জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নেই তদন্ত চাই: মির্জা ফখরুল
jugantor
গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নেই তদন্ত চাই: মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৯ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে সংঘটিত গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নেই নিরপেক্ষ তদন্ত চায় বিএনপি। বৃহস্পতিবার বিকালে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন দাবি করে বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার অত্যন্ত সঙ্গতভাবে বলেছেন, এগুলোর সুষ্ঠু স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে। সেই সঙ্গে এসবের সঙ্গে জড়িতদের বিচার হতে হবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারেরে বক্তব্যের প্রতিক্রিয়াসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, দলের চেয়ারপারসনের সবশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে বিএনপির যে দাবি তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। আমরা এতদিন বলে আসছি, এখানে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা চলছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের বিবৃতিতে আছে শর্ট টার্ম ও লং টার্ম গুম হয়েছে। এমনকি তারা এটাও বলেছে যে, এসব ঘটনা তদন্তে নতুন টিম আসবে। তারা আশা করেন যে, সরকার তাদের অনুমতি দেবে। যদিও এর আগে কয়েকবার হিউম্যান রাইটস কমিশন আসতে চেয়েছিল। সরকার বাধা দিয়েছে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রায় ৬ শতাধিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের মানুষ ও শ্রমিক নেতাকে গুম করা হয়েছে। বেশিরভাগকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। একটা লোককে রাষ্ট্র গুম করবে, কিছু জানবে না! তার সব অধিকারকে ক্ষুণ্ন করা হবে, তার পরিবারকে মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে-এটা মেনে নেওয়া যায় না। এই ধরনের অপরাধ অবশ্যই খুঁজে বের করা দরকার। ‘গুম নিয়ে বিএনপির অভিযোগ বেশিরভাগই রাজনৈতিক’ ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-নেতাদের এমন বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, উনারা তো একথা বলবেনই। তবে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতিসংঘের কোনো ক্ষমতা নেই এসব গুম-অপহরণ হয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো বিচার করার। তার মানে স্বীকার করছেন, এসব ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এসব গুম-খুনের সঙ্গে সম্পূর্ণ রাষ্ট্র জড়িত এটা এখন প্রমাণিত। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ গুম, অত্যাচার-নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বুধবারের সমাবেশে তারা হুঙ্কার দিয়েছেন। বলা যেতে পারে হুমকি দিয়েছেন। এটাই তাদের চরিত্র। সংলাপ নিয়ে তিনি বলেন, সংলাপের পরিবেশ বাংলাদেশে নেই। এখানে রাজনৈতিক যে সংকট তার সমাধানই সম্ভব না যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন। যতক্ষণ না মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে, যতক্ষণ না এ সরকার পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে, সংসদ বাতিল না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সংলাপের প্রশ্নই উঠবে না।

বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, ম্যাডাম ভালো আছেন, কোনো সমস্যা নেই। হাসপাতাল থেকে যেমনি এসেছিলেন, সেরকমই আছেন। বুধবার রাতেও চিকিৎসকরা তাকে দেখতে গিয়েছিলেন, কিছু পরীক্ষাও করেছেন। চা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানোর কথাও বলেন বিএনপির মহাসচিব।

এদিকে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব দাবি করেন, সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। হাইকমিশনার উল্লেখ করেছেন, গুমসংক্রান্ত জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপকে আমন্ত্রণ জানালে তা হবে এটা সমাধানের জন্য সরকারের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ।

গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নেই তদন্ত চাই: মির্জা ফখরুল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৯ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে সংঘটিত গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নেই নিরপেক্ষ তদন্ত চায় বিএনপি। বৃহস্পতিবার বিকালে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন দাবি করে বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার অত্যন্ত সঙ্গতভাবে বলেছেন, এগুলোর সুষ্ঠু স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে। সেই সঙ্গে এসবের সঙ্গে জড়িতদের বিচার হতে হবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারেরে বক্তব্যের প্রতিক্রিয়াসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, দলের চেয়ারপারসনের সবশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে বিএনপির যে দাবি তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। আমরা এতদিন বলে আসছি, এখানে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা চলছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের বিবৃতিতে আছে শর্ট টার্ম ও লং টার্ম গুম হয়েছে। এমনকি তারা এটাও বলেছে যে, এসব ঘটনা তদন্তে নতুন টিম আসবে। তারা আশা করেন যে, সরকার তাদের অনুমতি দেবে। যদিও এর আগে কয়েকবার হিউম্যান রাইটস কমিশন আসতে চেয়েছিল। সরকার বাধা দিয়েছে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রায় ৬ শতাধিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের মানুষ ও শ্রমিক নেতাকে গুম করা হয়েছে। বেশিরভাগকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। একটা লোককে রাষ্ট্র গুম করবে, কিছু জানবে না! তার সব অধিকারকে ক্ষুণ্ন করা হবে, তার পরিবারকে মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে-এটা মেনে নেওয়া যায় না। এই ধরনের অপরাধ অবশ্যই খুঁজে বের করা দরকার। ‘গুম নিয়ে বিএনপির অভিযোগ বেশিরভাগই রাজনৈতিক’ ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-নেতাদের এমন বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, উনারা তো একথা বলবেনই। তবে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতিসংঘের কোনো ক্ষমতা নেই এসব গুম-অপহরণ হয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো বিচার করার। তার মানে স্বীকার করছেন, এসব ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এসব গুম-খুনের সঙ্গে সম্পূর্ণ রাষ্ট্র জড়িত এটা এখন প্রমাণিত। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ গুম, অত্যাচার-নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বুধবারের সমাবেশে তারা হুঙ্কার দিয়েছেন। বলা যেতে পারে হুমকি দিয়েছেন। এটাই তাদের চরিত্র। সংলাপ নিয়ে তিনি বলেন, সংলাপের পরিবেশ বাংলাদেশে নেই। এখানে রাজনৈতিক যে সংকট তার সমাধানই সম্ভব না যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন। যতক্ষণ না মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে, যতক্ষণ না এ সরকার পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে, সংসদ বাতিল না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সংলাপের প্রশ্নই উঠবে না।

বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, ম্যাডাম ভালো আছেন, কোনো সমস্যা নেই। হাসপাতাল থেকে যেমনি এসেছিলেন, সেরকমই আছেন। বুধবার রাতেও চিকিৎসকরা তাকে দেখতে গিয়েছিলেন, কিছু পরীক্ষাও করেছেন। চা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানোর কথাও বলেন বিএনপির মহাসচিব।

এদিকে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব দাবি করেন, সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। হাইকমিশনার উল্লেখ করেছেন, গুমসংক্রান্ত জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপকে আমন্ত্রণ জানালে তা হবে এটা সমাধানের জন্য সরকারের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন