জিয়াউর রহমানের কবর সরাতে আলটিমেটাম
jugantor
মায়ের কান্নার সংবাদ সম্মেলন
জিয়াউর রহমানের কবর সরাতে আলটিমেটাম

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৩ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার করতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন এবং তার কবর জাতীয় সংসদ এলাকা থেকে অপসারণের দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছে ‘মায়ের কান্না’ নামে একটি সংগঠন। সংগঠনের নেতারা বলেন, কবর অপসারণ করা না হলে ১ ডিসেম্বর ‘মায়ের কান্না’ সংগঠনের সদস্যরা জিয়ার কবর অপসারণের প্রাথমিক কাজ শুরু করবে।

রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে সংগঠনটির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আলটিমেটাম দেওয়া হয়। ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর সেনা ও বিমানবাহিনীর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত, চাকরিচ্যুত ও ফাঁসি দেওয়া সদস্যদের স্বজনরা এ আলটিমেটাম দেন।

মায়ের কান্না সংগঠনের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান মিয়া লেলিন বলেন, একটি চিঠি দিয়ে আমার মাকে জানানো হয়েছিল-আপনার স্বামীকে মারা হয়েছে। শুধু চিঠি পেয়েছি কিন্তু লাশ পাইনি। রাতের আঁধারে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। কিন্তু আজও আমরা আমাদের বাবার বিচার ও লাশ শনাক্ত করতে পারিনি।

কর্পোরাল মোবারক আলীর সন্তান মমতাজ বেগম বলেন, আমার ছয় মাস বয়সে বাবাকে হত্যা করে জিয়াউর রহমান। আমার বাবার লাশ কোথায় আমরা তা জানি না। কোন অপরাধে তাদের ফাঁসি দিল, সেটাও জানি না। রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসাবে আমি আমার বাবার দাফনের স্থান কোথায় সেটা জানতে চাই?

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফাঁসি হওয়া বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট আবুল বাশার খানের মেয়ে বিলকিস বেগম। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর তথাকথিত বিদ্রোহ দমনের নামে মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকদের আগে ফাঁসি কার্যকর করে, পরে কোর্ট মার্শালে বিচার করা হয়েছে। ফাঁসি কার্যকর শুরু হয় ১৯৭৭ সালের ৯ অক্টোবর। অথচ বিদ্রোহ দমনের বিচারকাজের আইন পাশ হয় ১৪ অক্টোবর। জিয়া ঘোষিত মার্শাল ল ট্রাইব্যুনালগুলোয় বিচার প্রহসনের সময় একজন সৈনিকের জীবন-মরণের সিদ্ধান্ত নিতে গড়ে ১ মিনিটের চেয়েও কম সময় দিয়েছিলেন তৎকালীন ট্রাইব্যুনাল প্রধানরা।

পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি কার্যকর হওয়া ১২১ জনের তালিকা পাওয়া গেছে। কুমিল্লা কারাগারে ৭২ জন, বগুড়া কারাগারে ১৬ জন, রংপুরে ৭ জনের নামের তালিকা পাওয়া গেছে। কিন্তু বিমানবাহিনী সদর দপ্তরের হিসাবে ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর পরবর্তী সময়ে ৫৬১ জন সৈনিক নিখোঁজ হয়েছেন। যাদের কখনই আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ঠিক একই সময়ে বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে ২২ বেঙ্গল বিদ্রোহ করলে জিয়া পুরো ইউনিটের সদস্যদের গুম করে দেয়। যাদের সংখ্যা দুই শতাধিক। সেনাবাহিনীর গুম হওয়া সদস্যদের বেশির ভাগ বীর মুক্তিযোদ্ধা। যাদের ফাঁসিতে নয়, ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল জিয়া। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সংগঠন মায়ের কান্নার পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলো হলো : ১. ফাঁসি হওয়া সদস্যদের কোথায় সমাহিত করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে সেই স্থান চিহ্নিত করে দিতে হবে। ২. অন্যায়ভাবে ফাঁসি হওয়া সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশ করা এবং শহিদ হিসাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ৩. নিহত সদস্যদের স্ব-স্ব পদে সর্বোচ্চ র?্যাংকে পদোন্নতি দেখিয়ে বর্তমান স্কেলে বেতন-ভাতা, পেনশনসহ পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসন ও সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ৪. জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার করতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। ৫. জিয়াউর রহমানের কবর জাতীয় সংসদ এলাকা থেকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় আগামী ১ ডিসেম্বর মায়ের কান্না সংগঠনের সদস্যরা কবর অপসারণের প্রাথমিক কাজ শুরু করবে।

মায়ের কান্নার সংবাদ সম্মেলন

জিয়াউর রহমানের কবর সরাতে আলটিমেটাম

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৩ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার করতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন এবং তার কবর জাতীয় সংসদ এলাকা থেকে অপসারণের দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছে ‘মায়ের কান্না’ নামে একটি সংগঠন। সংগঠনের নেতারা বলেন, কবর অপসারণ করা না হলে ১ ডিসেম্বর ‘মায়ের কান্না’ সংগঠনের সদস্যরা জিয়ার কবর অপসারণের প্রাথমিক কাজ শুরু করবে।

রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে সংগঠনটির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আলটিমেটাম দেওয়া হয়। ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর সেনা ও বিমানবাহিনীর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত, চাকরিচ্যুত ও ফাঁসি দেওয়া সদস্যদের স্বজনরা এ আলটিমেটাম দেন।

মায়ের কান্না সংগঠনের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান মিয়া লেলিন বলেন, একটি চিঠি দিয়ে আমার মাকে জানানো হয়েছিল-আপনার স্বামীকে মারা হয়েছে। শুধু চিঠি পেয়েছি কিন্তু লাশ পাইনি। রাতের আঁধারে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। কিন্তু আজও আমরা আমাদের বাবার বিচার ও লাশ শনাক্ত করতে পারিনি।

কর্পোরাল মোবারক আলীর সন্তান মমতাজ বেগম বলেন, আমার ছয় মাস বয়সে বাবাকে হত্যা করে জিয়াউর রহমান। আমার বাবার লাশ কোথায় আমরা তা জানি না। কোন অপরাধে তাদের ফাঁসি দিল, সেটাও জানি না। রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসাবে আমি আমার বাবার দাফনের স্থান কোথায় সেটা জানতে চাই?

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফাঁসি হওয়া বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট আবুল বাশার খানের মেয়ে বিলকিস বেগম। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর তথাকথিত বিদ্রোহ দমনের নামে মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকদের আগে ফাঁসি কার্যকর করে, পরে কোর্ট মার্শালে বিচার করা হয়েছে। ফাঁসি কার্যকর শুরু হয় ১৯৭৭ সালের ৯ অক্টোবর। অথচ বিদ্রোহ দমনের বিচারকাজের আইন পাশ হয় ১৪ অক্টোবর। জিয়া ঘোষিত মার্শাল ল ট্রাইব্যুনালগুলোয় বিচার প্রহসনের সময় একজন সৈনিকের জীবন-মরণের সিদ্ধান্ত নিতে গড়ে ১ মিনিটের চেয়েও কম সময় দিয়েছিলেন তৎকালীন ট্রাইব্যুনাল প্রধানরা।

পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি কার্যকর হওয়া ১২১ জনের তালিকা পাওয়া গেছে। কুমিল্লা কারাগারে ৭২ জন, বগুড়া কারাগারে ১৬ জন, রংপুরে ৭ জনের নামের তালিকা পাওয়া গেছে। কিন্তু বিমানবাহিনী সদর দপ্তরের হিসাবে ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর পরবর্তী সময়ে ৫৬১ জন সৈনিক নিখোঁজ হয়েছেন। যাদের কখনই আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ঠিক একই সময়ে বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে ২২ বেঙ্গল বিদ্রোহ করলে জিয়া পুরো ইউনিটের সদস্যদের গুম করে দেয়। যাদের সংখ্যা দুই শতাধিক। সেনাবাহিনীর গুম হওয়া সদস্যদের বেশির ভাগ বীর মুক্তিযোদ্ধা। যাদের ফাঁসিতে নয়, ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল জিয়া। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সংগঠন মায়ের কান্নার পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলো হলো : ১. ফাঁসি হওয়া সদস্যদের কোথায় সমাহিত করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে সেই স্থান চিহ্নিত করে দিতে হবে। ২. অন্যায়ভাবে ফাঁসি হওয়া সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশ করা এবং শহিদ হিসাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ৩. নিহত সদস্যদের স্ব-স্ব পদে সর্বোচ্চ র?্যাংকে পদোন্নতি দেখিয়ে বর্তমান স্কেলে বেতন-ভাতা, পেনশনসহ পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসন ও সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ৪. জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার করতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। ৫. জিয়াউর রহমানের কবর জাতীয় সংসদ এলাকা থেকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় আগামী ১ ডিসেম্বর মায়ের কান্না সংগঠনের সদস্যরা কবর অপসারণের প্রাথমিক কাজ শুরু করবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন