কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে
jugantor
চট্টগ্রাম বন্দর
কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে
‘লয়েডস লিস্ট’ র‌্যাংকিংয়ে অবস্থান ৬৪তম

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম  

২০ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বৈশ্বিক তালিকায় তিন ধাপ এগিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। শিপিংবিষয়ক লন্ডনভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ‘লয়েডস লিস্ট’র ২০২২ সালের তালিকা থেকে বন্দরের এই অগ্রগতির কথা জানা যায়। বৃহস্পতিবার রাতে তালিকাটি প্রকাশ করা হয়। ২০২১ সালে বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরগুলো যে সংখ্যক কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে, তার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে এ তালিকা। তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের ১০০টি শীর্ষস্থানীয় বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান এখন ৬৪তম। আগে ছিল ৬৭তম।

বন্দর ও শিপিং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে লয়েডস লিস্টের র‌্যাংকিং বেশ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। প্রতিবছরই কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে বিশ্বের ১০০ শীর্ষ বন্দরের তালিকা তৈরি করে এই সংবাদ মাধ্যম। এ বছর যে র‌্যাংকিং করা হয়েছে, তাতে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৬৪তম। তার আগের বছর তালিকায় নয় ধাপ পিছিয়ে ৫৮তম স্থান থেকে নেমে ৬৭তম স্থানে গিয়েছিল। এই হিসাবে বৈশ্বিক এ র‌্যাংকিংয়ে এ বছর তিন ধাপ উন্নতি হলো। এটিকে একটি অগ্রগতি হিসাবে দেখছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। করোনা মহামারির মধ্যেও ২৪ ঘণ্টা বন্দর সচল রাখা এবং হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট ও ইয়ার্ড সুবিধা বাড়ানোর কারণে এই অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ৩২ লাখ ১৪ হাজার টিইইউএস (২০ ফুট সমমান) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। ২০২০ সালে হ্যান্ডলিং হয়েছিল ২৮ লাখ ৩৯ হাজার টিইইউএস কনটেইনার। অর্থাৎ গত এক বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ। মূলত এ প্রবৃদ্ধির কারণেই চট্টগ্রাম বন্দর র‌্যাংকিংয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে।

লয়েডস লিস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২০ সালে করোনার কারণে বিশ্বে কনটেইনার পরিবহণে নিুগতি ছিল। সীমিত আকারে কাজ হওয়ায় অনেক বন্দরে তৈরি হয়েছিল কনটেইনার জট। ২০২১ সালে বন্দরগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে। বেড়েছে কনটেইনার হ্যান্ডলিংও। চট্টগ্রাম বন্দরে দুধরনের জাহাজে পণ্য হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে। এর মধ্যে কনটেইনার জাহাজে হয় ২৭ শতাংশ। বাকি ৭৩ শতাংশ হয় সাধারণ জাহাজে, যার মধ্যে রয়েছে বাল্ক, ব্রেক বাল্ক ও ট্যাংকার। দেশের সমুদ্রপথে আমদানি-রপ্তানির ৯২ শতাংশই হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক যুগান্তরকে বলেন, ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কঠোর লকডাউন ছিল। অনেক শিল্পকারখানা ছিল বন্ধ। তাই সীমিত হয়ে পড়েছিল আমদানি-রপ্তানি। ফলে ওই বছর কনটেইনার হ্যান্ডলিং কিছুটা কম হয়েছে। তবে মহামারির প্রভাব কমে আসায় ২০২১ সালে বিশ্বের বন্দরগুলোতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে। তিনি বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর একদিনের জন্যও বন্ধ ছিল না। বিশ্বের বিভিন্ন বন্দর পণ্য হ্যান্ডলিং বন্ধ রাখলেও চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিকভাবেই কাজকর্ম হয়েছে। একইসঙ্গে আমরা বন্দরের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছি। পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের জন্য নতুন নতুন ইক্যুইপমেন্ট সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া ইয়ার্ডের আওতা বাড়ানো হয়েছে। বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। এছাড়া বন্দর ব্যবহারকারী, বার্থ অপারেটর, টার্মিনাল অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। এ কারণে লয়েডস লিস্টে আমরা এ বছর তিন ধাপ উপরে উঠতে সক্ষম হয়েছি। আশা করছি ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে ওমর ফারুক বলেন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল শিগগিরই চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এ টার্মিনাল চালু হলে বছরে আরও ৪-৫ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা যাবে। সেক্ষেত্রে সক্ষমতা আরও বাড়বে। লালদিয়ায় যে ৫৭ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানেও কনটেইনার রাখার সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর

কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে

‘লয়েডস লিস্ট’ র‌্যাংকিংয়ে অবস্থান ৬৪তম
 মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম 
২০ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বৈশ্বিক তালিকায় তিন ধাপ এগিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। শিপিংবিষয়ক লন্ডনভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ‘লয়েডস লিস্ট’র ২০২২ সালের তালিকা থেকে বন্দরের এই অগ্রগতির কথা জানা যায়। বৃহস্পতিবার রাতে তালিকাটি প্রকাশ করা হয়। ২০২১ সালে বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরগুলো যে সংখ্যক কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে, তার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে এ তালিকা। তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের ১০০টি শীর্ষস্থানীয় বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান এখন ৬৪তম। আগে ছিল ৬৭তম।

বন্দর ও শিপিং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে লয়েডস লিস্টের র‌্যাংকিং বেশ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। প্রতিবছরই কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে বিশ্বের ১০০ শীর্ষ বন্দরের তালিকা তৈরি করে এই সংবাদ মাধ্যম। এ বছর যে র‌্যাংকিং করা হয়েছে, তাতে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৬৪তম। তার আগের বছর তালিকায় নয় ধাপ পিছিয়ে ৫৮তম স্থান থেকে নেমে ৬৭তম স্থানে গিয়েছিল। এই হিসাবে বৈশ্বিক এ র‌্যাংকিংয়ে এ বছর তিন ধাপ উন্নতি হলো। এটিকে একটি অগ্রগতি হিসাবে দেখছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। করোনা মহামারির মধ্যেও ২৪ ঘণ্টা বন্দর সচল রাখা এবং হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট ও ইয়ার্ড সুবিধা বাড়ানোর কারণে এই অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ৩২ লাখ ১৪ হাজার টিইইউএস (২০ ফুট সমমান) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। ২০২০ সালে হ্যান্ডলিং হয়েছিল ২৮ লাখ ৩৯ হাজার টিইইউএস কনটেইনার। অর্থাৎ গত এক বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ। মূলত এ প্রবৃদ্ধির কারণেই চট্টগ্রাম বন্দর র‌্যাংকিংয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে।

লয়েডস লিস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২০ সালে করোনার কারণে বিশ্বে কনটেইনার পরিবহণে নিুগতি ছিল। সীমিত আকারে কাজ হওয়ায় অনেক বন্দরে তৈরি হয়েছিল কনটেইনার জট। ২০২১ সালে বন্দরগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে। বেড়েছে কনটেইনার হ্যান্ডলিংও। চট্টগ্রাম বন্দরে দুধরনের জাহাজে পণ্য হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে। এর মধ্যে কনটেইনার জাহাজে হয় ২৭ শতাংশ। বাকি ৭৩ শতাংশ হয় সাধারণ জাহাজে, যার মধ্যে রয়েছে বাল্ক, ব্রেক বাল্ক ও ট্যাংকার। দেশের সমুদ্রপথে আমদানি-রপ্তানির ৯২ শতাংশই হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক যুগান্তরকে বলেন, ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কঠোর লকডাউন ছিল। অনেক শিল্পকারখানা ছিল বন্ধ। তাই সীমিত হয়ে পড়েছিল আমদানি-রপ্তানি। ফলে ওই বছর কনটেইনার হ্যান্ডলিং কিছুটা কম হয়েছে। তবে মহামারির প্রভাব কমে আসায় ২০২১ সালে বিশ্বের বন্দরগুলোতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে। তিনি বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর একদিনের জন্যও বন্ধ ছিল না। বিশ্বের বিভিন্ন বন্দর পণ্য হ্যান্ডলিং বন্ধ রাখলেও চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিকভাবেই কাজকর্ম হয়েছে। একইসঙ্গে আমরা বন্দরের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছি। পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের জন্য নতুন নতুন ইক্যুইপমেন্ট সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া ইয়ার্ডের আওতা বাড়ানো হয়েছে। বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। এছাড়া বন্দর ব্যবহারকারী, বার্থ অপারেটর, টার্মিনাল অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। এ কারণে লয়েডস লিস্টে আমরা এ বছর তিন ধাপ উপরে উঠতে সক্ষম হয়েছি। আশা করছি ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে ওমর ফারুক বলেন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল শিগগিরই চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এ টার্মিনাল চালু হলে বছরে আরও ৪-৫ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা যাবে। সেক্ষেত্রে সক্ষমতা আরও বাড়বে। লালদিয়ায় যে ৫৭ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানেও কনটেইনার রাখার সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন