মজুরি ১৩৪ টাকা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান চা শ্রমিকদের
jugantor
সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ
মজুরি ১৩৪ টাকা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান চা শ্রমিকদের

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৮ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মজুরি ১৩৪ টাকা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান চা শ্রমিকদের

কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই চা শ্রমিক-মালিক বৈঠক শেষ হয়েছে। চা শ্রমিকদের ধর্মঘট নিরসনে বুধবার রাজধানীর বিজয় নগরে শ্রম ভবনে চা-শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাগান মালিকদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু ওই বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি কোনো পক্ষ।

আলোচনা শেষে রাত ১১টায় বাংলাদেশ শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, চা শ্রমিক ইউনিয়ন, বাগান মালিক ও চা কোম্পানির সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া ও মালিকপক্ষের বক্তব্যের পরিপেক্ষিতে দুয়েক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শ্রমিকদের দাবির পরিপেক্ষিতে সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাহী উপদেষ্টা রাম ভোজন কৈরি বলেন, সিদ্ধান্তে না আসা পর্যন্ত চা শ্রমিকদের আন্দোলন চলবে।

চা শ্রমিকরা ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরির দাবিতে অনড় রয়েছেন। বুধবার রাজধানীতে এক বৈঠকে ১৩৪ টাকা মজুরি দেওয়ার প্রস্তাব করে মালিকপক্ষ। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেন শ্রমিকরা।

লাগাতার কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে এদিনও সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে চা শ্রমিকরা।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের লংলা ভেলির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জু গোস্বামী গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে আমাদের মজুরি ১২০ টাকা। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে এ টাকায় কোনোভাবেই সংসার চালানো সম্ভব নয়।

আমরা ৩০০ টাকা মজুরির প্রস্তাব করেছি। আমাদের প্রস্তাব না মানা হলে কর্মবিরতি চলবে। বৈঠকে মালিকপক্ষ কোনো প্রস্তাব দিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালিকপক্ষ বলছে, আমরা আন্দোলন বন্ধ করলে তারা আমাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও বলেন, মালিকপক্ষ আমাদের বর্তমান মজুরির সঙ্গে আরও ১৪ টাকা যোগ করে মোট ১৩৪ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, ১২০ টাকা মজুরিতে জীবনযাপন করা কষ্টসাধ্য। আবার প্রতিদিন ২৩ কেজি চা পাতা তুলতে না পারলে ১২০ টাকা দেওয়া হয় না।

একদিন কাজ না করলে রেশন কেটে নেওয়া হয়। তারা বলেন, সরকারের এবং মালিকের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকরা যে না খেয়ে মারা যাচ্ছে, সেটা কেউ বলছে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা শ্রমজীবী মানুষ, কাজ করতে চাই, আন্দোলন করতে চাই না। আমরা রাষ্ট্রের কাছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করছি, কেন আমরা ন্যায্য মজুরি পাব না? দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মবিরতি পালন করব।

বৈঠকে বাংলাদেশ শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চা শ্রমিক সংগঠনের নেতা এবং মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সিলেট : বেলা ১১টার দিকে নগরীর মালনিছড়া চা বাগানের মন্দিরের পাশে শ্রমিকরা জড়ো হন। পরে তারা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে মিছিল বের করেন। লাক্কাতুরা চা বাগানের শ্রমিকরাও মিছিলে যোগ দেন।

মিছিলটি সিলেট বিমানবন্দর সড়ক হয়ে লাক্কাতুরা চা বাগানের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। চা শ্রমিকরা বলেন, আমরা কাজ করতে চাই। কিন্তু আমাদের প্রাপ্য মজুরি দিতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। মজুরি, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থানসহ বিভিন্ন দিকে আমাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। এখন আমরা আমাদের প্রাপ্য দাবি করছি।

হবিগঞ্জ : সকাল থেকেই শ্রমিকরা বিভিন্ন বাগানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে জেলায় দৈনিক প্রায় ৮৫ হাজার কেজি চা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা (প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে)।

এতে শুধু বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, চা রফতানিও থমকে দাঁড়িয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দাড়াগাঁও চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি প্রেমলাল আহির বলেন, চায়ের পাতা যদি বড় হয়ে যায় তবে তা দিয়ে চা উৎপাদন করা যায় না।

তাই কুড়ি থাকতেই তা তুলতে হয়। মৌসুমে চা উত্তোলন না হওয়ায় বাগানের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে সেটি আমরা বুঝি। কিন্তু কি করব আমাদের যদি খাদ্য না জুটে তাহলে আমরা কিভাবে কাজ করব।

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) : দুপুর ৩টার দিকে কুলাউড়া কালিটি, রাঙ্গিছড়া ও মুড়ইছড়াসহ ৬টি চা বাগানের প্রায় সহস্রাধিক শ্রমিক ভুখা মিছিল নিয়ে ৭ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে যান।

সেখানে শ্রমিকরা এক ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে ৩০০ টাকা মজুরি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। শ্রমিকরা জানান, প্রতি বছর নতুন মজুরি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও ১৯ মাসেও নতুন মজুরি নির্ধারণ হয়নি চা শ্রমিকদের। সরকার ও বাগান কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়ে এতদিন পার করেছে।

সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ

মজুরি ১৩৪ টাকা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান চা শ্রমিকদের

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৮ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
মজুরি ১৩৪ টাকা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান চা শ্রমিকদের
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বুধবার সিলেটে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষোভ -যুগান্তর

কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই চা শ্রমিক-মালিক বৈঠক শেষ হয়েছে। চা শ্রমিকদের ধর্মঘট নিরসনে বুধবার রাজধানীর বিজয় নগরে শ্রম ভবনে চা-শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাগান মালিকদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু ওই বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি কোনো পক্ষ। 

আলোচনা শেষে রাত ১১টায় বাংলাদেশ শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, চা শ্রমিক ইউনিয়ন, বাগান মালিক ও চা কোম্পানির সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া ও মালিকপক্ষের বক্তব্যের পরিপেক্ষিতে দুয়েক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শ্রমিকদের দাবির পরিপেক্ষিতে সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাহী উপদেষ্টা রাম ভোজন কৈরি বলেন, সিদ্ধান্তে না আসা পর্যন্ত চা শ্রমিকদের আন্দোলন চলবে। 

চা শ্রমিকরা ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরির দাবিতে অনড় রয়েছেন। বুধবার রাজধানীতে এক বৈঠকে ১৩৪ টাকা মজুরি দেওয়ার প্রস্তাব করে মালিকপক্ষ। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেন শ্রমিকরা।

লাগাতার কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে এদিনও সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে চা শ্রমিকরা।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের লংলা ভেলির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জু গোস্বামী গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে আমাদের মজুরি ১২০ টাকা। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে এ টাকায় কোনোভাবেই সংসার চালানো সম্ভব নয়।

আমরা ৩০০ টাকা মজুরির প্রস্তাব করেছি। আমাদের প্রস্তাব না মানা হলে কর্মবিরতি চলবে। বৈঠকে মালিকপক্ষ কোনো প্রস্তাব দিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালিকপক্ষ বলছে, আমরা আন্দোলন বন্ধ করলে তারা আমাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও বলেন, মালিকপক্ষ আমাদের বর্তমান মজুরির সঙ্গে আরও ১৪ টাকা যোগ করে মোট ১৩৪ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। 

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, ১২০ টাকা মজুরিতে জীবনযাপন করা কষ্টসাধ্য। আবার প্রতিদিন ২৩ কেজি চা পাতা তুলতে না পারলে ১২০ টাকা দেওয়া হয় না।

একদিন কাজ না করলে রেশন কেটে নেওয়া হয়। তারা বলেন, সরকারের এবং মালিকের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকরা যে না খেয়ে মারা যাচ্ছে, সেটা কেউ বলছে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা শ্রমজীবী মানুষ, কাজ করতে চাই, আন্দোলন করতে চাই না। আমরা রাষ্ট্রের কাছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করছি, কেন আমরা ন্যায্য মজুরি পাব না? দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মবিরতি পালন করব।

বৈঠকে বাংলাদেশ শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চা শ্রমিক সংগঠনের নেতা এবং মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। 

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- 

সিলেট : বেলা ১১টার দিকে নগরীর মালনিছড়া চা বাগানের মন্দিরের পাশে শ্রমিকরা জড়ো হন। পরে তারা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে মিছিল বের করেন। লাক্কাতুরা চা বাগানের শ্রমিকরাও মিছিলে যোগ দেন।

মিছিলটি সিলেট বিমানবন্দর সড়ক হয়ে লাক্কাতুরা চা বাগানের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। চা শ্রমিকরা বলেন, আমরা কাজ করতে চাই। কিন্তু আমাদের প্রাপ্য মজুরি দিতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। মজুরি, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থানসহ বিভিন্ন দিকে আমাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। এখন আমরা আমাদের প্রাপ্য দাবি করছি।

হবিগঞ্জ : সকাল থেকেই শ্রমিকরা বিভিন্ন বাগানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে জেলায় দৈনিক প্রায় ৮৫ হাজার কেজি চা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা (প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে)।

এতে শুধু বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, চা রফতানিও থমকে দাঁড়িয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দাড়াগাঁও চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি প্রেমলাল আহির বলেন, চায়ের পাতা যদি বড় হয়ে যায় তবে তা দিয়ে চা উৎপাদন করা যায় না।

তাই কুড়ি থাকতেই তা তুলতে হয়। মৌসুমে চা উত্তোলন না হওয়ায় বাগানের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে সেটি আমরা বুঝি। কিন্তু কি করব আমাদের যদি খাদ্য না জুটে তাহলে আমরা কিভাবে কাজ করব। 

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) : দুপুর ৩টার দিকে কুলাউড়া কালিটি, রাঙ্গিছড়া ও মুড়ইছড়াসহ ৬টি চা বাগানের প্রায় সহস্রাধিক শ্রমিক ভুখা মিছিল নিয়ে ৭ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে যান।

সেখানে শ্রমিকরা এক ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে ৩০০ টাকা মজুরি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। শ্রমিকরা জানান, প্রতি বছর নতুন মজুরি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও ১৯ মাসেও নতুন মজুরি নির্ধারণ হয়নি চা শ্রমিকদের। সরকার ও বাগান কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়ে এতদিন পার করেছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন