ফের রপ্তানি শুরু হচ্ছে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
jugantor
সিঙ্গাপুর বন্দরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
ফের রপ্তানি শুরু হচ্ছে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম  

১৬ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের পর বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড পরিবহণ বন্ধ করে দিয়েছিল শিপিং এজেন্টরা। একই সময়ে স্থান স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে সিঙ্গাপুর ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরও এই রাসায়নিক গ্রহণে অপরাগতা প্রকাশ করে। তবে কয়েক দিন আগে সিঙ্গাপুর বন্দর পণ্যটি গ্রহণে রাজি হয়েছে। এতে দুই মাস বন্ধ থাকার পর ফের হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানির দুয়ার খুলল। ৪ জুন এই রাসায়নিক থেকে বিএম ডিপোতে বিস্ফোরণ ঘটেছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনায় অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়, আহত হয়েছিলেন দুই শতাধিক।

জানা গেছে, শিপিং এজেন্ট ও সিঙ্গাপুর বন্দরের অনীহার কারণে স্থবির হয়ে পড়ে বাংলাদেশ থেকে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানি। স্থলপথে ভারতে কিছু পরিমাণ রপ্তানি অব্যাহত থাকলেও সমুদ্রপথে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এতে সংকটে পড়ে দেশের হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড কারখানাগুলো। উৎপাদন সীমিত করে শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটাতে চালু রাখা হয়েছিল এসব কারখানা। অবশেষে সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটি (পিএসএ করপোরেশন লিমিটেড) রাসায়নিকটি গ্রহণে রাজি হয়েছে। ১০ আগস্ট এক ঘোষণায় বন্দরটি হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা জানায়। এতে পণ্যটির রপ্তানিকারকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। তারা আশা করছেন, বন্ধ হওয়া রপ্তানি শিগগিরই শুরু হবে। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশই হয়ে থাকে সিঙ্গাপুর বন্দর ব্যবহার করে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ফিডার জাহাজে করে রপ্তানি পণ্য নিয়ে যাওয়া হয় সিঙ্গাপুর ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে। এরপর সেখানে অবস্থানরত মাদার ভেসেলে পণ্য তুলে দেওয়া হয়। মাদার ভেসেল সেসব পণ্য নিয়ে যায় বিভিন্ন গন্তব্যে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ যুগান্তরকে বলেন, সিঙ্গাপুর বন্দর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। এখন হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড পরিবহণের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা নেই। আমরা শিপিং এজেন্টদের বলেছি, যেহেতু এটি দাহ্য পদার্থ, তাই ভালোভাবে প্যাকিং করে যেন জাহাজে তোলা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড উৎপাদনকারী অন্তত ছয়টি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্য দেশে ব্যবহৃত হওয়ার পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে রপ্তানিও হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানি হয়। বাংলাদেশ থেকে ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বেশ কয়েকটি দেশে পণ্যটি রপ্তানি করা হয়।

দেশের অন্যতম প্রধান হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামভিত্তিক সামুদা কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার যুগান্তরকে বলেন, বিএম ডিপোতে দুর্ঘটনার পর রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে কারখানাগুলো উৎপাদন সীমিত করে। আমরাও ৫০ শতাংশ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছিলাম। সিঙ্গাপুর বন্দর আবারও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড গ্রহণ করতে রাজি হয়েছে বলে জেনেছি। আশা করছি দ্রুতই রপ্তানি শুরু করতে পারব।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) সচিব রুহুল আমিন শিকদার বলেন, বিএম কনটেইনার ডিপোতে দুর্ঘটনার আগে প্রতি মাসে ১০০ থেকে ২০০ কনটেইনার হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানি হতো।

সিঙ্গাপুর বন্দরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

ফের রপ্তানি শুরু হচ্ছে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড

 মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম 
১৬ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের পর বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড পরিবহণ বন্ধ করে দিয়েছিল শিপিং এজেন্টরা। একই সময়ে স্থান স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে সিঙ্গাপুর ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরও এই রাসায়নিক গ্রহণে অপরাগতা প্রকাশ করে। তবে কয়েক দিন আগে সিঙ্গাপুর বন্দর পণ্যটি গ্রহণে রাজি হয়েছে। এতে দুই মাস বন্ধ থাকার পর ফের হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানির দুয়ার খুলল। ৪ জুন এই রাসায়নিক থেকে বিএম ডিপোতে বিস্ফোরণ ঘটেছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনায় অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়, আহত হয়েছিলেন দুই শতাধিক।

জানা গেছে, শিপিং এজেন্ট ও সিঙ্গাপুর বন্দরের অনীহার কারণে স্থবির হয়ে পড়ে বাংলাদেশ থেকে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানি। স্থলপথে ভারতে কিছু পরিমাণ রপ্তানি অব্যাহত থাকলেও সমুদ্রপথে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এতে সংকটে পড়ে দেশের হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড কারখানাগুলো। উৎপাদন সীমিত করে শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটাতে চালু রাখা হয়েছিল এসব কারখানা। অবশেষে সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটি (পিএসএ করপোরেশন লিমিটেড) রাসায়নিকটি গ্রহণে রাজি হয়েছে। ১০ আগস্ট এক ঘোষণায় বন্দরটি হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা জানায়। এতে পণ্যটির রপ্তানিকারকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। তারা আশা করছেন, বন্ধ হওয়া রপ্তানি শিগগিরই শুরু হবে। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশই হয়ে থাকে সিঙ্গাপুর বন্দর ব্যবহার করে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ফিডার জাহাজে করে রপ্তানি পণ্য নিয়ে যাওয়া হয় সিঙ্গাপুর ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে। এরপর সেখানে অবস্থানরত মাদার ভেসেলে পণ্য তুলে দেওয়া হয়। মাদার ভেসেল সেসব পণ্য নিয়ে যায় বিভিন্ন গন্তব্যে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ যুগান্তরকে বলেন, সিঙ্গাপুর বন্দর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। এখন হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড পরিবহণের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা নেই। আমরা শিপিং এজেন্টদের বলেছি, যেহেতু এটি দাহ্য পদার্থ, তাই ভালোভাবে প্যাকিং করে যেন জাহাজে তোলা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড উৎপাদনকারী অন্তত ছয়টি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্য দেশে ব্যবহৃত হওয়ার পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে রপ্তানিও হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানি হয়। বাংলাদেশ থেকে ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বেশ কয়েকটি দেশে পণ্যটি রপ্তানি করা হয়।

দেশের অন্যতম প্রধান হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামভিত্তিক সামুদা কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার যুগান্তরকে বলেন, বিএম ডিপোতে দুর্ঘটনার পর রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে কারখানাগুলো উৎপাদন সীমিত করে। আমরাও ৫০ শতাংশ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছিলাম। সিঙ্গাপুর বন্দর আবারও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড গ্রহণ করতে রাজি হয়েছে বলে জেনেছি। আশা করছি দ্রুতই রপ্তানি শুরু করতে পারব।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) সচিব রুহুল আমিন শিকদার বলেন, বিএম কনটেইনার ডিপোতে দুর্ঘটনার আগে প্রতি মাসে ১০০ থেকে ২০০ কনটেইনার হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানি হতো।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন