নাটোরে শিক্ষিকা খায়রুনের স্বামী মামুন কারাগারে
jugantor
নাটোরে শিক্ষিকা খায়রুনের স্বামী মামুন কারাগারে

  নাটোর ও গুরুদাসপুর প্রতিনিধি  

১৬ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নাটোরে কলেজ শিক্ষিকা খায়রুন নাহারের লাশ দাফন করা হয়েছে। রোববার রাতে জানাজা শেষে গুরুদাসপুর পৌর এলাকার খামার নাচকৈড় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নাটোর থানার অফিসার ইনচার্জ নাছিম আহমেদ জানান, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টে হত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে ওই মামলাটি তখন হত্যা মামলায় রূপ নেবে।

এদিকে এ ঘটনায় গ্রেফতার মামুন হোসেনকে (খায়রুন নাহারের স্বামী) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অসংলগ্ন কথা বলায় ঘটনাস্থল থেকেই মামুনকে আটক করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। সোমবার শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, বিষয়টি আত্মহত্যার মতোই মনে হচ্ছে। তারপরও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত স্বামী মামুন বাইরে থাকাসহ সব পয়েন্ট মাথায় রেখেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আশা করা যায় খুব তাড়াতাড়িই মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করতে সক্ষম হবে।

গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর মোজাম্মেল হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক খায়রুন কয়েক মাস আগে কলেজছাত্র মামুনকে বিয়ে করেন। নাটোর শহরের বলারীপাড়ার হাজি নান্নু মোল্লা ম্যানশনের চারতলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তারা। অসম বয়স হওয়ায় এ বিয়ে নিয়ে অনেকেই নানা নেতিবাচক মন্তব্য করেন। আত্মীয়স্বজনও বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। তবে মামুনকে নিয়ে সংসার করে যাচ্ছিলেন খায়রুন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে রোববার ভোরে ওই বাসা থেকে খায়রুনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

ওই সময় মামুন সাংবাদিকদের বলেন, শয়ন ঘরে স্ত্রীকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হন তিনি। সকালে কলেজে যাওয়ার জন্য স্ত্রীকে ডেকে দিতে মোবাইলে কল দিলে স্ত্রী কল রিসিভ না করায় তিনি বাসায় ফিরে ড্রয়িং রুমে স্ত্রীকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন। এরপর হাতের কাছে কিছু না পেয়ে পকেটে থাকা গ্যাস লাইট দিয়ে ওড়নায় পুড়িয়ে স্ত্রীকে নামান। বুঝতে পারেন স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে।

তবে খায়রুনের ভাতিজা নাহিদ হাসান জানান, নতুন বিয়ের পর থেকেই তার ফুপুর কাছ থেকে পালসার মোটরসাইকেলসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছে মামুন। নতুন করে আবার আর ওয়ান-৫ মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। তিনি বলেন, মামুন নেশা করে। চারদিন আগে গুরুদাসপুরে নেশা গ্রহণ নিয়ে বিরোধের জেরে মামুন অন্যদের সঙ্গে মারামারি করে। এ ঘটনায় গুরুদাসপুর থানায় মামুনসহ কয়েকজনের নামে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মামুন ও খায়রুন নাহারের মনোমালিন্য চলছিল। তবে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল মতিন জানান, সেই মামলায় মামুন অভিযুক্ত নয়।

নাটোরে শিক্ষিকা খায়রুনের স্বামী মামুন কারাগারে

 নাটোর ও গুরুদাসপুর প্রতিনিধি 
১৬ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নাটোরে কলেজ শিক্ষিকা খায়রুন নাহারের লাশ দাফন করা হয়েছে। রোববার রাতে জানাজা শেষে গুরুদাসপুর পৌর এলাকার খামার নাচকৈড় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নাটোর থানার অফিসার ইনচার্জ নাছিম আহমেদ জানান, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টে হত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে ওই মামলাটি তখন হত্যা মামলায় রূপ নেবে।

এদিকে এ ঘটনায় গ্রেফতার মামুন হোসেনকে (খায়রুন নাহারের স্বামী) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অসংলগ্ন কথা বলায় ঘটনাস্থল থেকেই মামুনকে আটক করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। সোমবার শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, বিষয়টি আত্মহত্যার মতোই মনে হচ্ছে। তারপরও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত স্বামী মামুন বাইরে থাকাসহ সব পয়েন্ট মাথায় রেখেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আশা করা যায় খুব তাড়াতাড়িই মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করতে সক্ষম হবে।

গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর মোজাম্মেল হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক খায়রুন কয়েক মাস আগে কলেজছাত্র মামুনকে বিয়ে করেন। নাটোর শহরের বলারীপাড়ার হাজি নান্নু মোল্লা ম্যানশনের চারতলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তারা। অসম বয়স হওয়ায় এ বিয়ে নিয়ে অনেকেই নানা নেতিবাচক মন্তব্য করেন। আত্মীয়স্বজনও বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। তবে মামুনকে নিয়ে সংসার করে যাচ্ছিলেন খায়রুন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে রোববার ভোরে ওই বাসা থেকে খায়রুনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

ওই সময় মামুন সাংবাদিকদের বলেন, শয়ন ঘরে স্ত্রীকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হন তিনি। সকালে কলেজে যাওয়ার জন্য স্ত্রীকে ডেকে দিতে মোবাইলে কল দিলে স্ত্রী কল রিসিভ না করায় তিনি বাসায় ফিরে ড্রয়িং রুমে স্ত্রীকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন। এরপর হাতের কাছে কিছু না পেয়ে পকেটে থাকা গ্যাস লাইট দিয়ে ওড়নায় পুড়িয়ে স্ত্রীকে নামান। বুঝতে পারেন স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে।

তবে খায়রুনের ভাতিজা নাহিদ হাসান জানান, নতুন বিয়ের পর থেকেই তার ফুপুর কাছ থেকে পালসার মোটরসাইকেলসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছে মামুন। নতুন করে আবার আর ওয়ান-৫ মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। তিনি বলেন, মামুন নেশা করে। চারদিন আগে গুরুদাসপুরে নেশা গ্রহণ নিয়ে বিরোধের জেরে মামুন অন্যদের সঙ্গে মারামারি করে। এ ঘটনায় গুরুদাসপুর থানায় মামুনসহ কয়েকজনের নামে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মামুন ও খায়রুন নাহারের মনোমালিন্য চলছিল। তবে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল মতিন জানান, সেই মামলায় মামুন অভিযুক্ত নয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন