আত্রাইয়ে বেলুন ফাটানোয় শিশুকে হত্যা, আটক ১
jugantor
আত্রাইয়ে বেলুন ফাটানোয় শিশুকে হত্যা, আটক ১

  নওগাঁ প্রতিনিধি  

০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আত্রাই উপজেলায় বেলুন ফাটানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুকে গলা টিপে হত্যা করেছে এক মুদি ব্যবসায়ী। শিশু ইব্রাহিমকে হত্যার পর লাশ লুকিয়ে রেখে ছয় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে মুদি ব্যবসায়ী বুলবুল সোনার। মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করায় ফোনের সূত্র ধরে ঘাতক বুলবুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তার দেখানো জায়গা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর পুলিশ সুপার রাশিদুল হক জানান, ১০ নভেম্বর আত্রাই উপজেলার শ্রীধরগুড়নই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে ইব্রাহিম (৬) বেলুন কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন হযরত।

জিডির সূত্র ধরে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। শনিবার রাত ১০টার দিকে ঘাতক বুলবুল ফোন করে হযরতের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ নিশ্চিত হয়-একই গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে বুলবুল (৩১) মুক্তিপণ দাবি করেছে। এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তাকে হাজির করা হলে তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

রিমান্ডে বুলবুল জানায়, বেলুন ফাটানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে সে ইব্রাহিমকে শাসন করার জন্য গলা টিপে ধরে। এতে তার মৃত্যু হয়। তবে সে সময় সেখানে কেউ না থাকায় হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে লাশ বস্তায় ভরে দোকানের পাশে ছাইয়ের স্তূপে পুঁতে রাখে। এরপর ১৭-১৮ নভেম্বর বালতিতে করে গলিত লাশ আত্রাই নদীতে কাদার মধ্যে পুঁতে রাখে এবং বড় কংক্রিটের স্লাব দিয়ে চাপা দেয়।

বুলবুল আরও জানায়, বিভিন্ন জায়গার তার অনেক ঋণ রয়েছে। সেসব ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য পাওনাদাররা তাকে চাপ দিচ্ছিল। ঋণ থেকে মুক্ত পেতে সে ইব্রাহিমের বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার রাশিদুল হক জানান, বুধবার গভীর রাতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বুলবুল শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করা হয়। বুলবুলের চার দিনের রিমান্ড বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। শুক্রবার তাকে আবারও আদালতে নেওয়া হবে।

আত্রাইয়ে বেলুন ফাটানোয় শিশুকে হত্যা, আটক ১

 নওগাঁ প্রতিনিধি 
০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আত্রাই উপজেলায় বেলুন ফাটানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুকে গলা টিপে হত্যা করেছে এক মুদি ব্যবসায়ী। শিশু ইব্রাহিমকে হত্যার পর লাশ লুকিয়ে রেখে ছয় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে মুদি ব্যবসায়ী বুলবুল সোনার। মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করায় ফোনের সূত্র ধরে ঘাতক বুলবুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তার দেখানো জায়গা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর পুলিশ সুপার রাশিদুল হক জানান, ১০ নভেম্বর আত্রাই উপজেলার শ্রীধরগুড়নই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে ইব্রাহিম (৬) বেলুন কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন হযরত।

জিডির সূত্র ধরে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। শনিবার রাত ১০টার দিকে ঘাতক বুলবুল ফোন করে হযরতের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ নিশ্চিত হয়-একই গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে বুলবুল (৩১) মুক্তিপণ দাবি করেছে। এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তাকে হাজির করা হলে তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

রিমান্ডে বুলবুল জানায়, বেলুন ফাটানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে সে ইব্রাহিমকে শাসন করার জন্য গলা টিপে ধরে। এতে তার মৃত্যু হয়। তবে সে সময় সেখানে কেউ না থাকায় হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে লাশ বস্তায় ভরে দোকানের পাশে ছাইয়ের স্তূপে পুঁতে রাখে। এরপর ১৭-১৮ নভেম্বর বালতিতে করে গলিত লাশ আত্রাই নদীতে কাদার মধ্যে পুঁতে রাখে এবং বড় কংক্রিটের স্লাব দিয়ে চাপা দেয়।

বুলবুল আরও জানায়, বিভিন্ন জায়গার তার অনেক ঋণ রয়েছে। সেসব ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য পাওনাদাররা তাকে চাপ দিচ্ছিল। ঋণ থেকে মুক্ত পেতে সে ইব্রাহিমের বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার রাশিদুল হক জানান, বুধবার গভীর রাতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বুলবুল শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করা হয়। বুলবুলের চার দিনের রিমান্ড বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। শুক্রবার তাকে আবারও আদালতে নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন