বদলিতে প্রাধান্য পাবে মেধা যোগ্যতা
jugantor
বদলিতে প্রাধান্য পাবে মেধা যোগ্যতা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আয়কর ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নে স্বচ্ছতা আনতে কর্মজীবন পরিকল্পনাসংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি হয়েছে। এর আওতায় আগামী দিনে ক্যাডার পর্যায়ের শূন্যপদ নির্ধারণ এবং পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ, প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি, পদায়ন ও বদলি করা হবে। কর্মকর্তাদের বদলিতে প্রাধান্য পাবে মেধা, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কর অঞ্চল ও বিশেষায়িত দপ্তরগুলোকে ৪ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে বদলি ও পদায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নীতিমালায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কর পরিদর্শন পরিদপ্তর, কর একাডেমি, কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চল ও বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে ‘ক’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। ‘খ’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে সেন্টার ইন্টিলিজেন্স সেল (সিআইসি), ঢাকার কর অঞ্চল, ঢাকা জেলার কর আপিল অঞ্চল ও বৃহৎ করদাতা ইউনিটকে (এলটিইউ-আয়কর)। ‘গ’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ জেলার কর অঞ্চল ও কর আপিল অঞ্চল। ‘ঘ’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে কুমিল্লা, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, বগুড়া ও রংপুর কর অঞ্চলকে।

নবনিয়োগপ্রাপ্ত ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত অফিসারদের প্রথম কর্মস্থল হবে ঢাকার বাইরে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের কর্মজীবন শুরু হবে ‘ঘ’ শ্রেণির দপ্তরে কাজের মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ, ঢাকার বাইরে। তবে তারা নিজ জেলায় পদায়িত হবে না। পদোন্নতি পাওয়া উপকর কমিশনারদের ২ বছরের জন্য ‘ঘ’ শ্রেণিতে প্রথম পদায়ন করা হবে। এরপর তাদের ঢাকায় আনা হবে, ‘খ’ শ্রেণিতে। এ ধরনের অফিসারদের কোম্পানি সার্কেলে পদায়নের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নেওয়া হবে। পদোন্নতি পাওয়া যুগ্ম কমিশনারদের প্রথমে পদায়ন করা হবে ‘ক’ ও ‘ঘ’ শ্রেণিতে ২ বছরের জন্য। অতিরিক্ত কমিশনারদের ক্ষেত্রে ‘ক’ ও ‘ঘ’ শ্রেণির পরিদর্শী রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসাবে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে পরবর্তী সময়ে ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণিদের পদায়ন করা হবে। অবশ্য কমিশনার পদে পদায়নের ক্ষেত্রে ‘ক’ শ্রেণির অফিসে কাজের অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। অন্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কমিশনারদের প্রথম কর্মস্থল হবে ট্যাক্সেস আপিলাত ট্রাইব্যুনাল ব্যতীত ‘গ’ ও ‘ঘ’ শ্রেণির দপ্তরে।

সূত্র জানায়, গত বোর্ড সভায় আয়কর কর্মকর্তাদের কর্মজীবন পরিকল্পনা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি এখন তা আদেশ আকারে জারির অপেক্ষায় আছে। নীতিমালাটি আদেশ আকারে জারির পর কর্মকর্তাদের পদায়ন-বদলির ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বদলি-পদায়নে স্বচ্ছতা আসবে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক সদস্য সৈয়দ আমিনুল করিম বলেন, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। দেখা যায় অনেক কর্মকর্তা চাকরিজীবনের শুরু থেকেই ঢাকায় কাজ করছেন। আবার অনেককে কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় ঢাকার বাইরে কাজ করতে হচ্ছে। নীতিমালাটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রোটেশন অনুযায়ী বদলি-পদায়ন করা গেলে অফিসারদের মধ্যে বৈষম্য দূর হবে, দক্ষতাও বাড়বে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ও বাড়বে। এতে ক্যাডার সার্ভিসে অসন্তোষ দূর হবে। তবে শর্ত হচ্ছে, শক্তভাবে নীতিমালাটি বাস্তবায়ন করতে হবে। নীতিমালায় কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণে জোর দেওয়া হয়েছে। নবনিয়োগপ্রাপ্ত অফিসার থেকে শুরু করে কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেমন নবনিয়োগপ্রাপ্তদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দুই সপ্তাহের জন্য অটোমেটেড ট্যাক্সপেয়ার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট, ফরেনসিক অ্যাকাউন্টিং ও মেটাডেটা অ্যানালাইসিসসহ অন্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

উপকমিশনার পদে পদোন্নতির পর কর্মকর্তাদের ন্যূনতম এক মাস বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এসব প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মকর্তাকে দেশে-বিদেশে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ভ্রমণে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একইভাবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত যুগ্ম কমিশনারদের এক মাসব্যাপী এবং অতিরিক্ত কমিশনারদের ১৫ দিনব্যাপী ট্যাক্সেশন পলিসি অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে হবে। বিসিএস কর একাডেমিতে এই প্রশিক্ষণ হবে। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে পাঠানো হবে। কমিশনারদের রেভিনিউ ফোরকাস্টিং অ্যান্ড ফিসক্যাল অ্যানালাইসিস প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে।

বদলিতে প্রাধান্য পাবে মেধা যোগ্যতা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আয়কর ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নে স্বচ্ছতা আনতে কর্মজীবন পরিকল্পনাসংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি হয়েছে। এর আওতায় আগামী দিনে ক্যাডার পর্যায়ের শূন্যপদ নির্ধারণ এবং পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ, প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি, পদায়ন ও বদলি করা হবে। কর্মকর্তাদের বদলিতে প্রাধান্য পাবে মেধা, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কর অঞ্চল ও বিশেষায়িত দপ্তরগুলোকে ৪ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে বদলি ও পদায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নীতিমালায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কর পরিদর্শন পরিদপ্তর, কর একাডেমি, কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চল ও বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে ‘ক’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। ‘খ’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে সেন্টার ইন্টিলিজেন্স সেল (সিআইসি), ঢাকার কর অঞ্চল, ঢাকা জেলার কর আপিল অঞ্চল ও বৃহৎ করদাতা ইউনিটকে (এলটিইউ-আয়কর)। ‘গ’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ জেলার কর অঞ্চল ও কর আপিল অঞ্চল। ‘ঘ’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে কুমিল্লা, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, বগুড়া ও রংপুর কর অঞ্চলকে।

নবনিয়োগপ্রাপ্ত ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত অফিসারদের প্রথম কর্মস্থল হবে ঢাকার বাইরে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের কর্মজীবন শুরু হবে ‘ঘ’ শ্রেণির দপ্তরে কাজের মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ, ঢাকার বাইরে। তবে তারা নিজ জেলায় পদায়িত হবে না। পদোন্নতি পাওয়া উপকর কমিশনারদের ২ বছরের জন্য ‘ঘ’ শ্রেণিতে প্রথম পদায়ন করা হবে। এরপর তাদের ঢাকায় আনা হবে, ‘খ’ শ্রেণিতে। এ ধরনের অফিসারদের কোম্পানি সার্কেলে পদায়নের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নেওয়া হবে। পদোন্নতি পাওয়া যুগ্ম কমিশনারদের প্রথমে পদায়ন করা হবে ‘ক’ ও ‘ঘ’ শ্রেণিতে ২ বছরের জন্য। অতিরিক্ত কমিশনারদের ক্ষেত্রে ‘ক’ ও ‘ঘ’ শ্রেণির পরিদর্শী রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসাবে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে পরবর্তী সময়ে ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণিদের পদায়ন করা হবে। অবশ্য কমিশনার পদে পদায়নের ক্ষেত্রে ‘ক’ শ্রেণির অফিসে কাজের অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। অন্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কমিশনারদের প্রথম কর্মস্থল হবে ট্যাক্সেস আপিলাত ট্রাইব্যুনাল ব্যতীত ‘গ’ ও ‘ঘ’ শ্রেণির দপ্তরে।

সূত্র জানায়, গত বোর্ড সভায় আয়কর কর্মকর্তাদের কর্মজীবন পরিকল্পনা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি এখন তা আদেশ আকারে জারির অপেক্ষায় আছে। নীতিমালাটি আদেশ আকারে জারির পর কর্মকর্তাদের পদায়ন-বদলির ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বদলি-পদায়নে স্বচ্ছতা আসবে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক সদস্য সৈয়দ আমিনুল করিম বলেন, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। দেখা যায় অনেক কর্মকর্তা চাকরিজীবনের শুরু থেকেই ঢাকায় কাজ করছেন। আবার অনেককে কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় ঢাকার বাইরে কাজ করতে হচ্ছে। নীতিমালাটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রোটেশন অনুযায়ী বদলি-পদায়ন করা গেলে অফিসারদের মধ্যে বৈষম্য দূর হবে, দক্ষতাও বাড়বে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ও বাড়বে। এতে ক্যাডার সার্ভিসে অসন্তোষ দূর হবে। তবে শর্ত হচ্ছে, শক্তভাবে নীতিমালাটি বাস্তবায়ন করতে হবে। নীতিমালায় কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণে জোর দেওয়া হয়েছে। নবনিয়োগপ্রাপ্ত অফিসার থেকে শুরু করে কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেমন নবনিয়োগপ্রাপ্তদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দুই সপ্তাহের জন্য অটোমেটেড ট্যাক্সপেয়ার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট, ফরেনসিক অ্যাকাউন্টিং ও মেটাডেটা অ্যানালাইসিসসহ অন্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

উপকমিশনার পদে পদোন্নতির পর কর্মকর্তাদের ন্যূনতম এক মাস বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এসব প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মকর্তাকে দেশে-বিদেশে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ভ্রমণে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একইভাবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত যুগ্ম কমিশনারদের এক মাসব্যাপী এবং অতিরিক্ত কমিশনারদের ১৫ দিনব্যাপী ট্যাক্সেশন পলিসি অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে হবে। বিসিএস কর একাডেমিতে এই প্রশিক্ষণ হবে। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে পাঠানো হবে। কমিশনারদের রেভিনিউ ফোরকাস্টিং অ্যান্ড ফিসক্যাল অ্যানালাইসিস প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন