দৌলতপুর ও জকিগঞ্জ সীমান্তে দুই বাংলার মিলনমেলা
jugantor
বিজয়া দশমী
দৌলতপুর ও জকিগঞ্জ সীমান্তে দুই বাংলার মিলনমেলা

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৬ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিজয়া দশমী ঘিরে বুধবার দুই বাংলার হাজারো মানুষের মিলনমেলা বসেছিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সীমান্ত নদী মাথাভাঙ্গার দুই পাড়ে।

আর সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত নদী কুশিয়ার দুই পাড় মুখরিত হয়ে ওঠে হাজারো মানুষের পদচারণায়। কয়েক যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ উৎসব ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নদীর দুই তীরে এভাবেই চলে আসছে।

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুরের ধর্মদহ সীমান্ত ও ওপারে নদীয়া জেলার করিমপুর থানার শীকারপুর সীমান্ত পদ্মার শাখা মাথাভাঙ্গা নদী দ্বারা বিভাজিত। প্রতিবছরই ধর্মদহ সীমান্তে হাজারো বাংলাদেশি উৎসুক জনতা ভিড় করেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই মানুষগুলো মূলত ওপার বাংলার আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করতে আসেন। প্রতিবছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকেন তারা, কবে আসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা।

পাশের জেলা পাবনার ঈশ্বরদী থেকে জামাল উদ্দীন আসেন ওপারের করিমপুর থানা এলাকার জয়নাল শেখের সঙ্গে দেখা করতে। তারা আপন চাচাতো ভাই, প্রতিবছর এখানে আসেন দেখা করার জন্য ও মিষ্টি আদান-প্রদান করতে। প্রতিবছরের মতো বিলকিস খাতুন মেহেরপুর থেকে তার মামার সঙ্গে দেখা করতে আসেন মিষ্টি নিয়ে। নদীর এপার-ওপার দাঁড়িয়ে হাত নাড়িয়ে কুশলবিনিময় করেন তারা।

বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড জওয়ানরা সতর্ক ছিলেন যাতে দুপারের কেউ নদী পেরিয়ে এপার-ওপার হতে না পারেন। বেলা যত পশ্চিমে গড়তে থাকে মাথাভাঙ্গা নদীর পাড় কানায় কানায় ভরতে থাকে উৎসুক জনতায়।

অপেক্ষায় থাকেন কখন আসবে ঢাক ও নৃত্যের তালে তালে প্রতিমা বিসর্জন দিতে ভক্তরা। সন্ধ্যা লাগার আগেই তারা হাজির হয় মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়ে। এরপর নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গা উৎসব শেষ হয়। ভক্ত ও দর্শনার্থীরা ফিরে যান আপনালয়ে।

জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, আবেগ-উচ্ছ্বাস চোখের জল আর হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় শেষবারের মতো তেল-সিঁদুর পরিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছে সিলেটের জকিগঞ্জের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। কাস্টমঘাটস্থ কুশিয়ারা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ উৎসবকে ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠেন সীমান্ত ঘেঁষা কুশিয়ারা নদীর দুইপারের নানা ধর্ম-বর্ণের হাজারো মানুষ। ঢাকঢোল, কাঁসর, করতাল, মন্দিরা, বাঁশি এবং শঙ্খের ধ্বনিতে মুখরিত হয় গোটা এলাকা। নদীর দুই তীরে দুদেশের প্রতিমা বিসর্জন দেখতে অগণিত লোক সমাগম ঘটে। হিন্দু, মুসলিমের পদচারণয় মুখরিত হয়ে ওঠে জকিগঞ্জ শহরের কাস্টমঘাট ও ভারতের কাস্টমঘাটস্থ অখণ্ড মণ্ডলী মন্দিরের আশপাশ এলাকা।

পূজার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে বিসর্জন ঘাটে আসেন রাজনীবিদদের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ কর্মকর্তাসহ জকিগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রতিমা নিরঞ্জন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, ডিবি পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, আনসার সদস্যরা ছিল সতর্ক অবস্থায়। ভারতের করিমগঞ্জেও দেখা গেছে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা।

প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আবহমানকাল থেকে এই দেশের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। সরকার সব ধর্মের মানুষের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।

বিজয়া দশমী

দৌলতপুর ও জকিগঞ্জ সীমান্তে দুই বাংলার মিলনমেলা

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৬ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিজয়া দশমী ঘিরে বুধবার দুই বাংলার হাজারো মানুষের মিলনমেলা বসেছিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সীমান্ত নদী মাথাভাঙ্গার দুই পাড়ে।

আর সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত নদী কুশিয়ার দুই পাড় মুখরিত হয়ে ওঠে হাজারো মানুষের পদচারণায়। কয়েক যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ উৎসব ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নদীর দুই তীরে এভাবেই চলে আসছে।

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুরের ধর্মদহ সীমান্ত ও ওপারে নদীয়া জেলার করিমপুর থানার শীকারপুর সীমান্ত পদ্মার শাখা মাথাভাঙ্গা নদী দ্বারা বিভাজিত। প্রতিবছরই ধর্মদহ সীমান্তে হাজারো বাংলাদেশি উৎসুক জনতা ভিড় করেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই মানুষগুলো মূলত ওপার বাংলার আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করতে আসেন। প্রতিবছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকেন তারা, কবে আসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা।

পাশের জেলা পাবনার ঈশ্বরদী থেকে জামাল উদ্দীন আসেন ওপারের করিমপুর থানা এলাকার জয়নাল শেখের সঙ্গে দেখা করতে। তারা আপন চাচাতো ভাই, প্রতিবছর এখানে আসেন দেখা করার জন্য ও মিষ্টি আদান-প্রদান করতে। প্রতিবছরের মতো বিলকিস খাতুন মেহেরপুর থেকে তার মামার সঙ্গে দেখা করতে আসেন মিষ্টি নিয়ে। নদীর এপার-ওপার দাঁড়িয়ে হাত নাড়িয়ে কুশলবিনিময় করেন তারা।

বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড জওয়ানরা সতর্ক ছিলেন যাতে দুপারের কেউ নদী পেরিয়ে এপার-ওপার হতে না পারেন। বেলা যত পশ্চিমে গড়তে থাকে মাথাভাঙ্গা নদীর পাড় কানায় কানায় ভরতে থাকে উৎসুক জনতায়।

অপেক্ষায় থাকেন কখন আসবে ঢাক ও নৃত্যের তালে তালে প্রতিমা বিসর্জন দিতে ভক্তরা। সন্ধ্যা লাগার আগেই তারা হাজির হয় মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়ে। এরপর নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গা উৎসব শেষ হয়। ভক্ত ও দর্শনার্থীরা ফিরে যান আপনালয়ে।

জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, আবেগ-উচ্ছ্বাস চোখের জল আর হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় শেষবারের মতো তেল-সিঁদুর পরিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছে সিলেটের জকিগঞ্জের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। কাস্টমঘাটস্থ কুশিয়ারা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ উৎসবকে ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠেন সীমান্ত ঘেঁষা কুশিয়ারা নদীর দুইপারের নানা ধর্ম-বর্ণের হাজারো মানুষ। ঢাকঢোল, কাঁসর, করতাল, মন্দিরা, বাঁশি এবং শঙ্খের ধ্বনিতে মুখরিত হয় গোটা এলাকা। নদীর দুই তীরে দুদেশের প্রতিমা বিসর্জন দেখতে অগণিত লোক সমাগম ঘটে। হিন্দু, মুসলিমের পদচারণয় মুখরিত হয়ে ওঠে জকিগঞ্জ শহরের কাস্টমঘাট ও ভারতের কাস্টমঘাটস্থ অখণ্ড মণ্ডলী মন্দিরের আশপাশ এলাকা।

পূজার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে বিসর্জন ঘাটে আসেন রাজনীবিদদের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ কর্মকর্তাসহ জকিগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রতিমা নিরঞ্জন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, ডিবি পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, আনসার সদস্যরা ছিল সতর্ক অবস্থায়। ভারতের করিমগঞ্জেও দেখা গেছে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা।

প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আবহমানকাল থেকে এই দেশের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। সরকার সব ধর্মের মানুষের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন