শেয়ারবাজার ঘিরে ফের শঙ্কা
jugantor
ইতিবাচক থাকলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই
শেয়ারবাজার ঘিরে ফের শঙ্কা
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সুশাসন জরুরি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে শঙ্কার কারণ নেই

  মনির হোসেন  

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সপ্তাহব্যাপী ইতিবাচক ছিল শেয়ারবাজার। এক সপ্তাহে ৯ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। প্রতিদিনের গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ৮শ কোটি টাকা। বেড়েছে মূল্যসূচকও।

কিন্তু এরপরও বিনিয়োগকারীরা শঙ্কিত। কারণ এ লেনদেন স্বাভাবিক নয়। বাড়ানো হচ্ছে কৃত্রিমভাবে। কয়েকটি গ্রুপ ও বড় ব্রোকারেজ হাউজ মিলে নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির শেয়ার কিনে লেনদেন বাড়াচ্ছে। পর্যবেক্ষক মহলের অনেকে মনে করেন, এটা আসলে একটা ফাঁদ।

বছরের বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের ফাঁদ পাতা হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালীরা সুকৌশলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা বের করে নিয়ে যায়। যার খেসারত দিতে হয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।

এদিকে ফ্লোর প্রাইস (দাম কমার সর্বনিম্ন সীমা) দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে মূল্যসূচক। ফলে এই বাজার টেকসই নয়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজার টেকসই করতে হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো জরুরি। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, শঙ্কার কোনো কারণ নেই।

স্বাভাবিক নিয়মে একদিনে কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারে। অর্থাৎ আজ কোনো শেয়ারের দাম ১০০ টাকা থাকলে আগামীকাল তার দাম ১১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। আবার দাম কমলে তা ৯০ টাকার নিচে নামতে পারবে না।

শেয়ারবাজারের পরিভাষায় একে সার্কিট ব্রেকার বলা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক অর্থনীতিতে অস্থিরতাসহ নানা কারণে বাজারে টানা পতন চলছে। এ কারণে অস্থিরতা ঠেকাতে নতুন নিয়ম চালু করেছে। এর নাম শেয়ারের ‘ফ্লোর প্রাইস’। বিএসইসির নতুন নিয়ম অনুসারে কোনো শেয়ারের দামের ভিত্তি হবে আগের ৫ দিনের সর্বশেষ লেনদেনের (ক্লোজিং প্রাইস) গড় দর।

তবে শেয়ারের দাম ফ্লোর প্রাইসের নিচে নামতে পারবে না। কিন্তু দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারবে। ৩১ জুলাই থেকে তা কার্যকর হয়েছে। এর আগে করোনার সময়ে পতন ঠেকাতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে যে কোনো ফ্লোর প্রাইস উঠে যেতে পারে, বাজারে এ আতঙ্ক রয়েছে।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল যুগান্তরকে বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে লেনদেন ইতিবাচক। তবে দীর্ঘদিন থেকে এই বাজারে মূল সমস্যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট। সুশাসনের অভাব থেকে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বাজার টেকসই করতে হলে এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের নিশ্চয়তা দিতে হবে, কারসাজির মাধ্যমে কেউ তার পুঁজি হাতিয়ে নিলে অপরাধীর বিচার হতে হবে।’ এছাড়াও ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে পরামর্শ দেন তিনি।

গত সপ্তাহে ৫ দিনে ডিএসইতে ৯ হাজার ৯১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে ৫ দিনে ৯ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ১ হাজার ৯০২ কোটি টাকা।

এ হিসাবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৪২৩ কোটি টাকা। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন কমেছে ৮৪ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে প্রায় ৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে মূল্যসূচক ৫১ পয়েন্ট বেড়েছে। আর ডিএসই’র বাজারমূলধন ১ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ৫ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে গ্যাম্বলারদের (কারসাজি চক্র) আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। কারণ, কে কোন কোম্পানি কিনেছে, ওই তথ্য সার্ভিল্যান্স থেকে পাচার হয়ে যায়।

তাদের মতে, বাজারের গভীরতা খুবই কম। কারণ বর্তমানে বাজারে বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ১৮ লাখ ৪৪ হাজার। কিন্তু ৫ লাখ বা তার চেয়ে বেশি পুঁজি রয়েছে, এ ধরনের বিও অ্যাকাউন্ট ১ লাখের কাছাকাছি। এরমধ্যে কারও কারও একাধিক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

এগুলো বাদ দিলে ৫ লাখের উপরে নিট বিও অ্যাকাউন্ট ৫০ হাজারের কিছু বেশি। এরমধ্যে গ্যাম্বলার গ্রুপগুলোর ১০ থেকে ১২ হাজার অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে। এগুলো বাদ দিলে প্রকৃত বিনিয়োগকারী একবারে কম। এরপর বাজার তথ্য পাচার হয়ে যায়। ফলে বাজারের গভীরতা বাড়াতে হলে বড় কোম্পানি আনতে হবে। এতে বিনিয়োগকারী বাড়বে।

জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন, ‘বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের শঙ্কার কিছু নেই। কারণ সবকিছু নজরদারি করছে কমিশন।

কেউ কোনো অনিয়ম করলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ফ্লোর প্রাইসের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এটি উঠিয়ে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশন যখন মনে করবে, তখন মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে তুলে দেবে।’ এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের গুজবে প্রভাবিত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে সপ্তাহজুড়ে শীর্ষ দশ কোম্পানির ৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ৩২ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখানে বাজার উত্থান-পতনের রহস্য লুকিয়ে আছে। কেননা, বাজারে মোট কোম্পানি তিন শতাধিক। কিন্তু ১০ কোম্পানির লেনদেনই ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানিতে পরিকল্পিতভাবে লেনদেন হচ্ছে।

একক কোম্পানি হিসাবে গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। আলোচ্য সময়ে এ কোম্পানির লেনদেন ৬৩২ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে ওরিয়ন ফার্মার লেনদেন ৫৯৫ কোটি টাকা। এরপর লাফার্জ হোলসিম ৩৬৫ কোটি, জেএমআই হসপিটাল ২৯৪ কোটি, নাহী অ্যালুমিনিয়াম ২৪৩ কোটি, ইস্টার্ন হাউজিং ২৩৪ কোটি, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৯৫ কোটি, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ১৮৬, ন্যাশনাল পলিমার ১৬৭ এবং ওরিয়ন ইনফিউশনের ১৬৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের বাজারচিত্র : এককদিন হিসাবে ডিএসইতে বৃহস্পতিবার ৩৭৯টি কোম্পানির ৩১ কোটি ৭৮ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ১ হাজার ৮৭৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এরমধ্যে দাম বেড়েছে ৭২টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ১৮৮টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর ব্রড সূচক বৃহস্পতিবার আগের দিনের চেয়ে ১২ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৫৬০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৩৭৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক ৯৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৪১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ৫ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

ইতিবাচক থাকলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই

শেয়ারবাজার ঘিরে ফের শঙ্কা

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সুশাসন জরুরি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে শঙ্কার কারণ নেই
 মনির হোসেন 
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সপ্তাহব্যাপী ইতিবাচক ছিল শেয়ারবাজার। এক সপ্তাহে ৯ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। প্রতিদিনের গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ৮শ কোটি টাকা। বেড়েছে মূল্যসূচকও।

কিন্তু এরপরও বিনিয়োগকারীরা শঙ্কিত। কারণ এ লেনদেন স্বাভাবিক নয়। বাড়ানো হচ্ছে কৃত্রিমভাবে। কয়েকটি গ্রুপ ও বড় ব্রোকারেজ হাউজ মিলে নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির শেয়ার কিনে লেনদেন বাড়াচ্ছে। পর্যবেক্ষক মহলের অনেকে মনে করেন, এটা আসলে একটা ফাঁদ।

বছরের বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের ফাঁদ পাতা হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালীরা সুকৌশলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা বের করে নিয়ে যায়। যার খেসারত দিতে হয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।

এদিকে ফ্লোর প্রাইস (দাম কমার সর্বনিম্ন সীমা) দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে মূল্যসূচক। ফলে এই বাজার টেকসই নয়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজার টেকসই করতে হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো জরুরি। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, শঙ্কার কোনো কারণ নেই।

স্বাভাবিক নিয়মে একদিনে কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারে। অর্থাৎ আজ কোনো শেয়ারের দাম ১০০ টাকা থাকলে আগামীকাল তার দাম ১১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। আবার দাম কমলে তা ৯০ টাকার নিচে নামতে পারবে না।

শেয়ারবাজারের পরিভাষায় একে সার্কিট ব্রেকার বলা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক অর্থনীতিতে অস্থিরতাসহ নানা কারণে বাজারে টানা পতন চলছে। এ কারণে অস্থিরতা ঠেকাতে নতুন নিয়ম চালু করেছে। এর নাম শেয়ারের ‘ফ্লোর প্রাইস’। বিএসইসির নতুন নিয়ম অনুসারে কোনো শেয়ারের দামের ভিত্তি হবে আগের ৫ দিনের সর্বশেষ লেনদেনের (ক্লোজিং প্রাইস) গড় দর।

তবে শেয়ারের দাম ফ্লোর প্রাইসের নিচে নামতে পারবে না। কিন্তু দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারবে। ৩১ জুলাই থেকে তা কার্যকর হয়েছে। এর আগে করোনার সময়ে পতন ঠেকাতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে যে কোনো ফ্লোর প্রাইস উঠে যেতে পারে, বাজারে এ আতঙ্ক রয়েছে।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল যুগান্তরকে বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে লেনদেন ইতিবাচক। তবে দীর্ঘদিন থেকে এই বাজারে মূল সমস্যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট। সুশাসনের অভাব থেকে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বাজার টেকসই করতে হলে এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের নিশ্চয়তা দিতে হবে, কারসাজির মাধ্যমে কেউ তার পুঁজি হাতিয়ে নিলে অপরাধীর বিচার হতে হবে।’ এছাড়াও ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে পরামর্শ দেন তিনি।

গত সপ্তাহে ৫ দিনে ডিএসইতে ৯ হাজার ৯১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে ৫ দিনে ৯ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ১ হাজার ৯০২ কোটি টাকা।

এ হিসাবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৪২৩ কোটি টাকা। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন কমেছে ৮৪ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে প্রায় ৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে মূল্যসূচক ৫১ পয়েন্ট বেড়েছে। আর ডিএসই’র বাজারমূলধন ১ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ৫ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে গ্যাম্বলারদের (কারসাজি চক্র) আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। কারণ, কে কোন কোম্পানি কিনেছে, ওই তথ্য সার্ভিল্যান্স থেকে পাচার হয়ে যায়।

তাদের মতে, বাজারের গভীরতা খুবই কম। কারণ বর্তমানে বাজারে বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ১৮ লাখ ৪৪ হাজার। কিন্তু ৫ লাখ বা তার চেয়ে বেশি পুঁজি রয়েছে, এ ধরনের বিও অ্যাকাউন্ট ১ লাখের কাছাকাছি। এরমধ্যে কারও কারও একাধিক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

এগুলো বাদ দিলে ৫ লাখের উপরে নিট বিও অ্যাকাউন্ট ৫০ হাজারের কিছু বেশি। এরমধ্যে গ্যাম্বলার গ্রুপগুলোর ১০ থেকে ১২ হাজার অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে। এগুলো বাদ দিলে প্রকৃত বিনিয়োগকারী একবারে কম। এরপর বাজার তথ্য পাচার হয়ে যায়। ফলে বাজারের গভীরতা বাড়াতে হলে বড় কোম্পানি আনতে হবে। এতে বিনিয়োগকারী বাড়বে।

জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন, ‘বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের শঙ্কার কিছু নেই। কারণ সবকিছু নজরদারি করছে কমিশন।

কেউ কোনো অনিয়ম করলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ফ্লোর প্রাইসের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এটি উঠিয়ে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশন যখন মনে করবে, তখন মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে তুলে দেবে।’ এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের গুজবে প্রভাবিত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে সপ্তাহজুড়ে শীর্ষ দশ কোম্পানির ৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ৩২ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখানে বাজার উত্থান-পতনের রহস্য লুকিয়ে আছে। কেননা, বাজারে মোট কোম্পানি তিন শতাধিক। কিন্তু ১০ কোম্পানির লেনদেনই ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানিতে পরিকল্পিতভাবে লেনদেন হচ্ছে।

একক কোম্পানি হিসাবে গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। আলোচ্য সময়ে এ কোম্পানির লেনদেন ৬৩২ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে ওরিয়ন ফার্মার লেনদেন ৫৯৫ কোটি টাকা। এরপর লাফার্জ হোলসিম ৩৬৫ কোটি, জেএমআই হসপিটাল ২৯৪ কোটি, নাহী অ্যালুমিনিয়াম ২৪৩ কোটি, ইস্টার্ন হাউজিং ২৩৪ কোটি, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৯৫ কোটি, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ১৮৬, ন্যাশনাল পলিমার ১৬৭ এবং ওরিয়ন ইনফিউশনের ১৬৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের বাজারচিত্র : এককদিন হিসাবে ডিএসইতে বৃহস্পতিবার ৩৭৯টি কোম্পানির ৩১ কোটি ৭৮ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ১ হাজার ৮৭৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এরমধ্যে দাম বেড়েছে ৭২টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ১৮৮টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর ব্রড সূচক বৃহস্পতিবার আগের দিনের চেয়ে ১২ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৫৬০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৩৭৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক ৯৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৪১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ৫ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন