বরগুনায় এমপির সামনেই সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জ
jugantor
বিভিন্ন স্থানে শোক দিবসের কর্মসূচিতে সংঘাত
বরগুনায় এমপির সামনেই সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জ
আহত অর্ধশতাধিক আটক দুই

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৬ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরগুনায় জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বরগুনা-১ আসনের সংসদ-সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সামনেই ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের গাড়ি ভাঙচুর করা হলে বেধড়ক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দেশীয় অস্ত্র। এছাড়া সোমবার নেত্রকোনা ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় আরও কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

বরগুনা : দুপুর ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্সে ফুল দিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজা ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন শিল্পকলা একাডেমির সামনে পৌঁছলে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত গ্রুপের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে এ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরমের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ শিল্পকলা একাডেমিতে ঢুকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বেধড়ক পেটাতে থাকে। বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও পৌর মেয়র কামরুল আহসান মহারাজের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের লাঠিচার্জে অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের বরগুনা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম তারেক রহমান বলেন, শিল্পকলা একাডেমির সামনে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় একটি গ্রুপ একাডেমির দ্বিতীয় তলা থেকে পুলিশের গাড়িতে ইট ছুড়ে মারে। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন বলেন, পদবঞ্চিতদের একাংশ আমাদের ওপর হামলা করে। ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমরা মামলা করব। পদবঞ্চিত জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সবুজ মোল্লা বলেন, শিল্পকলা একাডেমিতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ছিলাম। কে বা কারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে, তা আমরা জানি না। হঠাৎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরমের নেতৃত্বে শিল্পকলা একাডেমিতে ঢুকে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। পুলিশের বেপরোয়া মারধরে অনেক নেতাকর্মীর মাথা ফেটে গেছে। হাত ভেঙেছে।

বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, আমি শিল্পকলা একাডেমিতে শোকসভার অনুষ্ঠানে ছিলাম। শুনতে পেলাম হলরুমের পেছনে এবং বাইরে গণ্ডগোল চলছে। বাইরে বের হয়ে অ্যাডিশনাল এসপি মহরমকে ডেকে জানতে চাইলাম, কী কারণে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পেটানো হচ্ছে। তিনি আমার সঙ্গে ভালো আচরণ করেননি। কিছু পুলিশ আমার সামনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের যেভাবে পিটিয়েছে তা বর্ণনা করার মতো ভাষা আমার নেই। জাতীয় শোক দিবসে এটা আশা করিনি।

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মদ বলেন, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছে তারা। এ কারণে স্বাধীন ও জসিম মোল্লা নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

নেত্রকোনা : সদর উপজেলার চাল্লিশা ইউনিয়নে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লাল চান মিয়ার নেতৃত্বে বাঘরা বাজারে কাঙালিভোজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এর কাছাকাছি জায়গায় একই আয়োজন করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বিপ্লব খানের নেতৃত্বে অপর গ্রুপ। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সকাল থেকেই উত্তেজনা দেখা দেয়। বেলা ১২টায় দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাবেক ইউপি মেম্বার আবদুল জলিল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান লালু, সহসভাপতি মো. জনি মিয়া, সুলতান মাহমুদ মিলন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম. যুবলীগ নেতা জুয়েল মিয়া, লিটন মিয়া, এরশাদ মিয়া ও মজিবুর রহমান আহত হয়েছেন।

নোয়াখালী ও কোম্পানীগঞ্জ : বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সকালে শোক র‌্যালি থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। চরহাজারী ইউপি চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন সোহাগ গ্রুপ এবং ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি রোমন চৌধুরী ও ছাত্রলীগ সভাপতি ফখরুল ইসলাম রাজু গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি নিজাম উদ্দিন জন্টু, চরহাজারী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী রাজু, একই ইউনিয়নে ছাত্রলীগের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রাজু, সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেফায়েত উল্যাহ সোহান, যুবলীগ নেতা আবদুল মান্নান, আলা উদ্দিন, সাহিন, মো. মোস্তফা, মো. শিপন ও মিজান। হামলার শিকার হাসান আলী রাজু অভিযোগ করেন, যুবলীগ নেতা জন্টুর মাথা ইট দিয়ে পাটিয়ে দিয়েছেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা রাজু। তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিভিন্ন স্থানে শোক দিবসের কর্মসূচিতে সংঘাত

বরগুনায় এমপির সামনেই সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জ

আহত অর্ধশতাধিক আটক দুই
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৬ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরগুনায় জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বরগুনা-১ আসনের সংসদ-সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সামনেই ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের গাড়ি ভাঙচুর করা হলে বেধড়ক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দেশীয় অস্ত্র। এছাড়া সোমবার নেত্রকোনা ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় আরও কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

বরগুনা : দুপুর ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্সে ফুল দিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজা ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন শিল্পকলা একাডেমির সামনে পৌঁছলে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত গ্রুপের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে এ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরমের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ শিল্পকলা একাডেমিতে ঢুকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বেধড়ক পেটাতে থাকে। বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও পৌর মেয়র কামরুল আহসান মহারাজের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের লাঠিচার্জে অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের বরগুনা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম তারেক রহমান বলেন, শিল্পকলা একাডেমির সামনে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় একটি গ্রুপ একাডেমির দ্বিতীয় তলা থেকে পুলিশের গাড়িতে ইট ছুড়ে মারে। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন বলেন, পদবঞ্চিতদের একাংশ আমাদের ওপর হামলা করে। ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমরা মামলা করব। পদবঞ্চিত জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সবুজ মোল্লা বলেন, শিল্পকলা একাডেমিতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ছিলাম। কে বা কারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে, তা আমরা জানি না। হঠাৎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরমের নেতৃত্বে শিল্পকলা একাডেমিতে ঢুকে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। পুলিশের বেপরোয়া মারধরে অনেক নেতাকর্মীর মাথা ফেটে গেছে। হাত ভেঙেছে।

বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, আমি শিল্পকলা একাডেমিতে শোকসভার অনুষ্ঠানে ছিলাম। শুনতে পেলাম হলরুমের পেছনে এবং বাইরে গণ্ডগোল চলছে। বাইরে বের হয়ে অ্যাডিশনাল এসপি মহরমকে ডেকে জানতে চাইলাম, কী কারণে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পেটানো হচ্ছে। তিনি আমার সঙ্গে ভালো আচরণ করেননি। কিছু পুলিশ আমার সামনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের যেভাবে পিটিয়েছে তা বর্ণনা করার মতো ভাষা আমার নেই। জাতীয় শোক দিবসে এটা আশা করিনি।

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মদ বলেন, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছে তারা। এ কারণে স্বাধীন ও জসিম মোল্লা নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

নেত্রকোনা : সদর উপজেলার চাল্লিশা ইউনিয়নে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লাল চান মিয়ার নেতৃত্বে বাঘরা বাজারে কাঙালিভোজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এর কাছাকাছি জায়গায় একই আয়োজন করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বিপ্লব খানের নেতৃত্বে অপর গ্রুপ। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সকাল থেকেই উত্তেজনা দেখা দেয়। বেলা ১২টায় দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাবেক ইউপি মেম্বার আবদুল জলিল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান লালু, সহসভাপতি মো. জনি মিয়া, সুলতান মাহমুদ মিলন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম. যুবলীগ নেতা জুয়েল মিয়া, লিটন মিয়া, এরশাদ মিয়া ও মজিবুর রহমান আহত হয়েছেন।

নোয়াখালী ও কোম্পানীগঞ্জ : বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সকালে শোক র‌্যালি থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। চরহাজারী ইউপি চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন সোহাগ গ্রুপ এবং ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি রোমন চৌধুরী ও ছাত্রলীগ সভাপতি ফখরুল ইসলাম রাজু গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি নিজাম উদ্দিন জন্টু, চরহাজারী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী রাজু, একই ইউনিয়নে ছাত্রলীগের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রাজু, সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেফায়েত উল্যাহ সোহান, যুবলীগ নেতা আবদুল মান্নান, আলা উদ্দিন, সাহিন, মো. মোস্তফা, মো. শিপন ও মিজান। হামলার শিকার হাসান আলী রাজু অভিযোগ করেন, যুবলীগ নেতা জন্টুর মাথা ইট দিয়ে পাটিয়ে দিয়েছেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা রাজু। তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন