পটিয়ায় ছেলের পিস্তলের গুলিতে মা নিহত
jugantor
সম্পদই কাল হলো
পটিয়ায় ছেলের পিস্তলের গুলিতে মা নিহত

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

১৭ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পটিয়া পৌরসভায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ছেলে মাঈনুদ্দিন মাঈনুর পিস্তলের গুলিতে মা জেসমিন আক্তার নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের হাজী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জেসমিন পটিয়া পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র ও জাতীয় পার্টির জনপ্রিয় নেতা শামসুল আলম মাস্টারের স্ত্রী।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম জানান, মাঈনু (৩০) তার মা জেসমিনকে (৫২) গুলি করে পালিয়ে গেছেন। মারাত্মক আহত অবস্থায় জেসমিনকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৬৫ বোরের পিস্তলের অব্যবহৃত একটি তাজা গুলি ও একই বোরের ব্যবহৃত গুলির অংশ এবং ঘাতক মাঈনুর ঘর থেকে একটি এয়ারগান পুলিশ উদ্ধার করে। সেখান থেকে রক্তমাখা আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাঈনুর বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মাঈনু মাদকাসক্ত বলেও তারা জানতে পেরেছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত শামসুল আলম মাস্টারের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে শায়লা শারমিন ও ছেলে মাশফিকুর আলম মাশফী অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে মেয়ে শারমিনের সঙ্গে জেসমিন আক্তারের অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল। ১৩ জুলাই বার্ধক্যজনিত কারণে শামসুল আলম মারা যান। তার মৃত্যু পর সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শামসুল আলমের সম্পত্তি ও ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার ভাগবাটোয়ারা ও নমিনি নিয়ে স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে বড় ছেলে মাঈনুর বিরোধ চলে আসছে। মঙ্গলবার সকালে বোন ও মায়ের সঙ্গে মাঈনুর বাকবিতণ্ডা হয়। দুপুরে ব্যাংকের কাজকর্ম সেরে জেসমিন ও শারিমন ঘরে ফেরেন। এ সময় আবারও তাদের সঙ্গে মাঈনুরের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মাঈনু তার মায়ের মাথায় গুলি করে পালিয়ে যান। মাঈনুর চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী ডেইজি আক্তার জানান, পরপর দুটি গুলির শব্দ, চেঁচামেচি ও কান্নাকাটির শব্দ শুনে পাশের ঘর তিনি দৌড়ে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় জেসমিন খাটের ওপর পড়ে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। আর শারমিন কান্নাকাটি করছেন। আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে গুরুতর আহত অবস্থায় জেসমিনকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, বাবা জাতীয় পার্টির রাজনীতি করলেও মাঈনু ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তার কোনো পদপদবি ছিল কিনা তা জানা যায়নি।

সম্পদই কাল হলো

পটিয়ায় ছেলের পিস্তলের গুলিতে মা নিহত

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
১৭ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পটিয়া পৌরসভায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ছেলে মাঈনুদ্দিন মাঈনুর পিস্তলের গুলিতে মা জেসমিন আক্তার নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের হাজী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জেসমিন পটিয়া পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র ও জাতীয় পার্টির জনপ্রিয় নেতা শামসুল আলম মাস্টারের স্ত্রী।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম জানান, মাঈনু (৩০) তার মা জেসমিনকে (৫২) গুলি করে পালিয়ে গেছেন। মারাত্মক আহত অবস্থায় জেসমিনকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৬৫ বোরের পিস্তলের অব্যবহৃত একটি তাজা গুলি ও একই বোরের ব্যবহৃত গুলির অংশ এবং ঘাতক মাঈনুর ঘর থেকে একটি এয়ারগান পুলিশ উদ্ধার করে। সেখান থেকে রক্তমাখা আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাঈনুর বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মাঈনু মাদকাসক্ত বলেও তারা জানতে পেরেছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত শামসুল আলম মাস্টারের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে শায়লা শারমিন ও ছেলে মাশফিকুর আলম মাশফী অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে মেয়ে শারমিনের সঙ্গে জেসমিন আক্তারের অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল। ১৩ জুলাই বার্ধক্যজনিত কারণে শামসুল আলম মারা যান। তার মৃত্যু পর সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শামসুল আলমের সম্পত্তি ও ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার ভাগবাটোয়ারা ও নমিনি নিয়ে স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে বড় ছেলে মাঈনুর বিরোধ চলে আসছে। মঙ্গলবার সকালে বোন ও মায়ের সঙ্গে মাঈনুর বাকবিতণ্ডা হয়। দুপুরে ব্যাংকের কাজকর্ম সেরে জেসমিন ও শারিমন ঘরে ফেরেন। এ সময় আবারও তাদের সঙ্গে মাঈনুরের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মাঈনু তার মায়ের মাথায় গুলি করে পালিয়ে যান। মাঈনুর চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী ডেইজি আক্তার জানান, পরপর দুটি গুলির শব্দ, চেঁচামেচি ও কান্নাকাটির শব্দ শুনে পাশের ঘর তিনি দৌড়ে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় জেসমিন খাটের ওপর পড়ে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। আর শারমিন কান্নাকাটি করছেন। আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে গুরুতর আহত অবস্থায় জেসমিনকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, বাবা জাতীয় পার্টির রাজনীতি করলেও মাঈনু ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তার কোনো পদপদবি ছিল কিনা তা জানা যায়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন