আইজিপির দায়িত্ব নিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন
jugantor
আইজিপির দায়িত্ব নিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০১ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন শুক্রবার বিকালে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। এদিন বিকালে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশীদ হোসেন। আইজিপি হিসাবে যোগদানের পূর্বে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন র‌্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি বিদায়ি আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন শুক্রবার বিকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এসে পৌঁছালে একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। নতুন আইজিপিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। নবনিযুক্ত আইজিপি দায়িত্ব গ্রহণের পরই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যান। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি সেখানে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি রাজারবাগে পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বীর পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ১৯৮৯ সালের ২০ ডিসেম্বর ৮ম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার হিসাবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। তিনি একজন চৌকস, পেশাদার ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে সমাদৃত। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট বিশেষ করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, সিআইডি, ঢাকা ও ময়মনসিংহ রেঞ্জ এবং সর্বশেষ র‌্যাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দীর্ঘ গৌরবময় চাকরিকালে তিনি ডিএমপি’তে সহকারী কমিশনার, এপিবিএন’এ সহকারী পুলিশ সুপার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিরাজগঞ্জ ও চাঁদপুর জেলায় সার্কেল এএসপি, চাঁদপুর জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ডিএমপি’তে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন। ডিএমপি’তে উপ-পুলিশ কমিশনার, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এআইজি (সংস্থাপন) ও এআইজি (গোপনীয়) এবং ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ছিলেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ডিআইজি (অপারেশনস) ও ডিআইজি (প্রশাসন) হিসাবে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নবগঠিত ময়মনসিংহ রেঞ্জের প্রথম ডিআইজি হিসাবে দায়িত্ব পালনের গৌরবের অধিকারী। তার হাত ধরেই ময়মনসিংহ রেঞ্জের প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা পায়। এরপর তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসাবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। অতিরিক্ত আইজিপি হিসাবে পদোন্নতি লাভের পর তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) পদ অলঙ্কৃত করেন।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন পুলিশের সবচেয়ে পুরোনো ও বিশেষায়িত ইউনিট সিআইডি প্রধান (অতিরিক্ত আইজিপি) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সিআইডিতে কেন্দ্রীয় ফরেনসিক ল্যাবের পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ের ল্যাবের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। ফলে মামলার আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা ও এক্সপার্ট ওপিনিয়ন প্রদান প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। এছাড়া, মামলা তদন্তে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তদন্তের মান বাড়াতে তিনি প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দেন। এতে সিআইডির মামলা তদন্তে গুণগত পরিবর্তন সাধিত হয় এবং মামলা নিষ্পত্তির হারও বৃদ্ধি পায়। তিনি ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশ পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। করোনা মহামারির ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার নেতৃত্বে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে র‌্যাব’র অনবদ্য ভূমিকা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। করোনাকালে র‌্যাব সদস্যদের নিয়মিত অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখা ছিল তার জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু পেশাদার কর্মকর্তা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের কৌশলী কর্মপরিকল্পনা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে র‌্যাব আভিযানিক সফলতার ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরই পূর্বের বছরকে ছাড়িয়ে যায়।

র‌্যাব মহাপরিচালক হিসাবে সহিংস উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তার উদ্যোগে অপারেশনাল কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক পোস্টার, ব্যানার ও ডিজিটাল বিলবোর্ডে জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণার পাশাপাশি টেলিভিশনে জঙ্গিবাদবিরোধী টিভিসি প্রচারের মতো ইনোভেটিভ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ধর্মীয় চরমপন্থায় দীক্ষিত কিন্তু অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত হয়নি এমন ব্যক্তিদের পুনর্বাসন এবং সমাজের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ‘নব দিগন্তের পথে’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। তাছাড়া, তার সময়কালে র‌্যাব বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গিবিরোধী অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করে। তার নির্দেশনায় র‌্যাব মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার ও মাদকের বিস্তার রোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার ক্ষেত্রে র‌্যাব সদস্যদের দুঃসাহসিক অপারেশনের ওপর ভিত্তি করে ‘অপারেশন সুন্দরবন’ চলচ্চিত্র নির্মাণে তার অনন্য সাধারণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদকে (পিপিএম) ভূষিত হয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনার ও প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, লাইবেরিয়া এবং দারফুরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে দেশের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনেন।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বিপিএম (বার), পিপিএম ১৯৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা থানার শ্রীহাইল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তার চিকিৎসক স্ত্রী সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে হলিফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজে কর্মরত রয়েছেন। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক।

বেনজীর আহমেদকে আনুষ্ঠানিক বিদায় : বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষে শুক্রবার স্বাভাবিক অবসরে গেলেন বিদায়ি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ড. বেনজীর আহমেদ। আইজিপির দায়িত্ব হস্তান্তরের পর বিকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে বিদায়ি আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হয়। একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। তিনি তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নেন।

পরে বিদায়ি আইজিপি বিশেষভাবে সাজানো আইজিপির সুসজ্জিত গাড়িতে আরোহণ করেন। বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও রীতি অনুযায়ী সুসজ্জিত গাড়ির সঙ্গে বাঁধা রশি টেনে আইজিপিকে বিদায় জানানো হয়। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সব পর্যায়ের পুলিশ অফিসার ও সদস্য এবং সিভিল স্টাফরা দুপাশে রশি ধরে টেনে গাড়িটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের আউট গেট পর্যন্ত নিয়ে আসেন। সেখান থেকে বিদায়ি আইজিপির গাড়ি অশ্বারোহী ও মোটর শোভাযাত্রাসহ মিন্টো রোডের পুলিশ ভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়।

আইজিপির দায়িত্ব নিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০১ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন শুক্রবার বিকালে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। এদিন বিকালে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশীদ হোসেন। আইজিপি হিসাবে যোগদানের পূর্বে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন র‌্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি বিদায়ি আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন শুক্রবার বিকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এসে পৌঁছালে একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। নতুন আইজিপিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। নবনিযুক্ত আইজিপি দায়িত্ব গ্রহণের পরই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যান। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি সেখানে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি রাজারবাগে পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বীর পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ১৯৮৯ সালের ২০ ডিসেম্বর ৮ম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার হিসাবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। তিনি একজন চৌকস, পেশাদার ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে সমাদৃত। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট বিশেষ করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, সিআইডি, ঢাকা ও ময়মনসিংহ রেঞ্জ এবং সর্বশেষ র‌্যাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দীর্ঘ গৌরবময় চাকরিকালে তিনি ডিএমপি’তে সহকারী কমিশনার, এপিবিএন’এ সহকারী পুলিশ সুপার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিরাজগঞ্জ ও চাঁদপুর জেলায় সার্কেল এএসপি, চাঁদপুর জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ডিএমপি’তে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন। ডিএমপি’তে উপ-পুলিশ কমিশনার, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এআইজি (সংস্থাপন) ও এআইজি (গোপনীয়) এবং ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ছিলেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ডিআইজি (অপারেশনস) ও ডিআইজি (প্রশাসন) হিসাবে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নবগঠিত ময়মনসিংহ রেঞ্জের প্রথম ডিআইজি হিসাবে দায়িত্ব পালনের গৌরবের অধিকারী। তার হাত ধরেই ময়মনসিংহ রেঞ্জের প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা পায়। এরপর তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসাবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। অতিরিক্ত আইজিপি হিসাবে পদোন্নতি লাভের পর তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) পদ অলঙ্কৃত করেন।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন পুলিশের সবচেয়ে পুরোনো ও বিশেষায়িত ইউনিট সিআইডি প্রধান (অতিরিক্ত আইজিপি) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সিআইডিতে কেন্দ্রীয় ফরেনসিক ল্যাবের পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ের ল্যাবের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। ফলে মামলার আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা ও এক্সপার্ট ওপিনিয়ন প্রদান প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। এছাড়া, মামলা তদন্তে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তদন্তের মান বাড়াতে তিনি প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দেন। এতে সিআইডির মামলা তদন্তে গুণগত পরিবর্তন সাধিত হয় এবং মামলা নিষ্পত্তির হারও বৃদ্ধি পায়। তিনি ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশ পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। করোনা মহামারির ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার নেতৃত্বে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে র‌্যাব’র অনবদ্য ভূমিকা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। করোনাকালে র‌্যাব সদস্যদের নিয়মিত অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখা ছিল তার জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু পেশাদার কর্মকর্তা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের কৌশলী কর্মপরিকল্পনা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে র‌্যাব আভিযানিক সফলতার ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরই পূর্বের বছরকে ছাড়িয়ে যায়।

র‌্যাব মহাপরিচালক হিসাবে সহিংস উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তার উদ্যোগে অপারেশনাল কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক পোস্টার, ব্যানার ও ডিজিটাল বিলবোর্ডে জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণার পাশাপাশি টেলিভিশনে জঙ্গিবাদবিরোধী টিভিসি প্রচারের মতো ইনোভেটিভ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ধর্মীয় চরমপন্থায় দীক্ষিত কিন্তু অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত হয়নি এমন ব্যক্তিদের পুনর্বাসন এবং সমাজের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ‘নব দিগন্তের পথে’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। তাছাড়া, তার সময়কালে র‌্যাব বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গিবিরোধী অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করে। তার নির্দেশনায় র‌্যাব মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার ও মাদকের বিস্তার রোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার ক্ষেত্রে র‌্যাব সদস্যদের দুঃসাহসিক অপারেশনের ওপর ভিত্তি করে ‘অপারেশন সুন্দরবন’ চলচ্চিত্র নির্মাণে তার অনন্য সাধারণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদকে (পিপিএম) ভূষিত হয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনার ও প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, লাইবেরিয়া এবং দারফুরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে দেশের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনেন।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বিপিএম (বার), পিপিএম ১৯৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা থানার শ্রীহাইল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তার চিকিৎসক স্ত্রী সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে হলিফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজে কর্মরত রয়েছেন। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক।

বেনজীর আহমেদকে আনুষ্ঠানিক বিদায় : বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষে শুক্রবার স্বাভাবিক অবসরে গেলেন বিদায়ি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ড. বেনজীর আহমেদ। আইজিপির দায়িত্ব হস্তান্তরের পর বিকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে বিদায়ি আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হয়। একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। তিনি তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নেন।

পরে বিদায়ি আইজিপি বিশেষভাবে সাজানো আইজিপির সুসজ্জিত গাড়িতে আরোহণ করেন। বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও রীতি অনুযায়ী সুসজ্জিত গাড়ির সঙ্গে বাঁধা রশি টেনে আইজিপিকে বিদায় জানানো হয়। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সব পর্যায়ের পুলিশ অফিসার ও সদস্য এবং সিভিল স্টাফরা দুপাশে রশি ধরে টেনে গাড়িটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের আউট গেট পর্যন্ত নিয়ে আসেন। সেখান থেকে বিদায়ি আইজিপির গাড়ি অশ্বারোহী ও মোটর শোভাযাত্রাসহ মিন্টো রোডের পুলিশ ভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন