অস্ট্রেলিয়ার কোটি মানুষের তথ্য চুরি
jugantor
ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ‘সাইবার হামলা’
অস্ট্রেলিয়ার কোটি মানুষের তথ্য চুরি

  যুগান্তর ডেস্ক  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অস্ট্রেলিয়ার প্রায় এক কোটি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়েছে। গত সপ্তাহে দেশটির টেলিকমিউনিকেশন খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান অপটাস থেকে তথ্য চুরি হয়। অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার ৪০ ভাগ লোকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঘটনাকে ‘সাইবার হামলা’ হিসাবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তথ্য চুরির ঘটনা। পাসপোর্ট বা লাইসেন্স নাম্বার চুরি হওয়ায় প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। খবর বিবিসির।

অস্ট্রেলিয়ার টেলিকম খাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান অপটাস জানায়, তাদের সাবেক ও বর্তমান গ্রাহকদের ডাটা (তথ্য) চুরি হয়েছে। এরমধ্যে আছে-নাম, জন্ম তারিখ, ফোন নাম্বার, ই-মেইল ঠিকানা, পাসপোর্ট নাম্বার এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স নাম্বার। তবে তাদের দাবি-পেমেন্ট বিষয়ক তথ্যাদি ও অ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ড হ্যাক হয়নি। অপটাস সিঙ্গাপুর টেলিকমিউনিকেশন লি.-এর সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর তারা প্রকাশ করে-নেটওয়ার্কে সন্দেহভাজন কার্যক্রমের বিষয়টি তাদের দৃষ্টিতে এসেছে। অপটাসের কর্মকর্তারা জানান, তারা তদন্ত করছে। এছাড়া পুলিশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানিয়েছে। ঘটনার জন্য আবেগময় ভাষায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন অপটাসের প্রধান নির্বাহী কেলি বায়ের রোজমারিন। এটিকে ‘নিখুঁত হামলা’ আখ্যায়িত করে তিনি দাবি করেন-তার কোম্পানির সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই শক্তিশালী। অবশ্যই আমি ক্ষুব্ধ ও হতাশ। কারণ আমরা সেটি ঠেকাতে পারিনি। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব বলেন।

শনিবার একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী একটি অনলাইন ফোরামে কিছু নমুনা প্রকাশ করেন এবং অপটাস থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে এক মিলিয়ন ডলার মুক্তিপণ দাবি করেন। কোম্পানিটিকে এটি পরিশোধের জন্য এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। তা না হলে চুরি করা তথ্য বিক্রির হুমকি দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা এখনো ওই ব্যক্তির দাবির বিষয়টি যাচাই করে দেখতে পারেনি। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন-প্রকাশিত নমুনার কিছু তাদের কাছে সত্যি মনে হয়েছে।

সিডনিভিত্তিক টেক রিপোর্টার জেরেমি কির্ক কথিত সেই হ্যাকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, কীভাবে তথ্য চুরি করা হয়েছে-তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা ওই ব্যক্তি তাকে দিয়েছেন। অপটাসের দাবির সঙ্গে তিনি একমত হননি। বরং বলেছেন, তারা বিনামূল্যে প্রবেশ করা যায় এমন একটি সফটওয়্যার ইন্টারফেস থেকে তথ্য নিয়ে নিয়েছেন।

মঙ্গলবার নিজেকে হ্যাকার হিসাবে দাবি করা সেই ব্যক্তি ১০ হাজার গ্রাহকের রেকর্ড ফাঁস করেন এবং তার আগে দাবি করা মুক্তিপণের ডেডলাইন পুনরায় মনে করিয়ে দেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি আবার দুঃখ প্রকাশ করেন বলেন, এটা একটা ভুল ছিল এবং তিনি যেসব ডেটা ফাঁস করেছিলেন সেগুলো মুছে দেন। অপটাসের কাছে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি। আশা করি এ থেকে ভালো কিছু হবে। এরপর সন্দেহ ছড়িয়ে পড়ে-অপটাস হয়তো মুক্তিপণ পরিশোধ করেছে। যদিও কোম্পানিটি তা অস্বীকার করেছে। তবে নতুন সমস্যা যুক্ত হয়েছে-মুছে ফেলা তথ্যগুলোই কেউ কেউ কপি করে রেখেছে এবং সেগুলো পরে তারা প্রকাশ করে যাচ্ছিল। এরমধ্যে কিছু গ্রাহকের স্বাস্থ্যগত তথ্যও দেখা যায়। এটা সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক তথ্য চুরির ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা এবং যেভাবে ঘটনাটি প্রকাশিত হয়েছে-তার প্রকৃতির দিক থেকেও বলছিলেন আইনজীবীদের প্রতিষ্ঠান স্ল্যাটার অ্যান্ড গর্ডন লইয়ার্সের বেন জোক্কো। স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, এত বড় চুরির ঘটনাটি দেশের বাইরে থেকে সংঘটিত হয়েছে।

ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ‘সাইবার হামলা’

অস্ট্রেলিয়ার কোটি মানুষের তথ্য চুরি

 যুগান্তর ডেস্ক 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অস্ট্রেলিয়ার প্রায় এক কোটি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়েছে। গত সপ্তাহে দেশটির টেলিকমিউনিকেশন খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান অপটাস থেকে তথ্য চুরি হয়। অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার ৪০ ভাগ লোকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঘটনাকে ‘সাইবার হামলা’ হিসাবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তথ্য চুরির ঘটনা। পাসপোর্ট বা লাইসেন্স নাম্বার চুরি হওয়ায় প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। খবর বিবিসির।

অস্ট্রেলিয়ার টেলিকম খাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান অপটাস জানায়, তাদের সাবেক ও বর্তমান গ্রাহকদের ডাটা (তথ্য) চুরি হয়েছে। এরমধ্যে আছে-নাম, জন্ম তারিখ, ফোন নাম্বার, ই-মেইল ঠিকানা, পাসপোর্ট নাম্বার এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স নাম্বার। তবে তাদের দাবি-পেমেন্ট বিষয়ক তথ্যাদি ও অ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ড হ্যাক হয়নি। অপটাস সিঙ্গাপুর টেলিকমিউনিকেশন লি.-এর সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর তারা প্রকাশ করে-নেটওয়ার্কে সন্দেহভাজন কার্যক্রমের বিষয়টি তাদের দৃষ্টিতে এসেছে। অপটাসের কর্মকর্তারা জানান, তারা তদন্ত করছে। এছাড়া পুলিশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানিয়েছে। ঘটনার জন্য আবেগময় ভাষায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন অপটাসের প্রধান নির্বাহী কেলি বায়ের রোজমারিন। এটিকে ‘নিখুঁত হামলা’ আখ্যায়িত করে তিনি দাবি করেন-তার কোম্পানির সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই শক্তিশালী। অবশ্যই আমি ক্ষুব্ধ ও হতাশ। কারণ আমরা সেটি ঠেকাতে পারিনি। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব বলেন।

শনিবার একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী একটি অনলাইন ফোরামে কিছু নমুনা প্রকাশ করেন এবং অপটাস থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে এক মিলিয়ন ডলার মুক্তিপণ দাবি করেন। কোম্পানিটিকে এটি পরিশোধের জন্য এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। তা না হলে চুরি করা তথ্য বিক্রির হুমকি দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা এখনো ওই ব্যক্তির দাবির বিষয়টি যাচাই করে দেখতে পারেনি। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন-প্রকাশিত নমুনার কিছু তাদের কাছে সত্যি মনে হয়েছে।

সিডনিভিত্তিক টেক রিপোর্টার জেরেমি কির্ক কথিত সেই হ্যাকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, কীভাবে তথ্য চুরি করা হয়েছে-তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা ওই ব্যক্তি তাকে দিয়েছেন। অপটাসের দাবির সঙ্গে তিনি একমত হননি। বরং বলেছেন, তারা বিনামূল্যে প্রবেশ করা যায় এমন একটি সফটওয়্যার ইন্টারফেস থেকে তথ্য নিয়ে নিয়েছেন।

মঙ্গলবার নিজেকে হ্যাকার হিসাবে দাবি করা সেই ব্যক্তি ১০ হাজার গ্রাহকের রেকর্ড ফাঁস করেন এবং তার আগে দাবি করা মুক্তিপণের ডেডলাইন পুনরায় মনে করিয়ে দেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি আবার দুঃখ প্রকাশ করেন বলেন, এটা একটা ভুল ছিল এবং তিনি যেসব ডেটা ফাঁস করেছিলেন সেগুলো মুছে দেন। অপটাসের কাছে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি। আশা করি এ থেকে ভালো কিছু হবে। এরপর সন্দেহ ছড়িয়ে পড়ে-অপটাস হয়তো মুক্তিপণ পরিশোধ করেছে। যদিও কোম্পানিটি তা অস্বীকার করেছে। তবে নতুন সমস্যা যুক্ত হয়েছে-মুছে ফেলা তথ্যগুলোই কেউ কেউ কপি করে রেখেছে এবং সেগুলো পরে তারা প্রকাশ করে যাচ্ছিল। এরমধ্যে কিছু গ্রাহকের স্বাস্থ্যগত তথ্যও দেখা যায়। এটা সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক তথ্য চুরির ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা এবং যেভাবে ঘটনাটি প্রকাশিত হয়েছে-তার প্রকৃতির দিক থেকেও বলছিলেন আইনজীবীদের প্রতিষ্ঠান স্ল্যাটার অ্যান্ড গর্ডন লইয়ার্সের বেন জোক্কো। স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, এত বড় চুরির ঘটনাটি দেশের বাইরে থেকে সংঘটিত হয়েছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন