গৃহকর নিয়ে মুখোমুখি চসিক ও করদাতা সুরক্ষা পরিষদ
jugantor
গৃহকর নিয়ে মুখোমুখি চসিক ও করদাতা সুরক্ষা পরিষদ
পালটাপালটি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত নগরী * মেয়রের বিরুদ্ধে আপত্তিকর বক্তব্য

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গৃহকর আদায় নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও করদাতা সুরক্ষা পরিষদ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।

উভয়পক্ষ পালটাপালটি কর্মসূচি পালন করায় ও রাজপথে নামায় বন্দরনগরী উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। করদাতা সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি রোববার চসিক মেয়রকে ‘গুন্ডা’ সম্বোধন করে নগর ছাড়ার হুমকি দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আজ মাদারবাড়ীতে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।

চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীকে ‘গুন্ডা’ সম্বোধন করে করদাতা সুরক্ষা পরিষদ সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আবছার চৌধুরী হুমকি-ধমকি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুরুল আবছারের বক্তব্য ভাইরাল হলে মেয়রের লোকজন ক্ষুব্ধ হন। আবছার চৌধুরীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। পাশাপাশি নগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন মেয়রের লোকজন।

বৃহস্পতিবার মেয়রের পক্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নগর যুবলীগ মিছিল-সমাবেশ করে। অপরদিকে, করদাতা সুরক্ষা পরিষদও পালটা সমাবেশ করছে।

রোববার মাদারবাড়ীতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল আবছার বলেন, ‘ওবা মেয়র সাব, অনে আর আব্বাজান, অনে আর চাচা, অনে জেডা, অনে আর খালু, অনে আরে মাপ গরি দন। আই গরিব মানুষ। আরা ১১টি ট্যাক্স দিয়ে এ শহরে বসবাস করছি। এ বেডা, এ মেয়র, আরা আরার বাপর ভিডাত বসবাস করিরদে, তোর বাপর ভিডাত বসবাস নগরির। খাজনা বিদ্যুৎ, পানি, ইনকাম ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ট্যাক্স দি, বসবাস গরির দে। তুই হন গুন্ডা আইস্যুসদে। আঁরারে অ’ল তুলি হতা হাইবার লাইস। এ মেয়র তুমি সাবধান হয়ে যাওয়া। তুমি সাবধান হয়ে যাওয়া। তোমাকে সাবধান বাণী দিচ্ছে। চোদর-বোদর কথাবার্তা হলে তোয়ারতে এ চট্টগ্রাম ছাড়ি যনগুই পরিব।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও মেয়রের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে এর আগে কেউ এমনভাবে কথা বলেননি। এ বক্তব্যকে করদাতাদের স্বার্থরক্ষার সাহসী বক্তব্য বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। তবে এ বক্তব্যে মেয়রের লোকজন খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

তারা বলছেন, একজন নগরপিতা ও প্রতিমন্ত্রীকে এমন গালাগাল করা বা হুমকি-ধমকি দেওয়া ঠিক নয়। মঙ্গলবার রাতে মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী মোস্তফা কামাল চৌধুরী দুলাল বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নগরীর চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন। পাশাপাশি দুদিন ধরে মেয়রের অনুসারীরা নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছেন।

নুরুল আবছারের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলররা। বুধবার প্রতিবাদ জানায় চসিক সিবিএ। বৃহস্পতিবার স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে। অন্যদিকে, করদাতা সুরক্ষা পরিষদও কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

বুধবার কদমতলীতে সভা করার পর আজ বিকালে কদমতলী থেকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব পর্যন্ত গণমিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে। মহাসমাবেশ, গণশুনানিসহ নানা কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে পালন করবে।

চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদ নেতা হাসান মারুফ রুমী জানান, ১৯৮৬ সালে ‘সিটি করপোরেশন ট্যাক্সেন রুলস’ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অধ্যাদেশ জারির ৩৬ বছর পর কোথাও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। অথচ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বাড়িভাড়ার আয়কে ভিত্তি ধরে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করছে। যা বাড়ি মালিকদের ওপর বাড়তি করের বোঝা চাপছে। পৃথিবীর কোথাও হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়িভাড়ার আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় না। তিনি আরও বলেন, এ অধ্যাদেশ বাতিল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভারপ্রাপ্ত মেয়র আফরোজা জহুরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চসিক সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন আইন মেনেই গৃহকর আদায় করা হচ্ছে।

গৃহকর নিয়ে মুখোমুখি চসিক ও করদাতা সুরক্ষা পরিষদ

পালটাপালটি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত নগরী * মেয়রের বিরুদ্ধে আপত্তিকর বক্তব্য
 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গৃহকর আদায় নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও করদাতা সুরক্ষা পরিষদ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।

উভয়পক্ষ পালটাপালটি কর্মসূচি পালন করায় ও রাজপথে নামায় বন্দরনগরী উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। করদাতা সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি রোববার চসিক মেয়রকে ‘গুন্ডা’ সম্বোধন করে নগর ছাড়ার হুমকি দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আজ মাদারবাড়ীতে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।

চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীকে ‘গুন্ডা’ সম্বোধন করে করদাতা সুরক্ষা পরিষদ সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আবছার চৌধুরী হুমকি-ধমকি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুরুল আবছারের বক্তব্য ভাইরাল হলে মেয়রের লোকজন ক্ষুব্ধ হন। আবছার চৌধুরীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। পাশাপাশি নগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন মেয়রের লোকজন।

বৃহস্পতিবার মেয়রের পক্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নগর যুবলীগ মিছিল-সমাবেশ করে। অপরদিকে, করদাতা সুরক্ষা পরিষদও পালটা সমাবেশ করছে।

রোববার মাদারবাড়ীতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল আবছার বলেন, ‘ওবা মেয়র সাব, অনে আর আব্বাজান, অনে আর চাচা, অনে জেডা, অনে আর খালু, অনে আরে মাপ গরি দন। আই গরিব মানুষ। আরা ১১টি ট্যাক্স দিয়ে এ শহরে বসবাস করছি। এ বেডা, এ মেয়র, আরা আরার বাপর ভিডাত বসবাস করিরদে, তোর বাপর ভিডাত বসবাস নগরির। খাজনা বিদ্যুৎ, পানি, ইনকাম ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ট্যাক্স দি, বসবাস গরির দে। তুই হন গুন্ডা আইস্যুসদে। আঁরারে অ’ল তুলি হতা হাইবার লাইস। এ মেয়র তুমি সাবধান হয়ে যাওয়া। তুমি সাবধান হয়ে যাওয়া। তোমাকে সাবধান বাণী দিচ্ছে। চোদর-বোদর কথাবার্তা হলে তোয়ারতে এ চট্টগ্রাম ছাড়ি যনগুই পরিব।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও মেয়রের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে এর আগে কেউ এমনভাবে কথা বলেননি। এ বক্তব্যকে করদাতাদের স্বার্থরক্ষার সাহসী বক্তব্য বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। তবে এ বক্তব্যে মেয়রের লোকজন খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

তারা বলছেন, একজন নগরপিতা ও প্রতিমন্ত্রীকে এমন গালাগাল করা বা হুমকি-ধমকি দেওয়া ঠিক নয়। মঙ্গলবার রাতে মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী মোস্তফা কামাল চৌধুরী দুলাল বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নগরীর চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন। পাশাপাশি দুদিন ধরে মেয়রের অনুসারীরা নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছেন।

নুরুল আবছারের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলররা। বুধবার প্রতিবাদ জানায় চসিক সিবিএ। বৃহস্পতিবার স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে। অন্যদিকে, করদাতা সুরক্ষা পরিষদও কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

বুধবার কদমতলীতে সভা করার পর আজ বিকালে কদমতলী থেকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব পর্যন্ত গণমিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে। মহাসমাবেশ, গণশুনানিসহ নানা কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে পালন করবে।

চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদ নেতা হাসান মারুফ রুমী জানান, ১৯৮৬ সালে ‘সিটি করপোরেশন ট্যাক্সেন রুলস’ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অধ্যাদেশ জারির ৩৬ বছর পর কোথাও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। অথচ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বাড়িভাড়ার আয়কে ভিত্তি ধরে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করছে। যা বাড়ি মালিকদের ওপর বাড়তি করের বোঝা চাপছে। পৃথিবীর কোথাও হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়িভাড়ার আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় না। তিনি আরও বলেন, এ অধ্যাদেশ বাতিল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভারপ্রাপ্ত মেয়র আফরোজা জহুরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চসিক সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন আইন মেনেই গৃহকর আদায় করা হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন