১৩ ঘণ্টা পর পুলিশ বলল মামলার উপাদান নেই
jugantor
১৩ ঘণ্টা পর পুলিশ বলল মামলার উপাদান নেই
ঢাবিতে অধিকার পরিষদের ৩ নেতাকে পেটাল ছাত্রলীগ

  ঢাবি প্রতিনিধি  

২০ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফেসবুকে পোস্ট করা মেসেজে মামলার উপাদান না পাওয়ায় ১৩ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার পর ছেড়ে দেওয়া হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিফতাহুল মারুফকে। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র। এদিকে ছাড়া পাওয়ার পর মিফতাহুলকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের অন্তত তিনজন নেতাকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ। আহত অবস্থায় পরিষদের ঢাবি শাখার দপ্তর সম্পাদক সালেহউদ্দিন সিফাত, অর্থ সম্পাদক আহনাফ সাঈদ খান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পাদক আবদুল কাদেরকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সিফাত ও আহনাফকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আবাসিক হল সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৪তম ব্যাচের অফিসিয়াল নোটিশ গ্রুপে (মেসেঞ্জার) তার একটি মন্তব্য লিখে মেসেজ দেন। মারুফ লেখেন, ‘সিরিজ বোমা হামলা চালাইছে (চালিয়েছে) জামা’আতুল মুজাহিদীন নামে একটা জঙ্গি সংগঠন, বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে। সেই সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত। এই ক্ষমতায় থাকার জন্য যদি দায়ী তারা হয় তাহলে ২০০৮-বর্তমানে গুলশানসহ সব জঙ্গি হামলার জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ।’ মারুফের সেই মেসেজের স্কিনশট নিয়ে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন শান্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর মোবাইল ফোন চেক করে তাকে হল প্রভোস্টের কাছে তুলে দেন তিনি। প্রভোস্ট ওই একটা মেসেজের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রবিরোধিতার অভিযোগে প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয় মারুফকে। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের পর কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে একটি মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানায়, মাঝে মধ্যেই মেসেঞ্জার গ্রুপ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা, ডিবেট এসব হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসাবে আমরা এগুলোর চর্চার চেষ্টা করি। কিন্তু মারুফের ওই বক্তব্যের মধ্যে সন্দেহজনক কিছু থাকতে পারে সেটা কোনোভাবেই বোধগম্য নয়।

শুক্রবার দুপুরে শাহবাগ থানার ওসি মওদুত হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, তার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তার এলাকায় খোঁজ নিয়েছি। তার পরিবারের বড় দুই রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই সংশ্লিষ্টতা আছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে তার কোনো দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই। সে যে মন্তব্য করেছে এটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত মতামত। তাই আমরা তদন্তের পর তাকে একটি মুচলেকা দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষকদের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছি। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, এটা হল প্রশাসনের বিষয়। এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ কথা বলবেন। তদন্ত না করেই কেন থানায় দেওয়া হলো এমন প্রশ্ন করলে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, আমাদের জায়গা থেকে যতটুকু তদন্ত করা সম্ভব আমরা সেটা করেছি। এরপর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। বাকি কাজ তারা করেছে।

ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ছাত্রলীগের হামলা : ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে শুক্রবার দুপুরে ছাত্র অধিকার পরিষদের তিন নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। মিফতাহুলকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার সময় জসীমউদ্দীন হল ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়ালিউল সুমনের অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মী সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সোহান, আইন বিভাগের রেজাউল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তুষার, সাংবাদিকতা বিভাগের হেদায়েতুল ইসলামসহ ১০-১৫ জন হামলা চালায়। ঢাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে থানায় নিয়ে যাওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। সকাল থেকেই আমরা থানায় ছিলাম। দুপুর দেড়টার দিকে ছেড়ে দিলে তাকে নিয়ে আমরা প্রতিবাদ মিছিলের চেষ্টা করি। সেখান থেকে ফেরার পথে তিনজন হামলার শিকার হন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়ালিউল সুমনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকার কথা নয়।

প্রভোস্টের পদত্যাগ ও ছাত্রলীগের বিচার চায় ছাত্র অধিকার পরিষদ : শিক্ষার্থীকে বিনা অপরাধে পুলিশে দেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. বিল্লাল হোসেনের পদত্যাগ ও ছাত্রলীগের হামলার বিচার দাবি করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। শুক্রবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ থেকে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। সমাবেশ থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি করেন। ছাত্র অধিকার পরিষদের সাহিত্য সম্পাদক জাহিদ আহসানের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন- ছাত্র অধিকার পরিষদ সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাবি শাখার সভাপতি আখতার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন। উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হাসান, আবু হানিফসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

১৩ ঘণ্টা পর পুলিশ বলল মামলার উপাদান নেই

ঢাবিতে অধিকার পরিষদের ৩ নেতাকে পেটাল ছাত্রলীগ
 ঢাবি প্রতিনিধি 
২০ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফেসবুকে পোস্ট করা মেসেজে মামলার উপাদান না পাওয়ায় ১৩ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার পর ছেড়ে দেওয়া হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিফতাহুল মারুফকে। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র। এদিকে ছাড়া পাওয়ার পর মিফতাহুলকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের অন্তত তিনজন নেতাকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ। আহত অবস্থায় পরিষদের ঢাবি শাখার দপ্তর সম্পাদক সালেহউদ্দিন সিফাত, অর্থ সম্পাদক আহনাফ সাঈদ খান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পাদক আবদুল কাদেরকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সিফাত ও আহনাফকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আবাসিক হল সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৪তম ব্যাচের অফিসিয়াল নোটিশ গ্রুপে (মেসেঞ্জার) তার একটি মন্তব্য লিখে মেসেজ দেন। মারুফ লেখেন, ‘সিরিজ বোমা হামলা চালাইছে (চালিয়েছে) জামা’আতুল মুজাহিদীন নামে একটা জঙ্গি সংগঠন, বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে। সেই সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত। এই ক্ষমতায় থাকার জন্য যদি দায়ী তারা হয় তাহলে ২০০৮-বর্তমানে গুলশানসহ সব জঙ্গি হামলার জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ।’ মারুফের সেই মেসেজের স্কিনশট নিয়ে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন শান্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর মোবাইল ফোন চেক করে তাকে হল প্রভোস্টের কাছে তুলে দেন তিনি। প্রভোস্ট ওই একটা মেসেজের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রবিরোধিতার অভিযোগে প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয় মারুফকে। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের পর কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে একটি মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানায়, মাঝে মধ্যেই মেসেঞ্জার গ্রুপ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা, ডিবেট এসব হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসাবে আমরা এগুলোর চর্চার চেষ্টা করি। কিন্তু মারুফের ওই বক্তব্যের মধ্যে সন্দেহজনক কিছু থাকতে পারে সেটা কোনোভাবেই বোধগম্য নয়।

শুক্রবার দুপুরে শাহবাগ থানার ওসি মওদুত হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, তার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তার এলাকায় খোঁজ নিয়েছি। তার পরিবারের বড় দুই রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই সংশ্লিষ্টতা আছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে তার কোনো দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই। সে যে মন্তব্য করেছে এটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত মতামত। তাই আমরা তদন্তের পর তাকে একটি মুচলেকা দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষকদের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছি। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, এটা হল প্রশাসনের বিষয়। এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ কথা বলবেন। তদন্ত না করেই কেন থানায় দেওয়া হলো এমন প্রশ্ন করলে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, আমাদের জায়গা থেকে যতটুকু তদন্ত করা সম্ভব আমরা সেটা করেছি। এরপর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। বাকি কাজ তারা করেছে।

ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ছাত্রলীগের হামলা : ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে শুক্রবার দুপুরে ছাত্র অধিকার পরিষদের তিন নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। মিফতাহুলকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার সময় জসীমউদ্দীন হল ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়ালিউল সুমনের অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মী সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সোহান, আইন বিভাগের রেজাউল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তুষার, সাংবাদিকতা বিভাগের হেদায়েতুল ইসলামসহ ১০-১৫ জন হামলা চালায়। ঢাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে থানায় নিয়ে যাওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। সকাল থেকেই আমরা থানায় ছিলাম। দুপুর দেড়টার দিকে ছেড়ে দিলে তাকে নিয়ে আমরা প্রতিবাদ মিছিলের চেষ্টা করি। সেখান থেকে ফেরার পথে তিনজন হামলার শিকার হন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়ালিউল সুমনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকার কথা নয়।

প্রভোস্টের পদত্যাগ ও ছাত্রলীগের বিচার চায় ছাত্র অধিকার পরিষদ : শিক্ষার্থীকে বিনা অপরাধে পুলিশে দেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. বিল্লাল হোসেনের পদত্যাগ ও ছাত্রলীগের হামলার বিচার দাবি করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। শুক্রবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ থেকে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। সমাবেশ থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি করেন। ছাত্র অধিকার পরিষদের সাহিত্য সম্পাদক জাহিদ আহসানের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন- ছাত্র অধিকার পরিষদ সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাবি শাখার সভাপতি আখতার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন। উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হাসান, আবু হানিফসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন