আধিপত্যের দ্বন্দ্বে খুন হয় শাহাদাত
jugantor
আধিপত্যের দ্বন্দ্বে খুন হয় শাহাদাত

  কুমিল্লা ব্যুরো  

২২ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় ধর্মসাগর পার্ক এলাকায় আধিপত্যের বিরোধেই এক কিশোর গ্যাংয়ের রবিউল হাসান শাহাদাতকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে আরেক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বলে জানিয়েছে র‌্যাব। ঘটনার দুদিনের মধ্যেই গ্রেফতার আসামিদের দেওয়া তথ্য ও সিসি ক্যামেরা ফুটেজের মাধ্যমে হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। শনিবার রাতে মূল আসামি মো. রতনসহ প্রধান ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ আরও ৭ জনকে গ্রেফতার করে।

কুমিল্লার র‌্যাব-১১ সিপিসি-২ এর অধিনায়ক মেজর সাকিব হোসেন রোববার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ১৯ আগস্ট বিকালে নগরীর পার্ক এলাকায় কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপের সদস্যরা শাহাদাতকে প্রকাশ্যে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। শাহাদাত নগরীর পুরাতন চৌধুরীপাড়ার শাহ আলম ভূঁইয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ২০ আগস্ট রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন শাহাদতের মা শাহানা বেগম। মামলায় ৩০ জনকে নামীয় ও আরও ৬-৭ অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তাৎক্ষণিকভাবে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একাধিক টিম মাঠপর্যায়ে তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হত্যায় সরাসরি জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়। শনিবার রাতে জেলার দেবিদ্বার ও কোতোয়ালি থানার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপের প্রধান রতনসহ ছয় সহযোগীকে। গ্রেফতাররা হলো, নগরীর ফৌজদারি এলাকার মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশেমের ছেলে মো. রতন (২০), জহির মিয়ার ছেলে আকাশ হোসেন (২০), শাহ আলমের ছেলে সিয়াম হোসেন (২০)। ভাটপাড়া এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে মো. তানজীদ (১৯), ফয়েজ আহমেদের ছেলে ইয়াসিন আরাফাত রাসেল (২১) ও বাঘমারা এলাকার মোহন মিয়ার ছেলে আসিফ হোসেন রিফাত (১৯)। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেখানো অবস্থান থেকে দুটি সুইচ গিয়ার ছুরি, চারটি বড় ছোরা ও একটি এন্টিকাটার উদ্ধার করা হয়।

মেজর সাকিব বলেন, আসামিদের দেওয়া তথ্য ও সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রতন গ্রুপের সদস্য রাব্বিল ধরে রাখা অবস্থায় তানজীদ সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে প্রথমে শাহাদাতকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। অন্য সদস্য রানা তাকে কিল-ঘুসি মারতে থাকে। এ অবস্থায় আকাশ ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকে শাহাদাতের পেটের বাম পাশে। এ সময় হাসিব, রিয়াজ, সানি, সাব্বির ও আরও কিছু সদস্য শাহাদাতকে লাথি ও ঘুসি মারতে থাকে এবং রাসেল, সিয়াম, আসিফ বড় ছুরি নিয়ে তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখে। এরপর নবী পিঠে বড় ছুরি দিয়ে আঘাত করলে শাহাদাত মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় রতন গ্রুপের সবাই পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা শাহাদাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, শাহাদাত কিশোর গ্যাং ঈগলের সদস্য ছিল। ৬-৭ মাস আগে শাহাদাতসহ কয়েকজন মিলে রতন গ্রুপের এক সদস্যকে মারধর করে। এতে উভয় গ্রুপের শত্রুতা সৃষ্টি হয়। রতন গ্রুপের সদস্যরা নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এবং ঈগল গ্রুপের সদস্যরা ৪-৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে। গত কয়েক মাস ধর্মসাগর পার্ক এলাকার আধিপত্য নিয়ে দুই গ্যাংয়ের স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। এরই মধ্যে বেশ কয়েক দফা ধাওয়া-পালটা ধাওয়াও হয়। সবশেষ শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে ঈগল সদস্যরা রতন গ্রুপের সদস্য তানজীদের ছোট ভাইকে মারধর করে। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, ঈগল গ্রুপের সদস্যদের যেখানেই পাবে সেখানেই প্রতিহত করবে। এ সময় তানজীদ এসে জানায় ঈগল গ্রুপের সদস্যরা পার্কে অবস্থান করছে। তখন রতনের নেতৃত্বে গ্রুপের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রসহ ঈগল গ্রুপের সদস্যদের আওয়ার লেডি অব ফাতেমা স্কুলের সামনে ধাওয়া করে। ধাওয়ার একপর্যায়ে ভিকটিম শাহাদাত দৌড়ে পালাতে না পারলে রাব্বিল তাকে ধরে ফেলে।

আধিপত্যের দ্বন্দ্বে খুন হয় শাহাদাত

 কুমিল্লা ব্যুরো 
২২ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় ধর্মসাগর পার্ক এলাকায় আধিপত্যের বিরোধেই এক কিশোর গ্যাংয়ের রবিউল হাসান শাহাদাতকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে আরেক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বলে জানিয়েছে র‌্যাব। ঘটনার দুদিনের মধ্যেই গ্রেফতার আসামিদের দেওয়া তথ্য ও সিসি ক্যামেরা ফুটেজের মাধ্যমে হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। শনিবার রাতে মূল আসামি মো. রতনসহ প্রধান ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ আরও ৭ জনকে গ্রেফতার করে।

কুমিল্লার র‌্যাব-১১ সিপিসি-২ এর অধিনায়ক মেজর সাকিব হোসেন রোববার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ১৯ আগস্ট বিকালে নগরীর পার্ক এলাকায় কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপের সদস্যরা শাহাদাতকে প্রকাশ্যে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। শাহাদাত নগরীর পুরাতন চৌধুরীপাড়ার শাহ আলম ভূঁইয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ২০ আগস্ট রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন শাহাদতের মা শাহানা বেগম। মামলায় ৩০ জনকে নামীয় ও আরও ৬-৭ অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তাৎক্ষণিকভাবে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একাধিক টিম মাঠপর্যায়ে তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হত্যায় সরাসরি জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়। শনিবার রাতে জেলার দেবিদ্বার ও কোতোয়ালি থানার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপের প্রধান রতনসহ ছয় সহযোগীকে। গ্রেফতাররা হলো, নগরীর ফৌজদারি এলাকার মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশেমের ছেলে মো. রতন (২০), জহির মিয়ার ছেলে আকাশ হোসেন (২০), শাহ আলমের ছেলে সিয়াম হোসেন (২০)। ভাটপাড়া এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে মো. তানজীদ (১৯), ফয়েজ আহমেদের ছেলে ইয়াসিন আরাফাত রাসেল (২১) ও বাঘমারা এলাকার মোহন মিয়ার ছেলে আসিফ হোসেন রিফাত (১৯)। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেখানো অবস্থান থেকে দুটি সুইচ গিয়ার ছুরি, চারটি বড় ছোরা ও একটি এন্টিকাটার উদ্ধার করা হয়।

মেজর সাকিব বলেন, আসামিদের দেওয়া তথ্য ও সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রতন গ্রুপের সদস্য রাব্বিল ধরে রাখা অবস্থায় তানজীদ সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে প্রথমে শাহাদাতকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। অন্য সদস্য রানা তাকে কিল-ঘুসি মারতে থাকে। এ অবস্থায় আকাশ ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকে শাহাদাতের পেটের বাম পাশে। এ সময় হাসিব, রিয়াজ, সানি, সাব্বির ও আরও কিছু সদস্য শাহাদাতকে লাথি ও ঘুসি মারতে থাকে এবং রাসেল, সিয়াম, আসিফ বড় ছুরি নিয়ে তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখে। এরপর নবী পিঠে বড় ছুরি দিয়ে আঘাত করলে শাহাদাত মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় রতন গ্রুপের সবাই পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা শাহাদাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, শাহাদাত কিশোর গ্যাং ঈগলের সদস্য ছিল। ৬-৭ মাস আগে শাহাদাতসহ কয়েকজন মিলে রতন গ্রুপের এক সদস্যকে মারধর করে। এতে উভয় গ্রুপের শত্রুতা সৃষ্টি হয়। রতন গ্রুপের সদস্যরা নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এবং ঈগল গ্রুপের সদস্যরা ৪-৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে। গত কয়েক মাস ধর্মসাগর পার্ক এলাকার আধিপত্য নিয়ে দুই গ্যাংয়ের স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। এরই মধ্যে বেশ কয়েক দফা ধাওয়া-পালটা ধাওয়াও হয়। সবশেষ শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে ঈগল সদস্যরা রতন গ্রুপের সদস্য তানজীদের ছোট ভাইকে মারধর করে। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, ঈগল গ্রুপের সদস্যদের যেখানেই পাবে সেখানেই প্রতিহত করবে। এ সময় তানজীদ এসে জানায় ঈগল গ্রুপের সদস্যরা পার্কে অবস্থান করছে। তখন রতনের নেতৃত্বে গ্রুপের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রসহ ঈগল গ্রুপের সদস্যদের আওয়ার লেডি অব ফাতেমা স্কুলের সামনে ধাওয়া করে। ধাওয়ার একপর্যায়ে ভিকটিম শাহাদাত দৌড়ে পালাতে না পারলে রাব্বিল তাকে ধরে ফেলে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন