রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার বিচার নিয়ে শঙ্কা
jugantor
বাদী-সাক্ষী সবাই কানাডায়
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার বিচার নিয়ে শঙ্কা

  শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার  

০২ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম স্থবির হওয়ার আশঙ্কা করছেন আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টরা। কারণ ইতোমধ্যে এ মামলার বাদীসহ মুহিবুল্লাহর পরিবারের ২৫ সদস্যই কানাডা চলে গেছেন।

রোহিঙ্গাদের অন্যতম শীর্ষ নেতা আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পরদিন তার ভাই হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা করেন। এ মামলার তদন্তকালে হত্যার সঙ্গে ৩৬ জনের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। এ বছর ১৩ জুন কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন উখিয়া থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজী সালাহ উদ্দিন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আরসার সংগঠনের ৩৬ সদস্য পরিকল্পিতভাবে মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করেন। তবে আদালতে ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা।

নাম-ঠিকানা শনাক্ত করতে না পারার অজুহাতে হত্যার মূলহোতা আরসার প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার ওরফে জুনুনিসহ সাতজনকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। তবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামিদের কয়েকজন ঘটনার সঙ্গে জুনুনিসহ সাতজনের সম্পৃক্ত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। ফলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের বাদ দিয়ে মোটা অঙ্কের বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় রোহিঙ্গাদের। তবে অভিযোগের কথা অস্বীকার করে গাজী সালাহ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় বাণিজ্যের কথা সঠিক নয়। বরং মামলার বাদীকে নিজে টাকা দিয়ে অনেকবার চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার কিনে দিয়েছি।

এদিকে, সম্প্র্রতি কানাডার উদ্দেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়েছেন মুহিবুল্লাহর পরিবারের ১৪ সদস্য। এর আগে ৩১ মার্চ মুহিবুল্লাহর স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের ১১ সদস্যকে কানাডা নিয়ে যাওয়া হয়। সুতরাং এককথায় বলা যায়, মামলাসংশ্লিষ্ট বাদী, সাক্ষীসহ অধিকাংশই কানাডায় চলে গেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর ১২ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ২৯ আসামির বিচার শুরু হয়। বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল মামলার চার্জশিটভুক্ত সব আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ওইদিন আদালতে মামলার ১৫ আসামি উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে ১৪ আসামি পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্র আরও জানিয়েছে, গ্রেফতার ১৫ জনের মধ্যে চারজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনজন সাক্ষীও জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এখনো বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে দীর্ঘ প্রক্রিয়া রয়েছে বলে জানান জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, মামলাটির সাক্ষী শুরু হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চাওয়া হবে। যাতে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে সাক্ষ্য নেওয়া যায়। তবে সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে না এলে বিচার কার্যকম স্থবির হয়ে পড়বে।

বাদী-সাক্ষী সবাই কানাডায়

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার বিচার নিয়ে শঙ্কা

 শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার 
০২ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম স্থবির হওয়ার আশঙ্কা করছেন আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টরা। কারণ ইতোমধ্যে এ মামলার বাদীসহ মুহিবুল্লাহর পরিবারের ২৫ সদস্যই কানাডা চলে গেছেন।

রোহিঙ্গাদের অন্যতম শীর্ষ নেতা আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পরদিন তার ভাই হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা করেন। এ মামলার তদন্তকালে হত্যার সঙ্গে ৩৬ জনের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। এ বছর ১৩ জুন কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন উখিয়া থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজী সালাহ উদ্দিন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আরসার সংগঠনের ৩৬ সদস্য পরিকল্পিতভাবে মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করেন। তবে আদালতে ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা।

নাম-ঠিকানা শনাক্ত করতে না পারার অজুহাতে হত্যার মূলহোতা আরসার প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার ওরফে জুনুনিসহ সাতজনকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। তবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামিদের কয়েকজন ঘটনার সঙ্গে জুনুনিসহ সাতজনের সম্পৃক্ত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। ফলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের বাদ দিয়ে মোটা অঙ্কের বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় রোহিঙ্গাদের। তবে অভিযোগের কথা অস্বীকার করে গাজী সালাহ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় বাণিজ্যের কথা সঠিক নয়। বরং মামলার বাদীকে নিজে টাকা দিয়ে অনেকবার চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার কিনে দিয়েছি।

এদিকে, সম্প্র্রতি কানাডার উদ্দেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়েছেন মুহিবুল্লাহর পরিবারের ১৪ সদস্য। এর আগে ৩১ মার্চ মুহিবুল্লাহর স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের ১১ সদস্যকে কানাডা নিয়ে যাওয়া হয়। সুতরাং এককথায় বলা যায়, মামলাসংশ্লিষ্ট বাদী, সাক্ষীসহ অধিকাংশই কানাডায় চলে গেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর ১২ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ২৯ আসামির বিচার শুরু হয়। বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল মামলার চার্জশিটভুক্ত সব আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ওইদিন আদালতে মামলার ১৫ আসামি উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে ১৪ আসামি পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্র আরও জানিয়েছে, গ্রেফতার ১৫ জনের মধ্যে চারজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনজন সাক্ষীও জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এখনো বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে দীর্ঘ প্রক্রিয়া রয়েছে বলে জানান জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, মামলাটির সাক্ষী শুরু হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চাওয়া হবে। যাতে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে সাক্ষ্য নেওয়া যায়। তবে সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে না এলে বিচার কার্যকম স্থবির হয়ে পড়বে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন