মনপুরা-চরফ্যাশনে পানিবন্দি মানুষের মানবেতর জীবন
jugantor
মনপুরা-চরফ্যাশনে পানিবন্দি মানুষের মানবেতর জীবন

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৬ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জোয়ারের পানিতে ভোলার মনপুরা ও চরফ্যাশন এবং বরিশালের বানারীপাড়ার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মনপুরা ও চরফ্যাশনে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি। রান্নাবান্না করতে না পেরে অর্ধাহার-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। সরকারিভাবে ত্রাণের ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। মনপুরায় ২ কিলোমিটারের বেশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধের ক্ষতি হয়েছে। পানি কমলে বাঁধ সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর পানি বেড়ে পৌরসভাসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

মনপুরা (ভোলা) : ছয় দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে উপজেলার ১০ গ্রামের ২০ হাজার বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার হাজিরহাট, ১নং মনপুরা ও উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে বেড়ির ভেতরে ও বাইরে জোয়ারের পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করছে। তবে তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। দুর্গত এলাকায় সরকারিভাবে এখনো ত্রাণ কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নে ২ কিলোমিটারের বেশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের ক্ষতি হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডিভিশন-২ এর উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুর রহমান জানান, সোমবার দুপুর ৩টায় মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হয়। তিনি জানান, জোয়ারের পানির চাপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের। জোয়ারের পানি কমে গেলেই ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের সংস্কার করতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করবে পাউবো। মনপুরা উপজেলার নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বে থাকা চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাহী অফিসার আল নোমান জানান, পাউবোকে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের সংস্কারের জন্য বলা হয়েছে। সরকারিভাবে সাহায্য এলে ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া হবে।

চরফ্যাশন দক্ষিণ (ভোলা) : কোমর পানিতে ডুবে রয়েছে ঢালচর, চরকুকরিমুকরি, চরপাতিলা, চরনিজাম, চরমাদ্রাজ, জাহানপুর, মুজিবনগর, নজরুলনগর, হাজারীগঞ্জ ও চরমানিকা ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা। দিনে-রাতে দুবার জোয়ারের পানি প্লাবিত হওয়ায় বেড়ির বাইরে থাকা পরিবারগুলো রান্নাবান্না করতে না পেরে অর্ধাহার-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষদের কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পরিবারগুলোর। জোয়ারের ঢেউয়ে চরমানিকা ইউনিয়নের নবীনগর সড়কসহ বেশ কিছু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢালচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ছালাম হাওলাদার জানান, তার এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত। গবাদিপশু নিয়ে কৃষকরা বিপদে আছেন। ক্ষেতের ফসলও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। নদীতে মাছ ধরার ট্রলার ডুবে ৮ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।

বানারীপাড়া (বরিশাল) : সন্ধ্যা ও শাখা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বানারীপাড়া পৌরসভাসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অসংখ্য পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। বিভিন্ন সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ তলিয়ে গেছে। উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ও বিশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সান্ত যুগান্তরকে জানান, দান্ডয়াট-বিশারকান্দি সড়কের উমরেরপার এলাকা ও তার ইউনিয়নের বেশিরভাগ সড়ক ও বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ডুবে গেছে। উদয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মামুন-উর রশিদ স্বপন তালুকদার জানান, উদয়কাঠি বাজারে হাঁটুপানি হওয়ার পাশাপাশি মূল সড়কটির বেশিরভাগ এলাকা ডুবে গেছে। চাখার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু জানান, তার ইউনিয়নের সাকরাল আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রতিটি ঘরে পানি ডুকে পড়েছে।

মনপুরা-চরফ্যাশনে পানিবন্দি মানুষের মানবেতর জীবন

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৬ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জোয়ারের পানিতে ভোলার মনপুরা ও চরফ্যাশন এবং বরিশালের বানারীপাড়ার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মনপুরা ও চরফ্যাশনে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি। রান্নাবান্না করতে না পেরে অর্ধাহার-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। সরকারিভাবে ত্রাণের ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। মনপুরায় ২ কিলোমিটারের বেশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধের ক্ষতি হয়েছে। পানি কমলে বাঁধ সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর পানি বেড়ে পৌরসভাসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

মনপুরা (ভোলা) : ছয় দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে উপজেলার ১০ গ্রামের ২০ হাজার বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার হাজিরহাট, ১নং মনপুরা ও উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে বেড়ির ভেতরে ও বাইরে জোয়ারের পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করছে। তবে তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। দুর্গত এলাকায় সরকারিভাবে এখনো ত্রাণ কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নে ২ কিলোমিটারের বেশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের ক্ষতি হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডিভিশন-২ এর উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুর রহমান জানান, সোমবার দুপুর ৩টায় মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হয়। তিনি জানান, জোয়ারের পানির চাপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের। জোয়ারের পানি কমে গেলেই ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের সংস্কার করতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করবে পাউবো। মনপুরা উপজেলার নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বে থাকা চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাহী অফিসার আল নোমান জানান, পাউবোকে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের সংস্কারের জন্য বলা হয়েছে। সরকারিভাবে সাহায্য এলে ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া হবে।

চরফ্যাশন দক্ষিণ (ভোলা) : কোমর পানিতে ডুবে রয়েছে ঢালচর, চরকুকরিমুকরি, চরপাতিলা, চরনিজাম, চরমাদ্রাজ, জাহানপুর, মুজিবনগর, নজরুলনগর, হাজারীগঞ্জ ও চরমানিকা ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা। দিনে-রাতে দুবার জোয়ারের পানি প্লাবিত হওয়ায় বেড়ির বাইরে থাকা পরিবারগুলো রান্নাবান্না করতে না পেরে অর্ধাহার-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষদের কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পরিবারগুলোর। জোয়ারের ঢেউয়ে চরমানিকা ইউনিয়নের নবীনগর সড়কসহ বেশ কিছু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢালচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ছালাম হাওলাদার জানান, তার এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত। গবাদিপশু নিয়ে কৃষকরা বিপদে আছেন। ক্ষেতের ফসলও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। নদীতে মাছ ধরার ট্রলার ডুবে ৮ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।

বানারীপাড়া (বরিশাল) : সন্ধ্যা ও শাখা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বানারীপাড়া পৌরসভাসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অসংখ্য পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। বিভিন্ন সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ তলিয়ে গেছে। উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ও বিশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সান্ত যুগান্তরকে জানান, দান্ডয়াট-বিশারকান্দি সড়কের উমরেরপার এলাকা ও তার ইউনিয়নের বেশিরভাগ সড়ক ও বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ডুবে গেছে। উদয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মামুন-উর রশিদ স্বপন তালুকদার জানান, উদয়কাঠি বাজারে হাঁটুপানি হওয়ার পাশাপাশি মূল সড়কটির বেশিরভাগ এলাকা ডুবে গেছে। চাখার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু জানান, তার ইউনিয়নের সাকরাল আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রতিটি ঘরে পানি ডুকে পড়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন