যাত্রা শুরু হবে ডিসেম্বরে
jugantor
মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
যাত্রা শুরু হবে ডিসেম্বরে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১১ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীবাসীর যানজট নিরসনে নির্মাণাধীন দুই মেগা প্রকল্পের প্রথম অংশের দ্বার খুলছে চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বরে। ওই মাসে মেট্রোরেল উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলবে। সেইসঙ্গে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত খুলে দেওয়া হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, প্রকল্প দুটির কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে দ্রতগতিতে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত পুরো মেট্রোরেল প্রকল্পে গড় অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৭০ শতাংশ। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রথম অংশের বাস্তবায়ন ৯৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের গড় বাস্তবায়ন হয়েছে ৫০ শতাংশ এবং তেজগাঁও পর্যন্ত প্রথম অংশের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক এএইচএমএস আকতারের সঙ্গে। বুধবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমরা অত্যন্ত আশাবাদী ডিসেম্বরের মধ্যেই বিমানবন্দর থেকে তেঁজগাও পর্যন্ত অংশ খুলে দিতে পারব। সে লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। এটা যেহেতু পিপিপি (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ) প্রকল্প, তাই আমরা পিপিপি পার্টনার অংশে বারবার তাগাদা দিয়ে যাচ্ছি। বলেছি, এমনিতেই অনেক দেরি হয়েছে গেছে। তাই আর যাতে দেরি না হয়। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। মেট্রোরেল লাইন-৬ প্রসঙ্গে কথা হয় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিকীর সঙ্গে। সম্প্রতি তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমরা পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আগের ঘোষণা অনুযায়ী এ বছরের ডিসেম্বরেই প্রথম অংশ খুলে দেওয়া হবে। এজন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য অংশের কাজও সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে।

সূত্র জানায়, দেশের প্রথম মেট্রোরেল হিসাবে এমআরটি লাইন-৬ বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয় ২০১২ সালের জুলাইয়ে। কিন্তু নতুন অংশ (মতিঝিল-কমলাপুর) যোগ হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। আগের ব্যয় ছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে এটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পটির প্রথম অংশ উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। দ্বিতীয় অংশ আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এবং তৃতীয় অংশ মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ৯টি প্যাকেজে চলছে বাস্তবায়ন কাজ। ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্যাকেজ ভিত্তিক অগ্রগতি হচ্ছে-প্যাকেজ-১-এর (ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন) শতভাগ কাজ শেষ। এছাড়া প্যাকেজ-২-এর (ডিপো এলাকার পূর্ত কাজ) কাজও শতভাগ শেষ। প্যাকেজ-৩ ও ৪-এর (উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৯টি স্টেশন নির্মাণ) সমন্বিত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। প্যাকেজ-৫-এর (আগারগাঁও থেকে কাওরান বাজার পর্যন্ত ৩ দশমিক ১৯ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ) সার্বিক অগ্রগতি ৮৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। প্যাকেজ-৬ (কাওরান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৪ দশমিক ৯২ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৪টি স্টেশনের নির্মাণ কাজ) এটির বাস্তব সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৮৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। প্যাকেজ-৭-এর (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল সিস্টেম) প্যাকেজের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৮৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। প্যাকেজ-৮-এর (রেল কোচ ও ডিপো ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ) সার্বিক অগ্রগতি ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ। এর আওতায় ১৬ ও ১৭তম ট্রেন সেট জাপানের কোবে সমুদ্রবন্দর থেকে ২২ জুলাই যাত্রা শুরু করেছে। চলতি মাসের শেষদিকে বাংলাদেশে পৌঁছাবে। প্যাকেজ-৯-এর (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) আওতায় এই সিস্টেম সংগ্রহণের জন্য দরপত্র দলিল মতামতের জন্য ২৭ জুলাই জাইকার কাছে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়াল সড়ক) প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে। এর আওতায় যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল লেনের দৈর্ঘ্য হবে ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। এছাড়া শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন কাওলা থেকে তেজগাঁও রেলগেট পর্যন্ত দৈর্ঘ্য সাড়ে ১১ কিলোমিটার। এ অংশটি চলতি বছরের ডিসেম্বরে খুলে দেওয়ার আশা করছে সেতু কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হলে বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটেই পাড়ি দেওয়া যাবে যাত্রাবাড়ী।

প্রথমে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল বিমানবন্দর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত শতভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কথা মাথায় রেখে চলতি বছরেই সাড়ে ১১ কিলোমিটার খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকি ৮ দশমিক ২৩ কিলোমিটার খুলে দেওয়া হবে পরের বছর।

প্রকল্প পরিচালক এএইচএমএস আকতার বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কথা মাথায় রেখেই বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁও অংশ খুলে দেওয়া হবে। তেজগাঁও অংশ পর্যন্ত খুলে দিলে নগরীর জটলা অনেকটা কমে যাবে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রকল্পটি ২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়নের কথা ছিল। মূল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল তিন হাজার ২১৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। পরে প্রকল্প ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে মেয়াদ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। প্রকল্পটির বিদ্যমান অঙ্গের পরিমাণ ও ব্যয় বাড়ার কারণে প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা। একই সঙ্গে সময় বাড়ানো হয় ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু এতেও কাজ শেষ হয়নি। এরপর দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ করা হয়। এছাড়া ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-কমলাপুর-সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী-ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (কুতুবখালী) পর্যন্ত উড়াল সড়ক নির্মাণ করা হবে।

মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

যাত্রা শুরু হবে ডিসেম্বরে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১১ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীবাসীর যানজট নিরসনে নির্মাণাধীন দুই মেগা প্রকল্পের প্রথম অংশের দ্বার খুলছে চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বরে। ওই মাসে মেট্রোরেল উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলবে। সেইসঙ্গে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত খুলে দেওয়া হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, প্রকল্প দুটির কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে দ্রতগতিতে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত পুরো মেট্রোরেল প্রকল্পে গড় অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৭০ শতাংশ। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রথম অংশের বাস্তবায়ন ৯৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের গড় বাস্তবায়ন হয়েছে ৫০ শতাংশ এবং তেজগাঁও পর্যন্ত প্রথম অংশের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক এএইচএমএস আকতারের সঙ্গে। বুধবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমরা অত্যন্ত আশাবাদী ডিসেম্বরের মধ্যেই বিমানবন্দর থেকে তেঁজগাও পর্যন্ত অংশ খুলে দিতে পারব। সে লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। এটা যেহেতু পিপিপি (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ) প্রকল্প, তাই আমরা পিপিপি পার্টনার অংশে বারবার তাগাদা দিয়ে যাচ্ছি। বলেছি, এমনিতেই অনেক দেরি হয়েছে গেছে। তাই আর যাতে দেরি না হয়। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। মেট্রোরেল লাইন-৬ প্রসঙ্গে কথা হয় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিকীর সঙ্গে। সম্প্রতি তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমরা পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আগের ঘোষণা অনুযায়ী এ বছরের ডিসেম্বরেই প্রথম অংশ খুলে দেওয়া হবে। এজন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য অংশের কাজও সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে।

সূত্র জানায়, দেশের প্রথম মেট্রোরেল হিসাবে এমআরটি লাইন-৬ বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয় ২০১২ সালের জুলাইয়ে। কিন্তু নতুন অংশ (মতিঝিল-কমলাপুর) যোগ হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। আগের ব্যয় ছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে এটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পটির প্রথম অংশ উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। দ্বিতীয় অংশ আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এবং তৃতীয় অংশ মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ৯টি প্যাকেজে চলছে বাস্তবায়ন কাজ। ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্যাকেজ ভিত্তিক অগ্রগতি হচ্ছে-প্যাকেজ-১-এর (ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন) শতভাগ কাজ শেষ। এছাড়া প্যাকেজ-২-এর (ডিপো এলাকার পূর্ত কাজ) কাজও শতভাগ শেষ। প্যাকেজ-৩ ও ৪-এর (উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৯টি স্টেশন নির্মাণ) সমন্বিত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। প্যাকেজ-৫-এর (আগারগাঁও থেকে কাওরান বাজার পর্যন্ত ৩ দশমিক ১৯ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ) সার্বিক অগ্রগতি ৮৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। প্যাকেজ-৬ (কাওরান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৪ দশমিক ৯২ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৪টি স্টেশনের নির্মাণ কাজ) এটির বাস্তব সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৮৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। প্যাকেজ-৭-এর (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল সিস্টেম) প্যাকেজের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৮৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। প্যাকেজ-৮-এর (রেল কোচ ও ডিপো ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ) সার্বিক অগ্রগতি ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ। এর আওতায় ১৬ ও ১৭তম ট্রেন সেট জাপানের কোবে সমুদ্রবন্দর থেকে ২২ জুলাই যাত্রা শুরু করেছে। চলতি মাসের শেষদিকে বাংলাদেশে পৌঁছাবে। প্যাকেজ-৯-এর (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) আওতায় এই সিস্টেম সংগ্রহণের জন্য দরপত্র দলিল মতামতের জন্য ২৭ জুলাই জাইকার কাছে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়াল সড়ক) প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে। এর আওতায় যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল লেনের দৈর্ঘ্য হবে ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। এছাড়া শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন কাওলা থেকে তেজগাঁও রেলগেট পর্যন্ত দৈর্ঘ্য সাড়ে ১১ কিলোমিটার। এ অংশটি চলতি বছরের ডিসেম্বরে খুলে দেওয়ার আশা করছে সেতু কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হলে বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটেই পাড়ি দেওয়া যাবে যাত্রাবাড়ী।

প্রথমে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল বিমানবন্দর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত শতভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কথা মাথায় রেখে চলতি বছরেই সাড়ে ১১ কিলোমিটার খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকি ৮ দশমিক ২৩ কিলোমিটার খুলে দেওয়া হবে পরের বছর।

প্রকল্প পরিচালক এএইচএমএস আকতার বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কথা মাথায় রেখেই বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁও অংশ খুলে দেওয়া হবে। তেজগাঁও অংশ পর্যন্ত খুলে দিলে নগরীর জটলা অনেকটা কমে যাবে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রকল্পটি ২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়নের কথা ছিল। মূল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল তিন হাজার ২১৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। পরে প্রকল্প ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে মেয়াদ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। প্রকল্পটির বিদ্যমান অঙ্গের পরিমাণ ও ব্যয় বাড়ার কারণে প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা। একই সঙ্গে সময় বাড়ানো হয় ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু এতেও কাজ শেষ হয়নি। এরপর দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ করা হয়। এছাড়া ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-কমলাপুর-সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী-ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (কুতুবখালী) পর্যন্ত উড়াল সড়ক নির্মাণ করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন