চট্টগ্রামে জেএমবির ৫ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড
jugantor
ঈশা খাঁ ঘাঁটির মসজিদে বোমা হামলা
চট্টগ্রামে জেএমবির ৫ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

১৮ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাঁটির মসজিদে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবির বোমা হামলার একটি মামলায় নৌবাহিনীর পথভ্রষ্ট এক সদস্যসহ ৫ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার সকালে চট্টগ্রামের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুল হালিম এ রায় প্রদান করেন। আসামিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো-নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য এম সাখাওয়াত হোসেন, আবদুল মান্নান, রমজান আলী, বাবুল রহমান ওরফে রনি ও আবদুল গাফফার। দণ্ডিতদের মধ্যে এম সাখাওয়াত হোসেন নৌবাহিনীর সদস্য ও আবদুল মান্নান হচ্ছেন বলকিপার।

সাখাওয়াত হোসেন পলাতক থাকলেও বাকি চার আসামি রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল। ঘটনার প্রায় ৭ বছর পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় হলো।

রাষ্ট্রপক্ষে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মনোরঞ্জন দাশ। তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। রায়ে তারা সন্তুষ্ট। রায় ঘোষণার পর উপস্থিত চার আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পরে ১০ মিনিটের ব্যবধানে নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাঁটির ভেতরের দুটি মসজিদে বোমা হামলা হয়। আসামিরা মুসল্লিবেশে মসজিদে উপস্থিত ছিল। মসজিদ দুটিতে নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও জুমার নামাজ আদায় করেন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবেই বোমা হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণে অন্তত ২৪ মুসল্লি আহত হন। যাদের মধ্যে নৌবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যসহ স্থানীয়রাও ছিলেন।

সূত্র জানায়, এ ঘটনায় নেভাল প্রভোস্ট মার্শাল কমান্ডার এম আবু সাঈদ ইপিজেড থানায় মামলা করেন। সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে করা এ মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর ৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ইপিজেড থানার সে সময়কার পরিদর্শক মুহাম্মদ ওসমান গণি এ চার্জশিট দাখিল করেন।

এজাহারের ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুল হালিম চার্জশিটভুক্ত সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন-জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক রাইসুল ইসলাম খান নোমান ওরফে নাফিস ওরফে ফারদিনের নেতৃত্বে নৌঘাঁটির মসজিদে ওই আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছিল।

জেএমবি দেশে নিজেদের ভ্রান্ত আদর্শ প্রতিষ্ঠার নামে সারা দেশে যে জঙ্গি কার্যক্রম ও হামলা শুরু করেছিল তার অংশ হিসাবেই চট্টগ্রামের ঈশা খাঁ নৌঘাঁটিতে এ হামলা চালিয়েছিল বলে সূত্র জানায়।

ঈশা খাঁ ঘাঁটির মসজিদে বোমা হামলা

চট্টগ্রামে জেএমবির ৫ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
১৮ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাঁটির মসজিদে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবির বোমা হামলার একটি মামলায় নৌবাহিনীর পথভ্রষ্ট এক সদস্যসহ ৫ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার সকালে চট্টগ্রামের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুল হালিম এ রায় প্রদান করেন। আসামিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো-নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য এম সাখাওয়াত হোসেন, আবদুল মান্নান, রমজান আলী, বাবুল রহমান ওরফে রনি ও আবদুল গাফফার। দণ্ডিতদের মধ্যে এম সাখাওয়াত হোসেন নৌবাহিনীর সদস্য ও আবদুল মান্নান হচ্ছেন বলকিপার।

সাখাওয়াত হোসেন পলাতক থাকলেও বাকি চার আসামি রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল। ঘটনার প্রায় ৭ বছর পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় হলো।

রাষ্ট্রপক্ষে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মনোরঞ্জন দাশ। তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। রায়ে তারা সন্তুষ্ট। রায় ঘোষণার পর উপস্থিত চার আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পরে ১০ মিনিটের ব্যবধানে নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাঁটির ভেতরের দুটি মসজিদে বোমা হামলা হয়। আসামিরা মুসল্লিবেশে মসজিদে উপস্থিত ছিল। মসজিদ দুটিতে নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও জুমার নামাজ আদায় করেন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবেই বোমা হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণে অন্তত ২৪ মুসল্লি আহত হন। যাদের মধ্যে নৌবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যসহ স্থানীয়রাও ছিলেন।

সূত্র জানায়, এ ঘটনায় নেভাল প্রভোস্ট মার্শাল কমান্ডার এম আবু সাঈদ ইপিজেড থানায় মামলা করেন। সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে করা এ মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর ৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ইপিজেড থানার সে সময়কার পরিদর্শক মুহাম্মদ ওসমান গণি এ চার্জশিট দাখিল করেন।

এজাহারের ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুল হালিম চার্জশিটভুক্ত সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন-জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক রাইসুল ইসলাম খান নোমান ওরফে নাফিস ওরফে ফারদিনের নেতৃত্বে নৌঘাঁটির মসজিদে ওই আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছিল।

জেএমবি দেশে নিজেদের ভ্রান্ত আদর্শ প্রতিষ্ঠার নামে সারা দেশে যে জঙ্গি কার্যক্রম ও হামলা শুরু করেছিল তার অংশ হিসাবেই চট্টগ্রামের ঈশা খাঁ নৌঘাঁটিতে এ হামলা চালিয়েছিল বলে সূত্র জানায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন