গুলিতে ২ রোহিঙ্গা মাঝি নিহত
jugantor
উখিয়া ক্যাম্পে আতংক
গুলিতে ২ রোহিঙ্গা মাঝি নিহত

  কক্সবাজার প্রতিনিধি  

১১ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারের উখিয়া ক্যাম্পে দুই রোহিঙ্গা মাঝিকে (নেতা) গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে ক্যাম্প ১৫-এর সি-৯ ব্লকের দুর্গম পাহাড়ের ঢালে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-ক্যাম্প-১৫ ব্লক সি/১-এর আব্দুর রহিমের ছেলে হেড মাঝি আবু তালেব (৪০) ও একই ক্যাম্পের সি/৯-এর ইমাম হোসেনের ছেলে সাব-ব্লক মাঝি সৈয়দ হোসেন (৩৫)। এ নিয়ে চলতি বছর ক্যাম্পে অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোহাম্মদ কামরান হোসেন জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে ৮-১০ জন দুষ্কৃতকারী সৈয়দ হোসেন ও আবু তালেবকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তাদেরকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে জামতলী এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈয়দ হোসেন মারা যান। অবস্থা গুরুতর দেখে আবু তালেবকে কুতুপালং হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নেওয়ার পর আবু তালেব মারা যান। পরে পুলিশ দুজনের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি ইয়াবার চালান নিয়েছিল আবু তালেব ও সৈয়দ হোসেন। এসব ইয়াবার টাকা পরিশোধ করতে গড়িমসি করায় নবী হোসেনের গ্রুপের লোকজন তাদের গুলি করে।

অপর একটি সূত্র জানায়, নবী হোসেনের কথামতো চলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল আবু তালেব ও সৈয়দ হোসেন। এজন্য নবী হোসেন তাদের হত্যার নির্দেশ দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যাম্পের কয়েকজন জানান, রোহিঙ্গাদের জনপ্রিয় নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যার পর প্রতিরোধের মুখে আরকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি আরসা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। আর এ সুযোগে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ভয়ংকর সস্ত্রাসী নবী হোসেন। এখন অর্ধেকটা ক্যাম্প তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভয়ে অনেকেই নবী হোসেনের গ্রুপে যোগ দিচ্ছে। এই বাহিনী নিয়ন্ত্রণ আনা না গেলে ক্যাম্পে আরও খুনাখুনি হবে।

এদিকে দুই রোহিঙ্গা মাঝিকে হত্যার পর সাধারণ রোহিঙ্গাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে হামলা-পাল্টাহামলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরান হোসেন জানান, ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতারে ক্যাম্পে অভিযান চলছে।

উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

উখিয়া ক্যাম্পে আতংক

গুলিতে ২ রোহিঙ্গা মাঝি নিহত

 কক্সবাজার প্রতিনিধি 
১১ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারের উখিয়া ক্যাম্পে দুই রোহিঙ্গা মাঝিকে (নেতা) গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে ক্যাম্প ১৫-এর সি-৯ ব্লকের দুর্গম পাহাড়ের ঢালে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-ক্যাম্প-১৫ ব্লক সি/১-এর আব্দুর রহিমের ছেলে হেড মাঝি আবু তালেব (৪০) ও একই ক্যাম্পের সি/৯-এর ইমাম হোসেনের ছেলে সাব-ব্লক মাঝি সৈয়দ হোসেন (৩৫)। এ নিয়ে চলতি বছর ক্যাম্পে অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোহাম্মদ কামরান হোসেন জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে ৮-১০ জন দুষ্কৃতকারী সৈয়দ হোসেন ও আবু তালেবকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তাদেরকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে জামতলী এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈয়দ হোসেন মারা যান। অবস্থা গুরুতর দেখে আবু তালেবকে কুতুপালং হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নেওয়ার পর আবু তালেব মারা যান। পরে পুলিশ দুজনের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি ইয়াবার চালান নিয়েছিল আবু তালেব ও সৈয়দ হোসেন। এসব ইয়াবার টাকা পরিশোধ করতে গড়িমসি করায় নবী হোসেনের গ্রুপের লোকজন তাদের গুলি করে।

অপর একটি সূত্র জানায়, নবী হোসেনের কথামতো চলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল আবু তালেব ও সৈয়দ হোসেন। এজন্য নবী হোসেন তাদের হত্যার নির্দেশ দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যাম্পের কয়েকজন জানান, রোহিঙ্গাদের জনপ্রিয় নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যার পর প্রতিরোধের মুখে আরকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি আরসা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। আর এ সুযোগে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ভয়ংকর সস্ত্রাসী নবী হোসেন। এখন অর্ধেকটা ক্যাম্প তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভয়ে অনেকেই নবী হোসেনের গ্রুপে যোগ দিচ্ছে। এই বাহিনী নিয়ন্ত্রণ আনা না গেলে ক্যাম্পে আরও খুনাখুনি হবে।

এদিকে দুই রোহিঙ্গা মাঝিকে হত্যার পর সাধারণ রোহিঙ্গাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে হামলা-পাল্টাহামলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরান হোসেন জানান, ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতারে ক্যাম্পে অভিযান চলছে।

উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন