনে করেন সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ পেলে ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন নিতে চান ঢাকা জেলার কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজ। এ ছাড়াও জাতীয় পার্টির সাভার উপজেলা সভাপতি আবুল কালাম আজাদও মনোনয়ন চাইবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×