বিভিন্ন স্থানে সড়কে ফাটল-ধস

পাহাড় ধসের আশঙ্কায় রাঙ্গামাটিতে আতঙ্ক

সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি * লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং

  সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙ্গামাটি ১২ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাহাড় ধসের আশঙ্কায় রাঙ্গামাটিতে আতঙ্ক

অবিরাম বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে সড়কে ধস, ফাটল এবং গাছ উপড়ে পড়ায় রাঙ্গামাটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেরই আশঙ্কা পাহাড় ধসে পড়তে পারে। শুক্রবার থেকে থেমে থেমে ভারি, মাঝারি ও হালকা বৃষ্টিপাতের কারণে জনমনে এ ভয় ভর করেছে।

পাহাড়ের চূড়ায়, খাদে ও পাদদেশে যারা বসবাস করছেন তারা আছেন চূড়ান্ত আতঙ্কে। এদিকে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে বলা হচ্ছে। এ বিষয়ে শহরে ব্যাপক মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরেজমিন পরিদর্শনে মাঠে নেমেছে প্রশাসনের যৌথ টিম। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে আশ্রয় কেন্দ্র। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তাঁবু গেড়ে বসানো হচ্ছে জরুরি আশ্রয় কেন্দ্র। সোমবার থেকে জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন স্থানে সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক দল।

এদিকে সদরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কে ধসের খবর পাওয়া গেছে। রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছরের ঘটনায় বিধ্বস্ত হওয়া রাস্তা মেরামতে গাড়া গাছের খুঁটি উপড়ে গিয়ে নতুন করে ভাঙছে রাস্তা। শহরের ভেদভেদী, রেডিও সেন্টার, পাসপোর্ট অফিসের সামনে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও ধস শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাতে শহরের পুরনো বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন প্রধান সড়ক ধসে ধারক দেয়ালসহ পাশের বসতবাড়ির ওপর গিয়ে পড়ে। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পায় চারটি পরিবার। শনিবার ধসে গেছে শহরের উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান ভবন সংলগ্ন একটি ধারক দেয়াল।

রোববার রাতে শহরের চম্পকনগরের নতুন নির্মিত জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালকের অধিদফতর ভবনের ধারক দেয়াল ধসে পড়েছে কয়েকটি বসতবাড়ির ওপর। এতে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বসতবাড়ির মানুষেরা। তাদেরকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে দেয়ালটি বৃষ্টির কারণে নয়, অপরিকল্পিত ও নিুমানের কাজে ধসেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে নামে প্রশাসন ও দুর্যোগ মোকাবেলা কমিটির যৌথ দল। দলে জেলা প্রশাসক একেএম মামমুনুর রশিদ, রাঙ্গামাটি সদর জোনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ান-উল হক, জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর তাপস শীলসহ অন্য কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা ছিলেন।

শহরের রূপনগর এলাকা পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে। শহরে ২০ আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস নিষিদ্ধসহ লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে বলা হচ্ছে। তাঁবু গেড়ে জরুরি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। দুর্যোগ হলেই সঙ্গে সঙ্গে কবলিত লোকজনকে উদ্ধার করে অস্থায়ী জরুরি আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হবে। পরে আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হবে। দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে।

ত্রাণসামগ্রী ও উপকরণাদি মজুদ রাখা হয়েছে। অস্থায়ী জরুরি আশ্রয় কেন্দ্র বসাতে ২০০ তাঁবু পাওয়া গেছে। গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আর রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসসহ যে কোনো দুর্যোগে প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চাই না। এ জন্য সবার সতর্ক দরকার।

ভেদভেদী, যুব উন্নয়ন অফিস এলাকা, রাঙ্গাপানি, শিমুলতলী, রূপনগরসহ রাঙ্গামাটি শহর এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এখনও ঝুঁকিতে বসবাস করছেন অসংখ্য মানুষ। শুধু রাঙ্গামাটি শহরে ৩৩ স্থান এবং ৫৬৩ পরিবারকে পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভিটায় সাইনবোর্ড বসিয়ে বসবাসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ১৩ জুন ভয়াবহ পাহাড় ধসে রাঙ্গামাটিতে ৫ সেনাসদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত হন দেড় শতাধিক মানুষ। রাস্তাঘাট, সেতু, স্থাপনাসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ ৪৯০ পরিবারকে পাহাড় থেকে সরিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নগরীর ৪টি সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত ৯ পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে এসব পরিবারকে সরানো হয়। এ সময় অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৮০টি ঘরবাড়ি উচ্ছেদ এবং ব্যবহার অনুপযোগী করে দিয়ে সেখানে লাল পতাকা টানিয়ে দেয়া হয়। এ ছাড়া স্থানীয় ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পাহাড় ধসে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রতিবছরের মতো এবারও এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে।

পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা ৪৯০ পরিবারকে আমরা সরিয়ে নিয়েছি। পাহাড় ধসে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি রোধে এ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter