সম্মেলন জুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা
jugantor
সম্মেলন জুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের যৌথ সম্মেলনজুড়ে ছিল চরম বিশৃঙ্খলা। নেতাকর্মীরা নিজ নিজ গ্রুপ নেতাদের নামে স্লোগান দিয়ে পরিবেশ অশান্ত করে তোলেন। পুরো সময় ছিল তাদের চিৎকার-চেঁচামেচি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যখন প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখনো বিশৃঙ্খলা করতে দেখা গেছে। নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন উঁচিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। প্রধান অতিথি বারবার থামতে বললেও কথা না শুনে স্লোগান দিতেই থাকেন।

সম্মেলনের মূল মঞ্চেও ছিল না শৃঙ্খলা। একপর্যায়ে মহানগরের দুই অংশের শতাধিক নেতা মঞ্চে উঠে পড়েন। এতে আমন্ত্রিত নেতাদের আসন সংকট দেখা দেয়। কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না বিদায়ি কমিটির নেতাদের হাতে। নগরের দুই অংশের শীর্ষ চার নেতা বক্তব্য দেন দীর্ঘ সময় ধরে। এতে প্রধান অতিথি ছাড়া অন্য আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য দিতে পারেননি। আয়োজকদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে সম্মেলনে বক্তব্য না দিয়েই মঞ্চ ছাড়েন ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় চার নেতা।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের বার্ষিক যৌথ সম্মেলন শুক্রবার সকাল ১০টায় উদ্বোধনের কথা থাকলে ১১টায় উদ্বোধন হয়। শুরুতে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে শুরু হয় বক্তৃতা পর্ব। এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের বিদায়ি সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ এবং উত্তরের বিদায়ি সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয় এক ঘণ্টা সময় নিয়ে বক্তৃতা করেন।

দুপুর ১২টায় মঞ্চে আসেন প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের। এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বক্তব্য রাখতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু জুমার নামাজের কারণে প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্য দেন।

সম্মেলনের আয়োজকদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে মঞ্চ ছেড়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের চার নেতা হলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক। এছাড়া বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি আমন্ত্রিত অতিথি আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির।

প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সমালোচনা করে বলেন, ‘এটা কি ছাত্রলীগ? কোনো শৃঙ্খলা নেই। জয়-লেখক (ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) এটা কী ছাত্রলীগ? পোস্টার নামাতে বললাম তারা নামায় না। এরা কারা আমি খোঁজ নিচ্ছি। এত নেতা স্টেজে, তাহলে কর্মী কোথায়? শেখ হাসিনার খাঁটি কর্মীরা বিশৃঙ্খলা করেন না। সব নেতা হয়ে গেছে। কতজন নেতা? এই ছাত্রলীগ চাই না। শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ এই ছাত্রলীগ না। মুজিব কোট পরলেই মুজিব সৈনিক হওয়া যায় না। মুজিব সৈনিক হতে হলে মুজিবের আদর্শের সৈনিক হতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য দিতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে নানকের মতো, আপনাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা, সাবেক মন্ত্রী, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান-সময়ের অভাবে বক্তৃতা দিতে পারলেন না। আপনারা মাইক ধরলে ছাড়েন না। পরে কে বলবে খেয়াল থাকে না। আজকে জুমার দিন খেয়াল রাখেন না। এই ছাত্রলীগকে আমরা চাই না। সুশৃঙ্খল করুন, সুসংগঠিত করুন। যে ছাত্রলীগ কথা শুনবে না তাদের দরকার নেই। অপকর্ম করবে এমন ছাত্রলীগ চাই না। দুর্নামের ধারা থেকে সুনামের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এটাই আজকের অঙ্গীকার।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বাহাউদ্দিন নাছিম আছেন, কারা নির্যাতিত নেতা। আমাদের বর্তমান জয়েন্ট সেক্রেটারি বক্তব্য দিতে পারেননি। মহানগরের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কেউ বক্তব্য দিতে পারেননি। তারা বক্তা ছিলেন। আমাদের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বক্তব্য দিতে পারেননি। তাহলে দাওয়াত দিলেন কেন? একটু একটু করে বলতে পারলেন না? আপনারা দুজনেই এক ঘণ্টা, মনে নাই আজকে শুক্রবার। এটা কোন ছাত্রলীগ? বন্ধ করেন। যার নামে স্লোগান দেবেন তাকে বানাবেন না। স্লোগান যার নামে হবে সে বাদ। সে বাদ বলে দিচ্ছি।

সম্মেলন জুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের যৌথ সম্মেলনজুড়ে ছিল চরম বিশৃঙ্খলা। নেতাকর্মীরা নিজ নিজ গ্রুপ নেতাদের নামে স্লোগান দিয়ে পরিবেশ অশান্ত করে তোলেন। পুরো সময় ছিল তাদের চিৎকার-চেঁচামেচি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যখন প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখনো বিশৃঙ্খলা করতে দেখা গেছে। নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন উঁচিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। প্রধান অতিথি বারবার থামতে বললেও কথা না শুনে স্লোগান দিতেই থাকেন।

সম্মেলনের মূল মঞ্চেও ছিল না শৃঙ্খলা। একপর্যায়ে মহানগরের দুই অংশের শতাধিক নেতা মঞ্চে উঠে পড়েন। এতে আমন্ত্রিত নেতাদের আসন সংকট দেখা দেয়। কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না বিদায়ি কমিটির নেতাদের হাতে। নগরের দুই অংশের শীর্ষ চার নেতা বক্তব্য দেন দীর্ঘ সময় ধরে। এতে প্রধান অতিথি ছাড়া অন্য আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য দিতে পারেননি। আয়োজকদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে সম্মেলনে বক্তব্য না দিয়েই মঞ্চ ছাড়েন ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় চার নেতা।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের বার্ষিক যৌথ সম্মেলন শুক্রবার সকাল ১০টায় উদ্বোধনের কথা থাকলে ১১টায় উদ্বোধন হয়। শুরুতে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে শুরু হয় বক্তৃতা পর্ব। এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের বিদায়ি সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ এবং উত্তরের বিদায়ি সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয় এক ঘণ্টা সময় নিয়ে বক্তৃতা করেন।

দুপুর ১২টায় মঞ্চে আসেন প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের। এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বক্তব্য রাখতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু জুমার নামাজের কারণে প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্য দেন।

সম্মেলনের আয়োজকদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে মঞ্চ ছেড়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের চার নেতা হলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক। এছাড়া বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি আমন্ত্রিত অতিথি আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির।

প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সমালোচনা করে বলেন, ‘এটা কি ছাত্রলীগ? কোনো শৃঙ্খলা নেই। জয়-লেখক (ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) এটা কী ছাত্রলীগ? পোস্টার নামাতে বললাম তারা নামায় না। এরা কারা আমি খোঁজ নিচ্ছি। এত নেতা স্টেজে, তাহলে কর্মী কোথায়? শেখ হাসিনার খাঁটি কর্মীরা বিশৃঙ্খলা করেন না। সব নেতা হয়ে গেছে। কতজন নেতা? এই ছাত্রলীগ চাই না। শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ এই ছাত্রলীগ না। মুজিব কোট পরলেই মুজিব সৈনিক হওয়া যায় না। মুজিব সৈনিক হতে হলে মুজিবের আদর্শের সৈনিক হতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য দিতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে নানকের মতো, আপনাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা, সাবেক মন্ত্রী, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান-সময়ের অভাবে বক্তৃতা দিতে পারলেন না। আপনারা মাইক ধরলে ছাড়েন না। পরে কে বলবে খেয়াল থাকে না। আজকে জুমার দিন খেয়াল রাখেন না। এই ছাত্রলীগকে আমরা চাই না। সুশৃঙ্খল করুন, সুসংগঠিত করুন। যে ছাত্রলীগ কথা শুনবে না তাদের দরকার নেই। অপকর্ম করবে এমন ছাত্রলীগ চাই না। দুর্নামের ধারা থেকে সুনামের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এটাই আজকের অঙ্গীকার।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বাহাউদ্দিন নাছিম আছেন, কারা নির্যাতিত নেতা। আমাদের বর্তমান জয়েন্ট সেক্রেটারি বক্তব্য দিতে পারেননি। মহানগরের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কেউ বক্তব্য দিতে পারেননি। তারা বক্তা ছিলেন। আমাদের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বক্তব্য দিতে পারেননি। তাহলে দাওয়াত দিলেন কেন? একটু একটু করে বলতে পারলেন না? আপনারা দুজনেই এক ঘণ্টা, মনে নাই আজকে শুক্রবার। এটা কোন ছাত্রলীগ? বন্ধ করেন। যার নামে স্লোগান দেবেন তাকে বানাবেন না। স্লোগান যার নামে হবে সে বাদ। সে বাদ বলে দিচ্ছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন