সিলেটে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ কর্মবিরতি
jugantor
মজুরি বৃদ্ধির দাবি
সিলেটে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ কর্মবিরতি

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৪ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন সিলেট অঞ্চলের চা শ্রমিকরা। শনিবার সকাল থেকে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বিভিন্ন বাগানের শ্রমিকরা এ কর্মবিরতি শুরু করেন। শ্রমিকদের আন্দোলনের ফলে চা বাগানগুলোয় স্থবিরতা নেমে আসে। অবরোধের কারণে বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহণ শ্রমিকরা।

শ্রমিকরা জানান, বর্তমান মজুরি ১২০ টাকা থেকে ন্যূনতম ৩০০ টাকা করার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা। এর আগে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সাত দিনের আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পর তিন দিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি করে সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন শ্রমিকরা। এরপরও দাবি পূরণ না হওয়ায় লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা।

এদিকে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে চা-শ্রমিকদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন। এতে বলা হয়, চা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে হবে। মুদ্রাস্ফীতি আর দ্রব্যমূল্যের ভয়াবহ ঊর্র্ধ্বগতির এই সময়ে কারও দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা অত্যন্ত অমানবিক। কেননা যেখানে এক কেজি মোটা চালের দাম বাজারে ৬০-৭০ টাকা। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সিলেট : জেলার লাক্কাতুরা, মালনিছড়া, খাদিম, কেওয়াছড়া, দলদলি, জাফলং, লালাখালসহ সব বাগানের শ্রমিকরা সকাল থেকে লাক্কাতুরা এলাকায় অবস্থান নেন। তারা দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকরা বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা ছিল তাদের অবরোধ। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে বিদেশগামী যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। পরে চা শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে মিছিল নিয়ে সিলেট নগরীতে আসেন। নগরীর চৌহাট্টায় এসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

আন্দোলন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের দাবিদাওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার চা বাগানগুলোর মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের নিয়ে সমঝোতা বৈঠক করে বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর। মালিকপক্ষের কেউ বৈঠকে আসেননি। এতে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। তাই সকাল থেকে আমরা আন্দোলনে নেমেছি।

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) : ভাড়াউড়া, খাইছড়া, ফুলছড়া, কালীঘাট, খেজুরী, ইস্পাহানী জেরিন, মির্জাপুরসহ উপজেলার কোনো চা বাগানে কাজে যাননি শ্রমিকরা। সকাল ৯টায় চা বাগানের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা। চা শ্রমিক ইউনিয়নের বালিশিরা ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, আমরা ১৯ মাস ধরে আবেদন-নিবেদন করেছি। কিন্তু মালিকপক্ষ টালবাহানা ও সময়ক্ষেপণ করে যাচ্ছে।

বাহুবল (হবিগঞ্জ) : উপজেলা পরিষদের সামনে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন পালন করা হয়। এ সময় বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির চৌধুরী, উপজেলা আ.লীগ সভাপতি আব্দুল হাই, উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান, আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক সোহেল আহমেদ কুটি প্রমুখ।

জুড়ী (মৌলভীবাজার) : সকাল থেকে চা শ্রমিক ইউনিয়ন জুড়ী ভ্যালীর ৩৬টি চা বাগানের হাজার হাজার শ্রমিক মিছিল সহকারে বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ মুমিত আসুক চত্বরে সমবেত হতে থাকেন। বেলা ২টার দিকে শুরু হয় মানববন্ধন ও আলোচনাসভা। জুড়ী ভ্যালীর সভাপতি কমল বোনার্জির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার পালের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ মোঈদ ফারুক, ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাস, আওয়ামী লীগ নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম, যুবলীগ সম্পাদক শেখরুল ইসলাম।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : আলীনগর চা-বাগানের শ্রমিকরা কমলগঞ্জ-শমশেরনগর সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেন। খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, থানার ওসি মো. ইয়ারদৌস হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের শান্ত করেন। তাৎক্ষণিক আলাপচারিতায় শ্রমিকরা অবরুদ্ধ সড়ক খুলে দেন। অপরদিকে উপজেলার মদনমোহনপুর, পাত্রখোলা ও দলই চা বাগানের শ্রমিকরা কমলগঞ্জ-মাধবপুর বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান সড়ক অবরোধ করে আধা ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। চা শ্রমিক ইউনিয়ন মনু-দলই ভ্যালী কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাস পাইনকা বলেন, দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) : নোয়াপাড়া, বৈকণ্ঠপুর, জগদীশপুর, সুরমা ও তেলিপাড়া চা বাগানের শ্রমিকরা মানববন্ধনে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি খোকন তাঁতি ও সেক্রেটারি লালন পান বক্তব্য রাখেন।

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) : চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, ৩০০ টাকা মজুরি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

হবিগঞ্জ (চুনারুঘাট) : সকাল থেকে ২৪টি বাগানের কয়েক হাজার শ্রমিক প্রথমে চান্দপুর বাগানে পুরাতন মহাসড়ক ও পরে পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে চুনারুঘাট মধ্যবাজারে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

কিন্তু শ্রমিকরা তাদের দাবিতে অনড় থেকে একপর্যায়ে দুপুরে শ্রমিকরা চুনারুঘাট বাজারের দিকে রওয়ানা দেন। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা মারমুখী হয়ে ওঠেন। উপজেলা গেটে এসে শ্রমিক অবস্থান নিতে চাইলে সেখানেও পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকরা মধ্যবাজারে এসে অবরোধ পালন করেন। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির লস্কর, আ.লীগ সভাপতি আকবর হোসেন জিতু, চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, চা শ্রমিক নেতা কাঞ্চন পাত্র, লক্ষ্মীচরণ বাকতি, স্বপন সাঁওতাল, রণজিত সরদার, গর্জন নায়েক, সূর্যচরণ বাকতি, খায়রুন্নাহার প্রমুখ বক্তব্য দেন এবং তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

মজুরি বৃদ্ধির দাবি

সিলেটে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ কর্মবিরতি

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৪ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন সিলেট অঞ্চলের চা শ্রমিকরা। শনিবার সকাল থেকে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বিভিন্ন বাগানের শ্রমিকরা এ কর্মবিরতি শুরু করেন। শ্রমিকদের আন্দোলনের ফলে চা বাগানগুলোয় স্থবিরতা নেমে আসে। অবরোধের কারণে বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহণ শ্রমিকরা। 

শ্রমিকরা জানান, বর্তমান মজুরি ১২০ টাকা থেকে ন্যূনতম ৩০০ টাকা করার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা। এর আগে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সাত দিনের আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পর তিন দিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি করে সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন শ্রমিকরা। এরপরও দাবি পূরণ না হওয়ায় লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা।

এদিকে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে চা-শ্রমিকদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন। এতে বলা হয়, চা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে হবে। মুদ্রাস্ফীতি আর দ্রব্যমূল্যের ভয়াবহ ঊর্র্ধ্বগতির এই সময়ে কারও দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা অত্যন্ত অমানবিক। কেননা যেখানে এক কেজি মোটা চালের দাম বাজারে ৬০-৭০ টাকা। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- 

সিলেট : জেলার লাক্কাতুরা, মালনিছড়া, খাদিম, কেওয়াছড়া, দলদলি, জাফলং, লালাখালসহ সব বাগানের শ্রমিকরা সকাল থেকে লাক্কাতুরা এলাকায় অবস্থান নেন। তারা দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকরা বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা ছিল তাদের অবরোধ। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে বিদেশগামী যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। পরে চা শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে মিছিল নিয়ে সিলেট নগরীতে আসেন। নগরীর চৌহাট্টায় এসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

আন্দোলন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের দাবিদাওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার চা বাগানগুলোর মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের নিয়ে সমঝোতা বৈঠক করে বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর। মালিকপক্ষের কেউ বৈঠকে আসেননি। এতে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। তাই সকাল থেকে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। 

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) : ভাড়াউড়া, খাইছড়া, ফুলছড়া, কালীঘাট, খেজুরী, ইস্পাহানী জেরিন, মির্জাপুরসহ উপজেলার কোনো চা বাগানে কাজে যাননি শ্রমিকরা। সকাল ৯টায় চা বাগানের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা। চা শ্রমিক ইউনিয়নের বালিশিরা ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, আমরা ১৯ মাস ধরে আবেদন-নিবেদন করেছি। কিন্তু মালিকপক্ষ টালবাহানা ও সময়ক্ষেপণ করে যাচ্ছে। 

বাহুবল (হবিগঞ্জ) : উপজেলা পরিষদের সামনে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন পালন করা হয়। এ সময় বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির চৌধুরী, উপজেলা আ.লীগ সভাপতি আব্দুল হাই, উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান, আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক সোহেল আহমেদ কুটি প্রমুখ। 

জুড়ী (মৌলভীবাজার) : সকাল থেকে চা শ্রমিক ইউনিয়ন জুড়ী ভ্যালীর ৩৬টি চা বাগানের হাজার হাজার শ্রমিক মিছিল সহকারে বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ মুমিত আসুক চত্বরে সমবেত হতে থাকেন। বেলা ২টার দিকে শুরু হয় মানববন্ধন ও আলোচনাসভা। জুড়ী ভ্যালীর সভাপতি কমল বোনার্জির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার পালের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ মোঈদ ফারুক, ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাস, আওয়ামী লীগ নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম, যুবলীগ সম্পাদক শেখরুল ইসলাম। 

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : আলীনগর চা-বাগানের শ্রমিকরা কমলগঞ্জ-শমশেরনগর সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেন। খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, থানার ওসি মো. ইয়ারদৌস হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের শান্ত করেন। তাৎক্ষণিক আলাপচারিতায় শ্রমিকরা অবরুদ্ধ সড়ক খুলে দেন। অপরদিকে উপজেলার মদনমোহনপুর, পাত্রখোলা ও দলই চা বাগানের শ্রমিকরা কমলগঞ্জ-মাধবপুর বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান সড়ক অবরোধ করে আধা ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। চা শ্রমিক ইউনিয়ন মনু-দলই ভ্যালী কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাস পাইনকা বলেন, দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। 

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) : নোয়াপাড়া, বৈকণ্ঠপুর, জগদীশপুর, সুরমা ও তেলিপাড়া চা বাগানের শ্রমিকরা মানববন্ধনে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি খোকন তাঁতি ও সেক্রেটারি লালন পান বক্তব্য রাখেন। 

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) : চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, ৩০০ টাকা মজুরি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। 

হবিগঞ্জ (চুনারুঘাট) : সকাল থেকে ২৪টি বাগানের কয়েক হাজার শ্রমিক প্রথমে চান্দপুর বাগানে পুরাতন মহাসড়ক ও পরে পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে চুনারুঘাট মধ্যবাজারে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

কিন্তু শ্রমিকরা তাদের দাবিতে অনড় থেকে একপর্যায়ে দুপুরে শ্রমিকরা চুনারুঘাট বাজারের দিকে রওয়ানা দেন। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা মারমুখী হয়ে ওঠেন। উপজেলা গেটে এসে শ্রমিক অবস্থান নিতে চাইলে সেখানেও পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকরা মধ্যবাজারে এসে অবরোধ পালন করেন। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির লস্কর, আ.লীগ সভাপতি আকবর হোসেন জিতু, চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, চা শ্রমিক নেতা কাঞ্চন পাত্র, লক্ষ্মীচরণ বাকতি, স্বপন সাঁওতাল, রণজিত সরদার, গর্জন নায়েক, সূর্যচরণ বাকতি, খায়রুন্নাহার প্রমুখ বক্তব্য দেন এবং তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন