অর্থ-বাণিজ্যের অভিযোগে কমিটি ঘোষণা স্থগিত
jugantor
রৌমারী আওয়ামী লীগ
অর্থ-বাণিজ্যের অভিযোগে কমিটি ঘোষণা স্থগিত

  রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি  

০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাধারণ সম্পাদকের পদে প্রার্থীর নাম দফায় দফায় পরিবর্তন, হট্টগোল, অবরুদ্ধ, দরজায় লাথি, দেহরক্ষী আহত, পথরোধ ও অর্থ-বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠায় রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে।

জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। রাতভর নানা নাটকের পর কমিটি ঘোষণা না দিয়েই বুধবার ভোরে পুলিশ পাহারায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা।

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশন ঠিকঠাক চললেও দ্বিতীয় অধিবেশনে সাধারণ সম্পাদক পদে ৩৬ জন ও সভাপতি পদে ১৩ জনের জীবনবৃত্তান্ত জমা নিয়ে চলে সাক্ষাৎকার।

সাক্ষাৎকার শেষে খসড়া তালিকায় ৩-৪ জনের নাম চলে আসে। তার মধ্যে সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিনুর নাম বাদ দিয়ে নতুন মুখ রাজু আহমেদ খোকার নাম চলে আসে প্রথমে। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ জানান। এক পর্যায়ে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। পরে বিকল্প প্রার্থী হিসাবে জাদুরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সবুজের নাম খুঁজে বের করে তার কাছে ৮০ লাখ টাকা রাজু আহমেদ খোকাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি খুলে বলেন জেলা প্রতিনিধিরা। ওই সময় শাখাওয়াত হোসেন সবুজ বলেন, রেজাউল ইসলাম মিনুর কাছ থেকে নেওয়া ৪০ লাখ টাকাসহ বাকি ৪০ লাখ তিনি দিতে রাজি হন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজু আহমেদ খোকা, প্রতিমন্ত্রীর লোকজনসহ সবাই বলেন, শাখাওয়াত হোসেন সবুজ একজন হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাকে কোনোক্রমে মেনে নেওয়া হবে না। পরে বিকল্প হিসাবে রৌমারী সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হোরায়রা টাকা দিতে রাজি হলেও তিনিও সরকারি চাকরিজীবী ও জালিয়াতি মামলার আসামি। অবশেষে ফজলুল হক মনির নাম চলে আসে এবং তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন।

কমিটির অর্থ-বাণিজ্যের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট ও টপ অব দ্য টাউনে পরিণত হয়। এ নিয়ে দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেও সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা। কমিটির নাম ঘোষণা দিতে বিলম্ব হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

এক পর্যায় তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং দরজায় লাথি মারলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান খানের দেহরক্ষী আহত হন। কমিটি ঘোষণার দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে শুয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। রাতভর নানা নাটকীয়তা শেষে বুধবার ভোরে সিদ্ধান্তের বিষয়ে মুখ খোলেন কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান খান। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটি নাম ঘোষণা করার পূর্বমুহূর্তে জটিলতার সৃষ্টি হওয়ায় আপাতত কমিটি ঘোষণা স্থগিত করা হলো। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। পরে বুধবার ভোরে পুলিশি পাহারায় কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এর আগে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে অশিষ্ট আচরণ করার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ-সদস্য ও কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. জাফর আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন শফিক, হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, সফুরা বেগম রুমি। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু।

রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, অবস্থার পারিপার্শ্বিকতা ও প্রতিকূলতার কারণে কমিটি ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে। তবে দেহরক্ষীকে মারার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

রৌমারী আওয়ামী লীগ

অর্থ-বাণিজ্যের অভিযোগে কমিটি ঘোষণা স্থগিত

 রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 
০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাধারণ সম্পাদকের পদে প্রার্থীর নাম দফায় দফায় পরিবর্তন, হট্টগোল, অবরুদ্ধ, দরজায় লাথি, দেহরক্ষী আহত, পথরোধ ও অর্থ-বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠায় রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে।

জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। রাতভর নানা নাটকের পর কমিটি ঘোষণা না দিয়েই বুধবার ভোরে পুলিশ পাহারায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা।

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশন ঠিকঠাক চললেও দ্বিতীয় অধিবেশনে সাধারণ সম্পাদক পদে ৩৬ জন ও সভাপতি পদে ১৩ জনের জীবনবৃত্তান্ত জমা নিয়ে চলে সাক্ষাৎকার।

সাক্ষাৎকার শেষে খসড়া তালিকায় ৩-৪ জনের নাম চলে আসে। তার মধ্যে সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিনুর নাম বাদ দিয়ে নতুন মুখ রাজু আহমেদ খোকার নাম চলে আসে প্রথমে। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ জানান। এক পর্যায়ে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। পরে বিকল্প প্রার্থী হিসাবে জাদুরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সবুজের নাম খুঁজে বের করে তার কাছে ৮০ লাখ টাকা রাজু আহমেদ খোকাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি খুলে বলেন জেলা প্রতিনিধিরা। ওই সময় শাখাওয়াত হোসেন সবুজ বলেন, রেজাউল ইসলাম মিনুর কাছ থেকে নেওয়া ৪০ লাখ টাকাসহ বাকি ৪০ লাখ তিনি দিতে রাজি হন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজু আহমেদ খোকা, প্রতিমন্ত্রীর লোকজনসহ সবাই বলেন, শাখাওয়াত হোসেন সবুজ একজন হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাকে কোনোক্রমে মেনে নেওয়া হবে না। পরে বিকল্প হিসাবে রৌমারী সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হোরায়রা টাকা দিতে রাজি হলেও তিনিও সরকারি চাকরিজীবী ও জালিয়াতি মামলার আসামি। অবশেষে ফজলুল হক মনির নাম চলে আসে এবং তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন।

কমিটির অর্থ-বাণিজ্যের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট ও টপ অব দ্য টাউনে পরিণত হয়। এ নিয়ে দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেও সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা। কমিটির নাম ঘোষণা দিতে বিলম্ব হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

এক পর্যায় তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং দরজায় লাথি মারলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান খানের দেহরক্ষী আহত হন। কমিটি ঘোষণার দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে শুয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। রাতভর নানা নাটকীয়তা শেষে বুধবার ভোরে সিদ্ধান্তের বিষয়ে মুখ খোলেন কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান খান। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটি নাম ঘোষণা করার পূর্বমুহূর্তে জটিলতার সৃষ্টি হওয়ায় আপাতত কমিটি ঘোষণা স্থগিত করা হলো। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। পরে বুধবার ভোরে পুলিশি পাহারায় কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এর আগে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে অশিষ্ট আচরণ করার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ-সদস্য ও কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. জাফর আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন শফিক, হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, সফুরা বেগম রুমি। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু।

রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, অবস্থার পারিপার্শ্বিকতা ও প্রতিকূলতার কারণে কমিটি ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে। তবে দেহরক্ষীকে মারার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন