বিষ দিয়ে ধরলে মাছশূন্য হবে সুন্দরবন
jugantor
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
বিষ দিয়ে ধরলে মাছশূন্য হবে সুন্দরবন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৯ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিষ দিয়ে আহরণ অব্যাহত থাকলে একসময় পুরো সুন্দরবন এলাকা মাছশূন্য হয়ে যাবে এবং জীব ও উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের অনুলিপি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে আদালত বলেন, বিষ দিয়ে মাছ কিংবা চারু (বাঁশের শলার তৈরি চাঁই) পদ্ধতিতে কাঁকড়া শিকার করলে প্রয়োজনে ওই নৌকার সব আরোহীর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আল ফয়সাল সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। আল ফয়সাল সিদ্দিকী জানান, নিবন্ধিত ট্রলারে পশুর নদী ব্যবহার করে দুবলার চর থেকে সব ধরনের মাছ পরিবহণের অনুমতি আছে বন বিভাগের। তবে কাঁকড়া বহনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল না। ফলে কাঁকড়া ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পরিবহণের অনুমতি চেয়ে ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট প্রধান বন সংরক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করেন দাকোপ ও বটিয়াঘাটাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার কাঁকড়া আহরণকারীরা। কিন্তু বন বিভাগ ওই আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় তারা ওই বছরই হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

এরপর বন বিভাগ থেকে ওই বছর ৫ ডিসেম্বর আবেদনকারীদের জানানো হয়, কাঁকড়া পরিবহণের অনুমতি দেওয়া হবে না। ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে জাহান আলী গাজীসহ আটজন ২০১৯ সালে রিট আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের সাত দফা নির্দেশনাগুলো হলো- ১. রিটকারীরাসহ কাঁকড়া জেলেরা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সুন্দরবনের সংশ্লিষ্ট স্টেশন অফিসে নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব দিয়ে পাশ (অনুমতি) সংগ্রহ করে কেবল বৈঠাচালিত নৌকা এবং ‘দোন দড়ি’র মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজনের কাঁকড়া আহরণ করতে পারবেন। ২. কোনো অবস্থাতেই সুন্দরবনের ভেতরে সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত এলাকার খালে কোনো ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলার চলাচল করা যাবে না। ৩. পাশ নিয়ে কাঁকড়া আহরণের জন্য সুন্দরবনে ঢোকার সময় বন বিভাগের স্টেশন অফিস থেকে কঠোরভাবে সংশ্লিষ্ট নৌকা ও নৌকার লোকদের পরীক্ষা করতে হবে। যাতে কোনো চারু, বিষ বা অন্য কোনো বেআইনি জিনিস বনের ভেতরে ঢুকতে না পারে। ৪. প্রতিটি নৌকা পাশ নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশকালে তাদের কী কী করণীয় এবং কী করা দণ্ডনীয় সে সম্পর্কিত হ্যান্ডবিল/পোস্টার সরবরাহ করা যেতে পারে। ৫. দোন দড়ি পদ্ধতিতে কাঁকড়া আহরণ করে তা দুবলা জেলেপল্লীসহ সুন্দরবনের ভেতরে যেখানে নিষেধাজ্ঞা নেই সেখান থেকে সংগ্রহ করে দ্রুত বাজারজাত করতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা/ট্রলারে পরিবহণের অনুমতি দিতে হবে। ৬. বিষ বিক্রি বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কৃষি বিভাগ, মৎস্য বিভাগ ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়মিত সুন্দরবনসংলগ্ন বাজার, ওষুধের দোকানসহ কৃষির জন্য সার, ওষুধ ও বীজ বিক্রির দোকানগুলো অনুসন্ধান করতে হবে। ৭. পাশ সংগ্রহ করে সুন্দরবনে প্রবেশকালে বা অবস্থানকালে কাঁকড়া আহরণকারী ও মৎস্য জেলে বা অন্য পেশার ব্যক্তির কাছে বেআইনি দ্রব্য পাওয়া গেলে তাদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

বিষ দিয়ে ধরলে মাছশূন্য হবে সুন্দরবন

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৯ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিষ দিয়ে আহরণ অব্যাহত থাকলে একসময় পুরো সুন্দরবন এলাকা মাছশূন্য হয়ে যাবে এবং জীব ও উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের অনুলিপি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে আদালত বলেন, বিষ দিয়ে মাছ কিংবা চারু (বাঁশের শলার তৈরি চাঁই) পদ্ধতিতে কাঁকড়া শিকার করলে প্রয়োজনে ওই নৌকার সব আরোহীর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আল ফয়সাল সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। আল ফয়সাল সিদ্দিকী জানান, নিবন্ধিত ট্রলারে পশুর নদী ব্যবহার করে দুবলার চর থেকে সব ধরনের মাছ পরিবহণের অনুমতি আছে বন বিভাগের। তবে কাঁকড়া বহনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল না। ফলে কাঁকড়া ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পরিবহণের অনুমতি চেয়ে ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট প্রধান বন সংরক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করেন দাকোপ ও বটিয়াঘাটাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার কাঁকড়া আহরণকারীরা। কিন্তু বন বিভাগ ওই আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় তারা ওই বছরই হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

এরপর বন বিভাগ থেকে ওই বছর ৫ ডিসেম্বর আবেদনকারীদের জানানো হয়, কাঁকড়া পরিবহণের অনুমতি দেওয়া হবে না। ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে জাহান আলী গাজীসহ আটজন ২০১৯ সালে রিট আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের সাত দফা নির্দেশনাগুলো হলো- ১. রিটকারীরাসহ কাঁকড়া জেলেরা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সুন্দরবনের সংশ্লিষ্ট স্টেশন অফিসে নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব দিয়ে পাশ (অনুমতি) সংগ্রহ করে কেবল বৈঠাচালিত নৌকা এবং ‘দোন দড়ি’র মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজনের কাঁকড়া আহরণ করতে পারবেন। ২. কোনো অবস্থাতেই সুন্দরবনের ভেতরে সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত এলাকার খালে কোনো ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলার চলাচল করা যাবে না। ৩. পাশ নিয়ে কাঁকড়া আহরণের জন্য সুন্দরবনে ঢোকার সময় বন বিভাগের স্টেশন অফিস থেকে কঠোরভাবে সংশ্লিষ্ট নৌকা ও নৌকার লোকদের পরীক্ষা করতে হবে। যাতে কোনো চারু, বিষ বা অন্য কোনো বেআইনি জিনিস বনের ভেতরে ঢুকতে না পারে। ৪. প্রতিটি নৌকা পাশ নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশকালে তাদের কী কী করণীয় এবং কী করা দণ্ডনীয় সে সম্পর্কিত হ্যান্ডবিল/পোস্টার সরবরাহ করা যেতে পারে। ৫. দোন দড়ি পদ্ধতিতে কাঁকড়া আহরণ করে তা দুবলা জেলেপল্লীসহ সুন্দরবনের ভেতরে যেখানে নিষেধাজ্ঞা নেই সেখান থেকে সংগ্রহ করে দ্রুত বাজারজাত করতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা/ট্রলারে পরিবহণের অনুমতি দিতে হবে। ৬. বিষ বিক্রি বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কৃষি বিভাগ, মৎস্য বিভাগ ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়মিত সুন্দরবনসংলগ্ন বাজার, ওষুধের দোকানসহ কৃষির জন্য সার, ওষুধ ও বীজ বিক্রির দোকানগুলো অনুসন্ধান করতে হবে। ৭. পাশ সংগ্রহ করে সুন্দরবনে প্রবেশকালে বা অবস্থানকালে কাঁকড়া আহরণকারী ও মৎস্য জেলে বা অন্য পেশার ব্যক্তির কাছে বেআইনি দ্রব্য পাওয়া গেলে তাদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন