দুই কর্মকর্তার বেতন গ্রেড অবনমন
jugantor
ঘুসের বিনিময়ে পণ্য খালাসে সহযোগিতা
দুই কর্মকর্তার বেতন গ্রেড অবনমন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০২ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঘুসের বিনিময়ে পণ্য খালাসে সহযোগিতার দায়ে কাস্টমসের দুই কর্মকর্তার বেতন গ্রেড অবনমন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘুসখোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না গেলে ঘুসের চিত্র বদলানো সম্ভব নয়। শাস্তিস্বরূপ যেই পরিমাণ বেতন গ্রেড কমানো হয়, সেই পরিমাণ অর্থ ঘুসখোর কর্মকর্তাদের ‘মিনিটের কামাই’। অবশ্য দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বর্তমান প্রশাসনের শক্ত অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে।

২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর পানগাঁও কাস্টমসে চীন থেকে চেনিল ফেব্রিক্স, পলিয়েস্টার ফেব্রিক্স, নেট ফেব্রিক্স ও মেটাল ফিটিংস আমদানি করা হয়। পরের বছরের ২৭ জানুয়ারি অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে দুপুর দেড়টায় পণ্য চালানের বিল অব এন্ট্রি জমা দেওয়া হয়। আশ্চর্যজনকভাবে মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে চালানটির কায়িক পরীক্ষা করে আমদানিকারকের ঘোষণা অনুযায়ী পণ্যের বিবরণ ও পরিমাণ সঠিক পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, এ সময়ের মধ্যে শুল্কায়ন প্রস্তাব অনুমোদন, বিল অব এন্ট্রি সংশোধন, শুল্কায়ন ও পেমেন্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে এক্সিট দেওয়া হয়।

এত করিতকর্মা কাস্টমস কর্মকর্তা হলেন সহকারী কমিশনার নুরের জামান, যিনি বর্তমানে কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেটে কর্মরত! তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাব্বির হোসেন। কিন্তু বিধিবাম! পুরো শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় ঘুস লেনদেনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইসি) পণ্য চালানটি লক করে। পুনরায় কায়িক পরীক্ষায় চেনিল ফেব্রিক্স ঘোষণার চেয়ে ৬ হাজার কেজি বেশি পাওয়া যায়। এছাড়া আইলেট হুক মেটাল ঘোষণা দেওয়া হলেও প্লাস্টিকের পাওয়া যায়। পুনঃপরীক্ষায় ৫৫ লাখ টাকার বেশি শুল্ক উদ্ঘাটিত হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর সাব্বির হোসেন এবং ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল নুরের জামানের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। ওই কর্মকর্তাদের লিখিত জবাব ও শুনানির বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় শাস্তিস্বরূপ নুরের জামানের বেতন গ্রেডের ৩ ধাপ এবং সাব্বির হোসেনের বেতন গ্রেডের ২ ধাপ অবনমন করা হয়।

সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-তে অসদাচরণে কর্মচারীদের দুই ধরনের শাস্তির কথা বলা আছে। প্রথমত, লঘুদণ্ড এবং দ্বিতীয়ত, গুরুদণ্ড। লঘুদণ্ড হিসাবে তিরস্কার, নির্দিষ্ট মেয়াদে পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিত এবং বেতন গ্রেড নিুধাপে অবনমন করা হয়। আর গুরুদণ্ড হিসাবে নিুপদ বা নিু বেতন গ্রেডে অবনমন, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অপসারণ, বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্কতাস্বরূপ বেতন গ্রেড অবনমন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ডজনখানেক কর্মকর্তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওইসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুদণ্ডের চিন্তা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে ছোট-বড় সব আমদানি-রপ্তানিকারক জিম্মি। ঘুস-বকশিশ ছাড়া একটি ফাইলও টেবিল থেকে নড়ে না। চাহিদা অনুযায়ী ঘুস না দিলে পণ্যের এইচএস কোড ঠিক নেই, পণ্যের সঙ্গে বিবরণে মিল পাওয়া যায়নিসহ নানা ছুতায় হয়রানি করা হয়। সবকিছু ঠিক থাকলেও নমুনা রাসায়নিক টেস্টের নামে হয়রানি করা হয়। এসব হয়রানির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে ঘুসখোরদের উত্তর হচ্ছে ‘রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে’ তারা এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। চতুর্মুখী হয়রানি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়েই ঘুস দিতে হয়। ঘুসের জন্য কাস্টমসের ঘাটে ঘাটে ফাঁদ তৈরি করা আছে। এ ফাঁদ থেকে বেরোনোর সাধ্য কারও নেই। আমদানি প্রক্রিয়ার সাত ধাপ এবং রপ্তানি প্রক্রিয়ার তিন ধাপে ঘুস না দিলে কোনো ফাইলই নড়ে না। ঘুস নেওয়ার দুই-একটি ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন গ্রেড অবনমন করে লোক দেখানো শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। শাস্তিস্বরূপ যে পরিমাণ বেতন কমানো হয়, সেই পরিমাণ অর্থ ঘুসখোর কর্মকর্তাদের মিনিটের কামাই। অবশ্য এনবিআরের বর্তমান প্রশাসন দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ পেলেই ত্বরিত বিভাগীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এতে ঘুসখোর অফিসাররা কিছুটা হলেও আতঙ্কে আছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় ঘুস-হয়রানি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য পৃথক আইন-বিধি প্রণয়ন করা দরকার। পাশাপাশি ঘুস গ্রহণকারী কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যমান কাঠামোয় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া গেলে ঘুসের চিত্র অনেকটাই বদলানো সম্ভব। হয়রানির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রেখে বিধিমালা প্রণয়ন করা দরকার। যাতে কর্মকর্তাদের ইচ্ছাকৃত হয়রানির স্বীকার ব্যক্তিরা অভিযোগ জানাতে পারে। একই সঙ্গে দণ্ডিত ব্যক্তির দণ্ডের কারণ উল্লেখ করে অন্য অফিসারদের জানিয়ে দিতে হবে। তাহলেই কেবল ঘুস-হয়রানি কমিয়ে আনা সম্ভব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিদ্যমান বিধিবিধান দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুস, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে দুদককে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের পর যে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটি যেন পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হয় নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

ঘুসের বিনিময়ে পণ্য খালাসে সহযোগিতা

দুই কর্মকর্তার বেতন গ্রেড অবনমন

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০২ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঘুসের বিনিময়ে পণ্য খালাসে সহযোগিতার দায়ে কাস্টমসের দুই কর্মকর্তার বেতন গ্রেড অবনমন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘুসখোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না গেলে ঘুসের চিত্র বদলানো সম্ভব নয়। শাস্তিস্বরূপ যেই পরিমাণ বেতন গ্রেড কমানো হয়, সেই পরিমাণ অর্থ ঘুসখোর কর্মকর্তাদের ‘মিনিটের কামাই’। অবশ্য দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বর্তমান প্রশাসনের শক্ত অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে।

২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর পানগাঁও কাস্টমসে চীন থেকে চেনিল ফেব্রিক্স, পলিয়েস্টার ফেব্রিক্স, নেট ফেব্রিক্স ও মেটাল ফিটিংস আমদানি করা হয়। পরের বছরের ২৭ জানুয়ারি অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে দুপুর দেড়টায় পণ্য চালানের বিল অব এন্ট্রি জমা দেওয়া হয়। আশ্চর্যজনকভাবে মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে চালানটির কায়িক পরীক্ষা করে আমদানিকারকের ঘোষণা অনুযায়ী পণ্যের বিবরণ ও পরিমাণ সঠিক পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, এ সময়ের মধ্যে শুল্কায়ন প্রস্তাব অনুমোদন, বিল অব এন্ট্রি সংশোধন, শুল্কায়ন ও পেমেন্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে এক্সিট দেওয়া হয়।

এত করিতকর্মা কাস্টমস কর্মকর্তা হলেন সহকারী কমিশনার নুরের জামান, যিনি বর্তমানে কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেটে কর্মরত! তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাব্বির হোসেন। কিন্তু বিধিবাম! পুরো শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় ঘুস লেনদেনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইসি) পণ্য চালানটি লক করে। পুনরায় কায়িক পরীক্ষায় চেনিল ফেব্রিক্স ঘোষণার চেয়ে ৬ হাজার কেজি বেশি পাওয়া যায়। এছাড়া আইলেট হুক মেটাল ঘোষণা দেওয়া হলেও প্লাস্টিকের পাওয়া যায়। পুনঃপরীক্ষায় ৫৫ লাখ টাকার বেশি শুল্ক উদ্ঘাটিত হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর সাব্বির হোসেন এবং ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল নুরের জামানের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। ওই কর্মকর্তাদের লিখিত জবাব ও শুনানির বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় শাস্তিস্বরূপ নুরের জামানের বেতন গ্রেডের ৩ ধাপ এবং সাব্বির হোসেনের বেতন গ্রেডের ২ ধাপ অবনমন করা হয়।

সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-তে অসদাচরণে কর্মচারীদের দুই ধরনের শাস্তির কথা বলা আছে। প্রথমত, লঘুদণ্ড এবং দ্বিতীয়ত, গুরুদণ্ড। লঘুদণ্ড হিসাবে তিরস্কার, নির্দিষ্ট মেয়াদে পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিত এবং বেতন গ্রেড নিুধাপে অবনমন করা হয়। আর গুরুদণ্ড হিসাবে নিুপদ বা নিু বেতন গ্রেডে অবনমন, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অপসারণ, বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্কতাস্বরূপ বেতন গ্রেড অবনমন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ডজনখানেক কর্মকর্তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওইসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুদণ্ডের চিন্তা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে ছোট-বড় সব আমদানি-রপ্তানিকারক জিম্মি। ঘুস-বকশিশ ছাড়া একটি ফাইলও টেবিল থেকে নড়ে না। চাহিদা অনুযায়ী ঘুস না দিলে পণ্যের এইচএস কোড ঠিক নেই, পণ্যের সঙ্গে বিবরণে মিল পাওয়া যায়নিসহ নানা ছুতায় হয়রানি করা হয়। সবকিছু ঠিক থাকলেও নমুনা রাসায়নিক টেস্টের নামে হয়রানি করা হয়। এসব হয়রানির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে ঘুসখোরদের উত্তর হচ্ছে ‘রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে’ তারা এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। চতুর্মুখী হয়রানি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়েই ঘুস দিতে হয়। ঘুসের জন্য কাস্টমসের ঘাটে ঘাটে ফাঁদ তৈরি করা আছে। এ ফাঁদ থেকে বেরোনোর সাধ্য কারও নেই। আমদানি প্রক্রিয়ার সাত ধাপ এবং রপ্তানি প্রক্রিয়ার তিন ধাপে ঘুস না দিলে কোনো ফাইলই নড়ে না। ঘুস নেওয়ার দুই-একটি ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন গ্রেড অবনমন করে লোক দেখানো শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। শাস্তিস্বরূপ যে পরিমাণ বেতন কমানো হয়, সেই পরিমাণ অর্থ ঘুসখোর কর্মকর্তাদের মিনিটের কামাই। অবশ্য এনবিআরের বর্তমান প্রশাসন দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ পেলেই ত্বরিত বিভাগীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এতে ঘুসখোর অফিসাররা কিছুটা হলেও আতঙ্কে আছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় ঘুস-হয়রানি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য পৃথক আইন-বিধি প্রণয়ন করা দরকার। পাশাপাশি ঘুস গ্রহণকারী কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যমান কাঠামোয় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া গেলে ঘুসের চিত্র অনেকটাই বদলানো সম্ভব। হয়রানির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রেখে বিধিমালা প্রণয়ন করা দরকার। যাতে কর্মকর্তাদের ইচ্ছাকৃত হয়রানির স্বীকার ব্যক্তিরা অভিযোগ জানাতে পারে। একই সঙ্গে দণ্ডিত ব্যক্তির দণ্ডের কারণ উল্লেখ করে অন্য অফিসারদের জানিয়ে দিতে হবে। তাহলেই কেবল ঘুস-হয়রানি কমিয়ে আনা সম্ভব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিদ্যমান বিধিবিধান দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুস, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে দুদককে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের পর যে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটি যেন পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হয় নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন