১২ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানীতে ৩ খুন

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

১২ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানীতে তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ডেমরায় বিকাশ কর্র্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সবুজবাগে চোরের ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে কামরাঙ্গীরচরে পারিবারিক কলহের বলি হয়েছেন গৃহবধূ পিয়ারা বেগম।

পুলিশ জানায়, রোববার দুপুর ১২টার দিকে ডেমরায় বিকাশ এজেন্টের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর তার কাছ থেকে ৪৮ হাজার টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ডেমরার পূর্ব বক্সনগর এলাকার ওয়ানজা ডিস্ট্রিবিউশনের কর্মী রাশেদুল ইসলাম (২২) এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর আগে এ বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ওয়ানজা ডিস্ট্রিবিউশনের এক কর্মীকে কুপিয়ে আহত করে ছিনতাইকারীরা।

পুলিশ আরও জানায়, ওয়ানজা ডিস্ট্রিবিউশনের হয়ে রাশেদুল মাঠপর্যায়ে অর্থ সংগ্রহের কাজ করতেন। সকালে তিনি অর্থ সংগ্রহের কাজে বের হন। কয়েকটি দোকান থেকে অর্থ সংগ্রহের পর দুপুরের দিকে তিনি পূর্ব বক্সনগরের পিংকি টাওয়ার সংলগ্ন হারুন ভিলার সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবক পেছন থেকে তার ব্যাগ টান দেয়। কিন্তু তিনি ব্যাগ ছাড়েননি। এ সময় ব্যাগ নিয়ে টানাহেঁচড়া চলে। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা তার বাম হাতে গুলি করে। পরে মুখে আরও দুটি গুলি করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায় হেলমেট পরিহিত দুই যুবক। ডেমরা থানা পুলিশ জানায়, গুলিতে রাশেদুলের দাঁত ভেঙে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ রাশেদুলের পকেট থেকে ৪৮ হাজার টাকা উদ্ধার করে। ছিনিয়ে নেয়া ব্যাগেও ৪৮ হাজার টাকা ছিল।

পুলিশের ডেমরা জোনের সহকারী কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানার কদমতলী গ্রামের মো. আবদুল আলীমের ছেলে রাশেদুল ডেমরার সারুলিয়া বাজার সংলগ্ন আমীন টাওয়ারে থাকতেন। দুপুরে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে (মিটফোর্ড) পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে সবুজবাগের মাদারটেকে চোরের ছুরিকাঘাতে রাহাত মিয়া (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত ১২টার দিকে মাদারটেকের নতুন রাস্তা এলাকার ১৬৬/১০ নম্বর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। রাহাত পেশায় গাড়িচালক। তিনি পরিবার নিয়ে ওই বাড়িতে থাকতেন।

পুলিশ জানায়, গভীর রাতে মাদারটেক নতুন রাস্তা এলাকায় রাহাতদের বাড়িতে চোর ঢুকলে বাড়ির লোকজন টের পেয়ে যান। তারা চিৎকার করে চোরকে ধাওয়া করেন। বাড়ির নিচে সামনে পড়ে গেলে চোর রাহাতের পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর ভোরে তিনি মারা যান। সবুজবাগ থানার এসআই জহিরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, রাহাত খুনের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অজ্ঞাত চোরকে শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে কামরাঙ্গীরচরে পিয়ারা বেগম নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যা করেছে স্বামী সোহরাব হোসেন। রোববার সকালে পরকীয়া সন্দেহ ও পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর সোহরাবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অকপটে স্ত্রী হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, চার ছেলে ও স্ত্রী পিয়ারা বেগমকে নিয়ে কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ এলাকায় থাকেন সোহরাব। দিনমজুর সোহরাব নিয়মিত কাজে যেতেন না। অলস সময় কাটাতেই বেশি পছন্দ ছিল তার। কখনও রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন আবার কখনও ভ্যান চালাতেন। তার বড় ছেলে শামীম (১৬) ও মেজো ছেলে শরিফুল (১৩) কামরাঙ্গীরচর এলাকায় দোকানে কাজ করে। দুই ছেলের আয়ের ওপরই মূলত সংসার চলত। সোহরাবকে প্রায়ই কাজে যাওয়ার জন্য বলতেন পিয়ারা। তিনি কাজে যেতেন না। তিনি সব সময় সন্দেহ করতেন স্ত্রীর পরকীয়া রয়েছে। তিনি বাসায় থেকে স্ত্রীর ওপর নজরদারি করতেন। সংসারের অভাব এবং স্ত্রীকে সন্দেহ- এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। পুলিশ জানায়, শুক্রবার সোহরাব ও পিয়ারার মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জেরে সোহরাব বাসা থেকে চলে যান। শনিবার সকাল ৭টার দিকে সোহরাব বাসায় ফেরেন। এ সময় বড় ছেলে শামীম ও পিয়ারা ঘুমিয়েছিলেন। পিয়ারাকে ঘুম থেকে জেগে তুলে তিনি বলেন, আর ঢাকায় থাকবেন না তিনি। গ্রামের বাড়ি বরিশাল বাকেরগঞ্জের কলমকাঠি চলে যাবেন। সঙ্গে স্ত্রীকেও যেতে হবে। স্ত্রী গ্রামের বাড়ি যেতে রাজি না হওয়ায় আবারও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে পিয়ারার গলা কেটে তিনি পালিয়ে যান। পিয়ারাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ সোহরাবকে গ্রেফতার করে। রক্তমাখা ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। সোহরাবের ছেলে শামীম বলেন, তিনি মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন। হঠাৎ মায়ের চিৎকারে তার ঘুম ভাঙে। এ সময় বাবার হাতে রক্তমাখা ছুরি দেখে তিনিও চিৎকার দেন। তার মা রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় ছটফট করছিলেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে পড়েন। রক্তমাখা ছুরি রেখে তার বাবা পালিয়ে যান। কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি শাহীন ফকির জানান, স্ত্রী হত্যার কথা স্বীকার করেছেন সোহরাব। পরকীয়া সন্দেহ ও পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে তিনি হত্যা করেছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×