অন্ধকারে জ্ঞানের বাতিঘর
jugantor
রাজশাহী অঞ্চলের পাঠাগার
অন্ধকারে জ্ঞানের বাতিঘর

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৪ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তালাবদ্ধ জরাজীর্ণ ঘর। ভাঙাচোরা আলমিরাতে সারি সারি বই। অধিকাংশই পুরোনো, মলাট ছেঁড়া। আলমিরা ও বইয়ে ধুলোর স্তূপ। মাকড়সার জাল চেয়ে আছে এদিক-ওদিক। এটা জ্ঞানের বাতিঘর-লাইব্রেরির চিত্র। রাজশাহী অঞ্চলের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরির এমনই করুণ দশা। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি থাকার কথা থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানেই তা নেই। থাকলেও সেটি বইয়ের গুদাম ঘরে পরিণত হয়েছে। এসব লাইব্রেরিতে বসার আগ্রহও নেই শিক্ষার্থীদের। অনেক শিক্ষার্থী জানেনই না তাদের প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি আছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে লাইব্রেরিয়ান পদে লোক থাকলেও লাইব্রেরি আছে নামমাত্র। যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কোনো কাজেই আসে না। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সরেজমিন নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার ছোট কাবলা টেকনিক্যাল বিএম কলেজে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত কক্ষের মেঝেতে কিছু বই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। রুমটি কয়েক বছর ধরে তালাবদ্ধ। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার আছে কিনা তা তারা জানে না। শিক্ষক দেলওয়ার হোসেন বলেন, ক্লাসরুমের স্বল্পতার কারণে স্টোররুমে বইগুলো রাখা হয়েছে।

নওগাঁ জিলা স্কুলের লাইব্রেরির আলমারিতে ধুলা জমে আছে। লাইব্রেরিটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন বলেন, পড়ার সুযোগ পাব কীভাবে? লাইব্রেরি তো খোলাই হয় না। স্কুলের হেড ক্লার্ক জিয়া বলেন, সরকারি স্কুলে লইব্রেরিয়ানের পদ নেই। একজন শিক্ষককে লাইব্রেরি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া আছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বই দরকার হলে লাইব্রেরি খোলা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী মহানগরীর একাধিক মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজের গ্রন্থাগারিক জানান, প্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগারের জন্য আলাদা একটি ফান্ড আছে। যার নামমাত্র একটি অংশ গ্রন্থাগারের কাজে লাগানো হয়। বাকি অর্থ খরচ করা হয় অন্য খাতে। যার কারণে গ্রন্থাগারের জরাজীর্ণ অবস্থার অবসান হচ্ছে না। তাছাড়া একাডেমিক সিলেবাসের চাপে যেখানে শিক্ষার্থীরা এমনিতেই পর্যুদস্ত অবস্থা; সেখানে জরাজীর্ণ পরিবেশে সাহিত্য কিংবা ভিন্ন বিষয়ের বই পড়তে শিক্ষার্থীদের তেমন আগ্রহই নেই।

এ জেলার বাঘায় মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ রয়েছে ৬৪টি। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরিয়ান থাকলেও নামমাত্র আছে লাইব্রেরি। আড়ানী ইউনিয়নের খোর্দ্দবাউসা উচ্চ বিদ্যালয়ে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল লতিফ বলেন, লাইব্রেরিয়ান আছে, কিন্তু লাইব্রেরি নেই। কিছু বই আছে, স্টাফ রুমের আলমারিতে রাখা হয়েছে।

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি বেহাল। জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসাবে পরিচিত সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে লাইব্রেরির কোনো নির্দিষ্ট রুম নেই। ওই প্রতিষ্ঠানের ভোকেশনাল শাখার একটি রুমে দরজার ওপর ইংরেজিতে লাইব্রেরি লেখা থাকলেও সেটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ। পাশেই বিএনসিসির শিক্ষার্থীদের একটি শ্রেণিকক্ষের ভেতরে লাইব্রেরির বইগুলো কয়েকটি আলমিরাতে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ধুলোর আস্তরণ দেখে বোঝা যায়, দীর্ঘদিনেও এগুলো খোলা হয়নি।

একই জেলার বাগাতিপাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পাঠাগার কক্ষটিতে ডিজিটাল ল্যাব বানানো হয়েছে। সেখানকার কর্মচারীরা জানালেন, বইগুলো গোডাউনে রাখা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, যমুনার ভাঙনকবলিত চৌহালী উপজেলা সদরে একটি সরকারি কলেজ ও খামারগ্রাম ডিগ্রি কলেজসহ আরও তিনটি কলেজ রয়েছে। এছাড়া তিনটি কারিগরি কলেজ, ২৩টি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং প্রায় ২০টি মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাদে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি কার্যক্রম নেই বললেই চলে।

পাবনার সুজানগরে একটি সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৩৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং একটি সরকারি কলেজসহ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৯টি। এর মধ্যে নব্বই ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই লাইব্রেরি। যে কয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি আছে সেগুলোও দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ।

রাজশাহী অঞ্চলের পাঠাগার

অন্ধকারে জ্ঞানের বাতিঘর

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৪ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তালাবদ্ধ জরাজীর্ণ ঘর। ভাঙাচোরা আলমিরাতে সারি সারি বই। অধিকাংশই পুরোনো, মলাট ছেঁড়া। আলমিরা ও বইয়ে ধুলোর স্তূপ। মাকড়সার জাল চেয়ে আছে এদিক-ওদিক। এটা জ্ঞানের বাতিঘর-লাইব্রেরির চিত্র। রাজশাহী অঞ্চলের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরির এমনই করুণ দশা। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি থাকার কথা থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানেই তা নেই। থাকলেও সেটি বইয়ের গুদাম ঘরে পরিণত হয়েছে। এসব লাইব্রেরিতে বসার আগ্রহও নেই শিক্ষার্থীদের। অনেক শিক্ষার্থী জানেনই না তাদের প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি আছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে লাইব্রেরিয়ান পদে লোক থাকলেও লাইব্রেরি আছে নামমাত্র। যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কোনো কাজেই আসে না। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সরেজমিন নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার ছোট কাবলা টেকনিক্যাল বিএম কলেজে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত কক্ষের মেঝেতে কিছু বই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। রুমটি কয়েক বছর ধরে তালাবদ্ধ। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার আছে কিনা তা তারা জানে না। শিক্ষক দেলওয়ার হোসেন বলেন, ক্লাসরুমের স্বল্পতার কারণে স্টোররুমে বইগুলো রাখা হয়েছে।

নওগাঁ জিলা স্কুলের লাইব্রেরির আলমারিতে ধুলা জমে আছে। লাইব্রেরিটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন বলেন, পড়ার সুযোগ পাব কীভাবে? লাইব্রেরি তো খোলাই হয় না। স্কুলের হেড ক্লার্ক জিয়া বলেন, সরকারি স্কুলে লইব্রেরিয়ানের পদ নেই। একজন শিক্ষককে লাইব্রেরি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া আছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বই দরকার হলে লাইব্রেরি খোলা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী মহানগরীর একাধিক মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজের গ্রন্থাগারিক জানান, প্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগারের জন্য আলাদা একটি ফান্ড আছে। যার নামমাত্র একটি অংশ গ্রন্থাগারের কাজে লাগানো হয়। বাকি অর্থ খরচ করা হয় অন্য খাতে। যার কারণে গ্রন্থাগারের জরাজীর্ণ অবস্থার অবসান হচ্ছে না। তাছাড়া একাডেমিক সিলেবাসের চাপে যেখানে শিক্ষার্থীরা এমনিতেই পর্যুদস্ত অবস্থা; সেখানে জরাজীর্ণ পরিবেশে সাহিত্য কিংবা ভিন্ন বিষয়ের বই পড়তে শিক্ষার্থীদের তেমন আগ্রহই নেই।

এ জেলার বাঘায় মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ রয়েছে ৬৪টি। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরিয়ান থাকলেও নামমাত্র আছে লাইব্রেরি। আড়ানী ইউনিয়নের খোর্দ্দবাউসা উচ্চ বিদ্যালয়ে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল লতিফ বলেন, লাইব্রেরিয়ান আছে, কিন্তু লাইব্রেরি নেই। কিছু বই আছে, স্টাফ রুমের আলমারিতে রাখা হয়েছে।

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি বেহাল। জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসাবে পরিচিত সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে লাইব্রেরির কোনো নির্দিষ্ট রুম নেই। ওই প্রতিষ্ঠানের ভোকেশনাল শাখার একটি রুমে দরজার ওপর ইংরেজিতে লাইব্রেরি লেখা থাকলেও সেটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ। পাশেই বিএনসিসির শিক্ষার্থীদের একটি শ্রেণিকক্ষের ভেতরে লাইব্রেরির বইগুলো কয়েকটি আলমিরাতে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ধুলোর আস্তরণ দেখে বোঝা যায়, দীর্ঘদিনেও এগুলো খোলা হয়নি।

একই জেলার বাগাতিপাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পাঠাগার কক্ষটিতে ডিজিটাল ল্যাব বানানো হয়েছে। সেখানকার কর্মচারীরা জানালেন, বইগুলো গোডাউনে রাখা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, যমুনার ভাঙনকবলিত চৌহালী উপজেলা সদরে একটি সরকারি কলেজ ও খামারগ্রাম ডিগ্রি কলেজসহ আরও তিনটি কলেজ রয়েছে। এছাড়া তিনটি কারিগরি কলেজ, ২৩টি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং প্রায় ২০টি মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাদে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি কার্যক্রম নেই বললেই চলে।

পাবনার সুজানগরে একটি সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৩৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং একটি সরকারি কলেজসহ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৯টি। এর মধ্যে নব্বই ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই লাইব্রেরি। যে কয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি আছে সেগুলোও দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন