দুই মাস আগে অপহরণের পরিকল্পনা
jugantor
চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা
দুই মাস আগে অপহরণের পরিকল্পনা

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৭ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে ২ মাস আগে শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পরিকল্পনা করেছিল তাদের বাড়ির ভাড়াটিয়ার ছেলে আবীর আলী। মুক্তিপণ হিসাবে আয়াতের পরিবারের কাছ থেকে ১৫-২০ লাখ টাকা আদায়ের টার্গেট ছিল তার। এরপর থেকেই সে সুযোগ খুঁজছিল।

কিন্তু বাড়িতে লোকজনের আনাগোনা থাকায় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছিল না। অবশেষে ১৪ নভেম্বর আবীর বাড়ির সবার অগোচরে ৫ বছরের শিশু আয়াতকে অপহরণ করতে সক্ষম হয়। তবে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অনিবন্ধিত যে সিমটি সে সংরক্ষণ করে রেখছিল, সেটি আর কাজ করছিল না। এতেই ভেস্তে যায় তার মুক্তিপণ আদায়।

শিশুটিকে অপহরণের পর কোথাও রাখার জায়গা না পেয়ে ওই দিনই তাকে হত্যা করে আবীর। এরপর লাশ ছয় টুকরো করে দুদফায় ভাসিয়ে দেয় সাগরে।

আয়াত নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে আবীর আলীকে গ্রেফতারের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এসব তথ্য জানতে পারে। এরপর তাকে নিয়ে শুক্রবার দিনভর সাগর পারে অভিযান চালিয়ে খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধারের চেষ্টা করে পিবিআই’র তদন্ত দল। কিন্তু স্রোতের টানে ভেসে যাওয়ায় টুকরোগুলো পাওয়া যায়নি।

এদিকে আবীর আলীকে ২ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পিবিআই। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছিল এ তদন্ত সংস্থা। শুনানি শেষে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেন ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। লাশের টুকরোগুলো উদ্ধার এবং ঘটনার ব্যাপারে আরও তথ্য পেতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে সংস্থাটি।

নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু আয়াত নগরীর ইপিজেড থানা এলাকার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকার সোহেল রানার মেয়ে। ঘাতক আবীর আলীর পরিবার তাদের তিনতলা ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকত। বাড়ির মালিক সোহেল রানা পরিবার নিয়ে থাকতেন তৃতীয় তলায়।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের ইন্সপেক্টর ইলিয়াস খান যুগান্তরকে জানান, মা-বাবার মধ্যে সেপারেশন হয়ে যাওয়ায় বখাটে প্রকৃতির যুবক আবীর আলী (১৯) আর্থিক অনটনে পড়ে যায়। তাই সে বাড়ির মালিকের মেয়ে আয়াতকে অপহরণের পরিকল্পনা করে। তার ধারণা ছিল, বাড়ির মালিক অনেক টাকা ভাড়া পায়। তাদের সবচেয়ে আদরের মেয়ে আয়াত। তাকে অপহরণ করতে পারলে মুক্তিপণ হিসাবে ১৫-২০ লাখ টাকা আদায় করা যাবে। ২ মাস আগে সে অপহরণের পরিকল্পনা করে।

১৪ নভেম্বর সে শিশুটিকে অপহরণের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। ঘটনার দিন সে তার মায়ের একটি সেলাই মেশিন বিক্রি করে ৮৫০ টাকা পায়। এর মধ্যে ৩৫০ টাকা দিয়ে একটি মোবাইল ফোন কেনে মুক্তিপণের জন্য দর কষাকষি করতে। অন্য জায়গা থেকে একটি সিম কুড়িয়ে পেয়েছিল। সেটাও সে এই কাজে ব্যবহারের জন্য রেখে দেয়।

সব প্রস্তুতি শেষ করে সে শিশুটিকে অপহরণের উদ্দেশ্যে কোলে নেয়। কিন্তু ওই সময় আয়াতের খেলার সঙ্গী দুই শিশু দেখে ফেলায় সে ব্যর্থ হয়। একই দিন আয়াতকে আবারও একা পেয়ে তার শ্বাসনালি চেপে ধরে নিচতলায় তাদের বাসায় নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। শ্বাসনালি চেপে ধরায় শিশুটি বাঁচার জন্য হাত-পা ছুড়তে থাকে। এরপরও ঘাতক আবীরের মনে বিন্দুমাত্র দাগ কাটেনি। আবীর তার বাবার পুরোনো লুঙি দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে গায়ের সর্বশক্তি দিয়ে শিশুটিকে হত্যা করে।

কুড়িয়ে পাওয়া সিমটি কাজ না করায় তার মুক্তিপণ দাবির চেষ্টা ব্যর্থ হয় জানিয়ে পিবিআই’র এই কর্মকর্তা জানান, সিম কার্ডটি ছিল আনরেজিস্ট্রার্ড, সেটা কাজ করছিল না। তাই সে আয়াতের বাবার কাছে টাকা দাবি করতে পারেনি। শিশুটির লাশ একটি ব্যাগে ভরে আকমল আলী রোড পকেট গেট এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ছয় টুকরো করে পরদিন সকালে তিন টুকরো ও রাতে বাকি তিন টুকরো বেড়িবাঁধসংলগ্ন সাগরে নিক্ষেপ করে। সাধারণত অপরাধীরা মুক্তিপণের জন্য অপহৃতকে বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু কোথাও আটকে রাখার জায়গা না থাকায় আবীর অপহরণের পরপরই শিশুটিকে হত্যা করে।

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা

দুই মাস আগে অপহরণের পরিকল্পনা

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে ২ মাস আগে শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পরিকল্পনা করেছিল তাদের বাড়ির ভাড়াটিয়ার ছেলে আবীর আলী। মুক্তিপণ হিসাবে আয়াতের পরিবারের কাছ থেকে ১৫-২০ লাখ টাকা আদায়ের টার্গেট ছিল তার। এরপর থেকেই সে সুযোগ খুঁজছিল।

কিন্তু বাড়িতে লোকজনের আনাগোনা থাকায় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছিল না। অবশেষে ১৪ নভেম্বর আবীর বাড়ির সবার অগোচরে ৫ বছরের শিশু আয়াতকে অপহরণ করতে সক্ষম হয়। তবে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অনিবন্ধিত যে সিমটি সে সংরক্ষণ করে রেখছিল, সেটি আর কাজ করছিল না। এতেই ভেস্তে যায় তার মুক্তিপণ আদায়।

শিশুটিকে অপহরণের পর কোথাও রাখার জায়গা না পেয়ে ওই দিনই তাকে হত্যা করে আবীর। এরপর লাশ ছয় টুকরো করে দুদফায় ভাসিয়ে দেয় সাগরে।

আয়াত নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে আবীর আলীকে গ্রেফতারের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এসব তথ্য জানতে পারে। এরপর তাকে নিয়ে শুক্রবার দিনভর সাগর পারে অভিযান চালিয়ে খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধারের চেষ্টা করে পিবিআই’র তদন্ত দল। কিন্তু স্রোতের টানে ভেসে যাওয়ায় টুকরোগুলো পাওয়া যায়নি।

এদিকে আবীর আলীকে ২ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পিবিআই। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছিল এ তদন্ত সংস্থা। শুনানি শেষে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেন ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। লাশের টুকরোগুলো উদ্ধার এবং ঘটনার ব্যাপারে আরও তথ্য পেতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে সংস্থাটি।

নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু আয়াত নগরীর ইপিজেড থানা এলাকার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকার সোহেল রানার মেয়ে। ঘাতক আবীর আলীর পরিবার তাদের তিনতলা ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকত। বাড়ির মালিক সোহেল রানা পরিবার নিয়ে থাকতেন তৃতীয় তলায়।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের ইন্সপেক্টর ইলিয়াস খান যুগান্তরকে জানান, মা-বাবার মধ্যে সেপারেশন হয়ে যাওয়ায় বখাটে প্রকৃতির যুবক আবীর আলী (১৯) আর্থিক অনটনে পড়ে যায়। তাই সে বাড়ির মালিকের মেয়ে আয়াতকে অপহরণের পরিকল্পনা করে। তার ধারণা ছিল, বাড়ির মালিক অনেক টাকা ভাড়া পায়। তাদের সবচেয়ে আদরের মেয়ে আয়াত। তাকে অপহরণ করতে পারলে মুক্তিপণ হিসাবে ১৫-২০ লাখ টাকা আদায় করা যাবে। ২ মাস আগে সে অপহরণের পরিকল্পনা করে।

১৪ নভেম্বর সে শিশুটিকে অপহরণের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। ঘটনার দিন সে তার মায়ের একটি সেলাই মেশিন বিক্রি করে ৮৫০ টাকা পায়। এর মধ্যে ৩৫০ টাকা দিয়ে একটি মোবাইল ফোন কেনে মুক্তিপণের জন্য দর কষাকষি করতে। অন্য জায়গা থেকে একটি সিম কুড়িয়ে পেয়েছিল। সেটাও সে এই কাজে ব্যবহারের জন্য রেখে দেয়।

সব প্রস্তুতি শেষ করে সে শিশুটিকে অপহরণের উদ্দেশ্যে কোলে নেয়। কিন্তু ওই সময় আয়াতের খেলার সঙ্গী দুই শিশু দেখে ফেলায় সে ব্যর্থ হয়। একই দিন আয়াতকে আবারও একা পেয়ে তার শ্বাসনালি চেপে ধরে নিচতলায় তাদের বাসায় নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। শ্বাসনালি চেপে ধরায় শিশুটি বাঁচার জন্য হাত-পা ছুড়তে থাকে। এরপরও ঘাতক আবীরের মনে বিন্দুমাত্র দাগ কাটেনি। আবীর তার বাবার পুরোনো লুঙি দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে গায়ের সর্বশক্তি দিয়ে শিশুটিকে হত্যা করে।

কুড়িয়ে পাওয়া সিমটি কাজ না করায় তার মুক্তিপণ দাবির চেষ্টা ব্যর্থ হয় জানিয়ে পিবিআই’র এই কর্মকর্তা জানান, সিম কার্ডটি ছিল আনরেজিস্ট্রার্ড, সেটা কাজ করছিল না। তাই সে আয়াতের বাবার কাছে টাকা দাবি করতে পারেনি। শিশুটির লাশ একটি ব্যাগে ভরে আকমল আলী রোড পকেট গেট এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ছয় টুকরো করে পরদিন সকালে তিন টুকরো ও রাতে বাকি তিন টুকরো বেড়িবাঁধসংলগ্ন সাগরে নিক্ষেপ করে। সাধারণত অপরাধীরা মুক্তিপণের জন্য অপহৃতকে বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু কোথাও আটকে রাখার জায়গা না থাকায় আবীর অপহরণের পরপরই শিশুটিকে হত্যা করে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন