শ্বশুরবাড়ির দেওয়া আগুনে পুড়ে মারা গেলেন সাথী
jugantor
বরিশালে যৌতুক দাবি
শ্বশুরবাড়ির দেওয়া আগুনে পুড়ে মারা গেলেন সাথী

  বরিশাল ব্যুরা  

০৩ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে বরিশালে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দেওয়া আগুনে পুড়ে সাত দিন বেঁচে থাকার পর হেরে গেলেন নারী নির্যাতন বন্ধে রাজপথের কর্মী মোর্শেদা আক্তার সাথী। শরীরে ৩০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে শুক্রবার সকাল ১০টায় তিনি মারা যান। নগরীর ভাটিখানায় শ্বশুরবাড়িতে ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় ননদ লুনা ও ননদের ছেলেসহ তিনজন তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। কয়েক দিন পর কাউনিয়া থানায় সাথীর ভাই মামলা করেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহমান মুকুল। তিনি জানান, এখন আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

সাথী নগরীর কাটপট্টি এলাকার একটি কসমেটিকসের দোকানে চাকরি করতেন। পাশাপাশি জেলা সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সদস্য ছিলেন। সাথী ও স্বামী সোহেল রানার আগের সংসারের একটি করে সন্তান রয়েছে। এটি তাদের দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

সাথীর ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, ২০১১ সালে সাথীর সঙ্গে বিয়ের পর জানতে পারি রানা একজন মাদক ব্যবসায়ী। তারপরও সংসার টিকিয়ে রাখতে সাথী সব কিছু সহ্য করেছে। এরই মধ্যে মাদক মামলা থেকে মুক্তি পেতে রানা এক লাখ টাকা ও ব্যবসার জন্য আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আগস্ট মাস থেকে সাথীকে নির্যাতন শুরু করে। এ ঘটনায় সাথী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর শ্বশুরবাড়ির ওই তিনজন মিলে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার মুখমণ্ডল, বুক, পেট, শ্বাসনালিসহ শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে যায়। তাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সাথীর করা মামলায় রানা গ্রেফতার হলে তার বোন এভাবে মারা যেত না বলে দাবি করেন নজরুল।

এদিকে, অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর সদর রোডে রোববার বেলা ১১টায় জেলা সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জেলা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার দাবি করেন সাথীর ভাই নজরুলসহ বক্তারা। এ সময় বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন খোকন, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বরিশালের সাধারণ সম্পাদক এলবার্ট রিপন বল্লভ, জেলা বাসদের সদস্য দুলাল মল্লিক ও মানিক হাওলাদার, জেলা সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সহ-সভাপতি মাফিয়া বেগম, সদস্য শানু বেগম, ছাত্রফ্রন্টের বিএম কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক বিজন সরকার প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

বরিশালে যৌতুক দাবি

শ্বশুরবাড়ির দেওয়া আগুনে পুড়ে মারা গেলেন সাথী

 বরিশাল ব্যুরা 
০৩ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে বরিশালে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দেওয়া আগুনে পুড়ে সাত দিন বেঁচে থাকার পর হেরে গেলেন নারী নির্যাতন বন্ধে রাজপথের কর্মী মোর্শেদা আক্তার সাথী। শরীরে ৩০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে শুক্রবার সকাল ১০টায় তিনি মারা যান। নগরীর ভাটিখানায় শ্বশুরবাড়িতে ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় ননদ লুনা ও ননদের ছেলেসহ তিনজন তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। কয়েক দিন পর কাউনিয়া থানায় সাথীর ভাই মামলা করেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহমান মুকুল। তিনি জানান, এখন আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

সাথী নগরীর কাটপট্টি এলাকার একটি কসমেটিকসের দোকানে চাকরি করতেন। পাশাপাশি জেলা সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সদস্য ছিলেন। সাথী ও স্বামী সোহেল রানার আগের সংসারের একটি করে সন্তান রয়েছে। এটি তাদের দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

সাথীর ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, ২০১১ সালে সাথীর সঙ্গে বিয়ের পর জানতে পারি রানা একজন মাদক ব্যবসায়ী। তারপরও সংসার টিকিয়ে রাখতে সাথী সব কিছু সহ্য করেছে। এরই মধ্যে মাদক মামলা থেকে মুক্তি পেতে রানা এক লাখ টাকা ও ব্যবসার জন্য আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আগস্ট মাস থেকে সাথীকে নির্যাতন শুরু করে। এ ঘটনায় সাথী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর শ্বশুরবাড়ির ওই তিনজন মিলে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার মুখমণ্ডল, বুক, পেট, শ্বাসনালিসহ শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে যায়। তাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সাথীর করা মামলায় রানা গ্রেফতার হলে তার বোন এভাবে মারা যেত না বলে দাবি করেন নজরুল।

এদিকে, অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর সদর রোডে রোববার বেলা ১১টায় জেলা সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জেলা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার দাবি করেন সাথীর ভাই নজরুলসহ বক্তারা। এ সময় বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন খোকন, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বরিশালের সাধারণ সম্পাদক এলবার্ট রিপন বল্লভ, জেলা বাসদের সদস্য দুলাল মল্লিক ও মানিক হাওলাদার, জেলা সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সহ-সভাপতি মাফিয়া বেগম, সদস্য শানু বেগম, ছাত্রফ্রন্টের বিএম কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক বিজন সরকার প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন