বিএনপি ও আ.লীগ নেতার নেতৃত্বে কৃষক লীগ নেতার ওপর হামলা
jugantor
বিএনপি ও আ.লীগ নেতার নেতৃত্বে কৃষক লীগ নেতার ওপর হামলা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০১ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর মিরপুরে জমি দখল কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা বুলবুল মল্লিক এবং আওয়ামী লীগ নেতা খলিলুর রহমান খলিলের নেতৃত্বে কৃষক লীগ নেতা মাকসুদুল ইসলামের ওপর হামলা হয়েছে। বুধবার গভীর রাতের এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে পল্লবী থানায় পালটা-পালটি মামলা হয়েছে। এদিকে হামলায় গুরুতর আহত মাকসুদুল ইসলামকে টেলিফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান পরিচয়ে।

আহত মাকসুদুল ইসলাম ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষক লীগের সভাপতি ও কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি। আর হামলাকারী বুলবুল মল্লিক পল্লবী থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং খলিলুর রহমান খলিল ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

জানা যায়, মিরপুর ১২ নম্বরের কালশীর স্টিল ব্রিজের সামনে মাকসুদুলের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। যেসব আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন খলিলুর রহমান খলিল ওরফে কসাই খলিল, তারেক, বুলবুল মল্লিক, মান্নান, জাহিদ, সাদ্দাম ওরফে কসাই সাদ্দাম, কামাল, আজিজ ওরফে কালা আজিজ, বিল্লাল, জালাল, রিপন, সফিক, মাইছা খলিল, শেখ ফরিদ ওরফে বাইট্টা ফরিদ, নূর হোসেন, সানি, খোকন ওরফে রিকশা খোকন এবং কালু।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কৃষক লীগ নেতা মাকসুদুলের কালশীর বাউনিয়া মৌজায় ৫১ শতাংশ জমি আছে। তিনি ওই জমিতে টিনশেড ঘর তুলে দেখাশুনা করার জন্য সাদ্দাম নামে এক কেয়ারটেকার নিযুক্ত করেন। কিছু দিন আগে খলিলসহ মামলার অন্য আসামিরা সাদ্দামের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে জায়গা দখলের হুমকিও দেওয়া হয়। এ বিষয়ে পল্লবী থানায় তিনটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মাকসুদুল।

বুধবার গভীর রাতে খলিল, বুলবুলসহ মামলার অন্য আসামিরা কেয়ারটেকার সাদ্দামের ওপর হামলা চালিয়ে জায়গা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সাদ্দাম ঘটনাটি জমির মালিক মাকসুদুলকে জানালে তিনি তার বন্ধু শেখ শওকত ও ফারুক হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হলে তারাও আসামিদের হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা মাকসুদুলকে চাপাতি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপায়। এরপর লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।

ঘটনার পর কৃষক লীগ নেতা মাকসুদুলের মোবাইলে বিদেশি নাম্বার দিয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি কয়েক দফা ফোন দেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান পরিচয় দিয়ে মাকসুদুলকে হত্যার হুমকি দেন। হুমকির একাধিক অডিও ক্লিপিং যুগান্তরের হাতে এসেছে।

এদিকে একই ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে পালটা মামলা করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা খলিলুর রহমান। মামলার আসামিরা হলেন মাকসুদুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, আবু বক্কর সিদ্দিক, নূর মোহাম্মদ, আসলাম হোসেন গাজী, বিল্লাল হোসন, শাহিন ও মনির।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, জমিজমার বিরোধ ঘিরে এলাকায় দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়েছে। উভয়পক্ষই মামলা করেছে। একজন এসআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হামলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বিএনপি ও আ.লীগ নেতার নেতৃত্বে কৃষক লীগ নেতার ওপর হামলা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০১ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর মিরপুরে জমি দখল কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা বুলবুল মল্লিক এবং আওয়ামী লীগ নেতা খলিলুর রহমান খলিলের নেতৃত্বে কৃষক লীগ নেতা মাকসুদুল ইসলামের ওপর হামলা হয়েছে। বুধবার গভীর রাতের এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে পল্লবী থানায় পালটা-পালটি মামলা হয়েছে। এদিকে হামলায় গুরুতর আহত মাকসুদুল ইসলামকে টেলিফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান পরিচয়ে।

আহত মাকসুদুল ইসলাম ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষক লীগের সভাপতি ও কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি। আর হামলাকারী বুলবুল মল্লিক পল্লবী থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং খলিলুর রহমান খলিল ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

জানা যায়, মিরপুর ১২ নম্বরের কালশীর স্টিল ব্রিজের সামনে মাকসুদুলের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। যেসব আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন খলিলুর রহমান খলিল ওরফে কসাই খলিল, তারেক, বুলবুল মল্লিক, মান্নান, জাহিদ, সাদ্দাম ওরফে কসাই সাদ্দাম, কামাল, আজিজ ওরফে কালা আজিজ, বিল্লাল, জালাল, রিপন, সফিক, মাইছা খলিল, শেখ ফরিদ ওরফে বাইট্টা ফরিদ, নূর হোসেন, সানি, খোকন ওরফে রিকশা খোকন এবং কালু।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কৃষক লীগ নেতা মাকসুদুলের কালশীর বাউনিয়া মৌজায় ৫১ শতাংশ জমি আছে। তিনি ওই জমিতে টিনশেড ঘর তুলে দেখাশুনা করার জন্য সাদ্দাম নামে এক কেয়ারটেকার নিযুক্ত করেন। কিছু দিন আগে খলিলসহ মামলার অন্য আসামিরা সাদ্দামের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে জায়গা দখলের হুমকিও দেওয়া হয়। এ বিষয়ে পল্লবী থানায় তিনটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মাকসুদুল।

বুধবার গভীর রাতে খলিল, বুলবুলসহ মামলার অন্য আসামিরা কেয়ারটেকার সাদ্দামের ওপর হামলা চালিয়ে জায়গা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সাদ্দাম ঘটনাটি জমির মালিক মাকসুদুলকে জানালে তিনি তার বন্ধু শেখ শওকত ও ফারুক হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হলে তারাও আসামিদের হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা মাকসুদুলকে চাপাতি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপায়। এরপর লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।

ঘটনার পর কৃষক লীগ নেতা মাকসুদুলের মোবাইলে বিদেশি নাম্বার দিয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি কয়েক দফা ফোন দেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান পরিচয় দিয়ে মাকসুদুলকে হত্যার হুমকি দেন। হুমকির একাধিক অডিও ক্লিপিং যুগান্তরের হাতে এসেছে।

এদিকে একই ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে পালটা মামলা করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা খলিলুর রহমান। মামলার আসামিরা হলেন মাকসুদুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, আবু বক্কর সিদ্দিক, নূর মোহাম্মদ, আসলাম হোসেন গাজী, বিল্লাল হোসন, শাহিন ও মনির।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, জমিজমার বিরোধ ঘিরে এলাকায় দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়েছে। উভয়পক্ষই মামলা করেছে। একজন এসআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হামলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন