স্কুলের গেট ভেঙে মায়ের সামনেই প্রাণ গেল শিশুর
jugantor
স্কুলের গেট ভেঙে মায়ের সামনেই প্রাণ গেল শিশুর

  খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি  

১১ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খাগড়াছড়িতে স্কুলের গেট ভেঙে মায়ের সামনেই প্রাণ গেল ছয় বছরের শিশু শিক্ষার্থী শ্রাবণ দেওয়ানের। বুধবার সকালে সদর উপজেলার খবং পুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শ্রাবণ খাগড়াছড়ি পৌরসভার নারায়ণ খাইয়া এলাকার প্রণয় দেওয়ানের ছেলে। এ ঘটনায় জেলা পরিষদ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থী শ্রাবণ সকাল ৯টার দিকে মায়ের সঙ্গে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। শ্রাবণ ছিল সামনে। বিদ্যালয়ে ঢোকার সময় হঠাৎ গেট ভেঙে তার ওপর পড়ে। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে শিশুটির মা ও স্বজনের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়।

এদিকে ঘটনার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝিনু চাকমা। সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।

বিদ্যালয়ের পাশের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক গোবিন্দ চন্দ্র রায় বলেন, স্কুলের গেটটি দীর্ঘদিন ধরে নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। গাছের খুঁটি দিয়ে কোনোরকমে আটকে রাখা হয়েছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, আমরা বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। নিহত শিশুর লাশ সুরতহাল করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। যদি শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন এ ঘটনায় নির্মাণকাজের ত্রুটিকে দায়ী করেছেন। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, লোহার গেটটির যে পরিমাণ ওজন, সেটিকে ধরে রাখার মতো মজবুত অ্যাঙ্গেল এতে ব্যবহার করা হয়নি। পাতলা লোহার রড দেওয়া হয়েছে। যে কারণে কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ের নির্মাণসামগ্রী পরিবহণের সময় ট্রাকের ধাক্কা লেগে গেটটি নড়বড়ে হয়ে যায়। এরপর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আমরা জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রাবণের মৃত্যুর ঘটনায় খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের আহ্বায়ক নিলোৎপল খীসাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমটির অন্যরা হলেন-জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন ও পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

খাগড়াছড়ির স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রায় এক বছর আগে গেটটি নির্মাণ করেছে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, আমরা গেটটি নির্মাণ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এরপর গেটের ত্রুটি নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি তারা। সম্প্রতি ট্রাকের ধাক্কায় গেটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে শুনেছি।

স্কুলের গেট ভেঙে মায়ের সামনেই প্রাণ গেল শিশুর

 খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি 
১১ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খাগড়াছড়িতে স্কুলের গেট ভেঙে মায়ের সামনেই প্রাণ গেল ছয় বছরের শিশু শিক্ষার্থী শ্রাবণ দেওয়ানের। বুধবার সকালে সদর উপজেলার খবং পুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শ্রাবণ খাগড়াছড়ি পৌরসভার নারায়ণ খাইয়া এলাকার প্রণয় দেওয়ানের ছেলে। এ ঘটনায় জেলা পরিষদ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থী শ্রাবণ সকাল ৯টার দিকে মায়ের সঙ্গে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। শ্রাবণ ছিল সামনে। বিদ্যালয়ে ঢোকার সময় হঠাৎ গেট ভেঙে তার ওপর পড়ে। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে শিশুটির মা ও স্বজনের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়।

এদিকে ঘটনার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝিনু চাকমা। সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।

বিদ্যালয়ের পাশের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক গোবিন্দ চন্দ্র রায় বলেন, স্কুলের গেটটি দীর্ঘদিন ধরে নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। গাছের খুঁটি দিয়ে কোনোরকমে আটকে রাখা হয়েছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, আমরা বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। নিহত শিশুর লাশ সুরতহাল করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। যদি শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন এ ঘটনায় নির্মাণকাজের ত্রুটিকে দায়ী করেছেন। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, লোহার গেটটির যে পরিমাণ ওজন, সেটিকে ধরে রাখার মতো মজবুত অ্যাঙ্গেল এতে ব্যবহার করা হয়নি। পাতলা লোহার রড দেওয়া হয়েছে। যে কারণে কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ের নির্মাণসামগ্রী পরিবহণের সময় ট্রাকের ধাক্কা লেগে গেটটি নড়বড়ে হয়ে যায়। এরপর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আমরা জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রাবণের মৃত্যুর ঘটনায় খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের আহ্বায়ক নিলোৎপল খীসাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমটির অন্যরা হলেন-জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন ও পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

খাগড়াছড়ির স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রায় এক বছর আগে গেটটি নির্মাণ করেছে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, আমরা গেটটি নির্মাণ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এরপর গেটের ত্রুটি নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি তারা। সম্প্রতি ট্রাকের ধাক্কায় গেটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে শুনেছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন