গৌরনদীতে নারীকে কুপিয়ে হত্যা
jugantor
গৌরনদীতে নারীকে কুপিয়ে হত্যা
ছাত্রলীগ-যুবলীগের ১৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

  গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের গৌরনদীতে শুকুরন বেগম (৫০) নামে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ সময় হামলাকারীরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে ৩ নারীসহ ৫ জনকে আহত এবং একটি বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। গরুর ঘাস কাটা নিয়ে হাতাহাতির জেরে বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের বংকুরা গ্রামের দুলাল বয়াতির বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। শুকুরন দুলাল বয়াতির বোন এবং একই গ্রামের হারুন তালুকদারের স্ত্রী। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

নিহতের স্বজন, থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, বংকুরা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী বারেক ব্যাপারীর জমির ঘাস কেটে নেওয়ার অভিযোগ আনায় মঙ্গলবার সকালে দুলাল বয়াতি ও তার বোন শুকুরন বেগমের সঙ্গে বারেকের স্ত্রী রিনা বেগমের ঝগড়া হয়। এর জেরে রিনা বেগম ওইদিন সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে দুলাল বয়াতিকে পেয়ে জুতাপেটা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সময় রিনা বেগম তার জামাতা যুবলীগকর্মী নাসির কাজীকে খবর দেন। খবর পেয়ে নাসির কাজী ও উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা শজিবুর রহমান ওরফে জিয়া হাওলাদারসহ আরও ২০/২৫ জন ক্যাডার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে দুলাল বয়াতির বাড়িতে হামলা চালায়। তারা দুলালের বোন শুকুরন বেগম (৫০), মিনার বেগম (৪০), দুলালের স্ত্রী শিল্পী বেগম (৪০), ছেলে আবু হানিফ বয়াতি (২২), মেয়ে স্কুলছাত্রী মনিকা বেগমসহ (১৫) ৬ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় তারা দুলাল বয়াতির (৪৫) বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। আহতদের রাত ৮টার দিকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুকুরন বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। শুকুরন বেগমের মাথায় কোপ লেগেছিল।

নিহতের ভাতিজা ও দুলাল বয়াতির ছেলে আবু হানিফ বয়াতি অভিযোগ করেন, ‘যুবলীগকর্মী নাসির কাজী ও ছাত্রলীগ নেতা শজিবুর রহমান জিয়ার নেতৃত্ব ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী রামদাসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের বাড়িতে এ হামলা চালায়।’

জানাতে চাইলে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাহাবুব আলম ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম সান্টু ভূইয়া জানান, এ হামলার সঙ্গে যুব ও ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নেই। একটি কুচক্রী মহল গৌরনদীর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গৌরনদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হেলালউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রাতেই শুকুরনের লাশ উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার সকালে লাশ বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় আবু হানিফ বয়াতি বাদী হয়ে নাসির কাজী, জিয়া হাওলাদারসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গৌরনদীতে নারীকে কুপিয়ে হত্যা

ছাত্রলীগ-যুবলীগের ১৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
 গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের গৌরনদীতে শুকুরন বেগম (৫০) নামে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ সময় হামলাকারীরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে ৩ নারীসহ ৫ জনকে আহত এবং একটি বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। গরুর ঘাস কাটা নিয়ে হাতাহাতির জেরে বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের বংকুরা গ্রামের দুলাল বয়াতির বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। শুকুরন দুলাল বয়াতির বোন এবং একই গ্রামের হারুন তালুকদারের স্ত্রী। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

নিহতের স্বজন, থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, বংকুরা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী বারেক ব্যাপারীর জমির ঘাস কেটে নেওয়ার অভিযোগ আনায় মঙ্গলবার সকালে দুলাল বয়াতি ও তার বোন শুকুরন বেগমের সঙ্গে বারেকের স্ত্রী রিনা বেগমের ঝগড়া হয়। এর জেরে রিনা বেগম ওইদিন সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে দুলাল বয়াতিকে পেয়ে জুতাপেটা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সময় রিনা বেগম তার জামাতা যুবলীগকর্মী নাসির কাজীকে খবর দেন। খবর পেয়ে নাসির কাজী ও উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা শজিবুর রহমান ওরফে জিয়া হাওলাদারসহ আরও ২০/২৫ জন ক্যাডার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে দুলাল বয়াতির বাড়িতে হামলা চালায়। তারা দুলালের বোন শুকুরন বেগম (৫০), মিনার বেগম (৪০), দুলালের স্ত্রী শিল্পী বেগম (৪০), ছেলে আবু হানিফ বয়াতি (২২), মেয়ে স্কুলছাত্রী মনিকা বেগমসহ (১৫) ৬ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় তারা দুলাল বয়াতির (৪৫) বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। আহতদের রাত ৮টার দিকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুকুরন বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। শুকুরন বেগমের মাথায় কোপ লেগেছিল।

নিহতের ভাতিজা ও দুলাল বয়াতির ছেলে আবু হানিফ বয়াতি অভিযোগ করেন, ‘যুবলীগকর্মী নাসির কাজী ও ছাত্রলীগ নেতা শজিবুর রহমান জিয়ার নেতৃত্ব ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী রামদাসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের বাড়িতে এ হামলা চালায়।’

জানাতে চাইলে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাহাবুব আলম ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম সান্টু ভূইয়া জানান, এ হামলার সঙ্গে যুব ও ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নেই। একটি কুচক্রী মহল গৌরনদীর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গৌরনদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হেলালউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রাতেই শুকুরনের লাশ উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার সকালে লাশ বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় আবু হানিফ বয়াতি বাদী হয়ে নাসির কাজী, জিয়া হাওলাদারসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন