‘খেলা হবে’ জনগণের পছন্দের স্লোগান আমি দিয়ে যাব
jugantor
নোয়াখালী জেলা আ.লীগের সম্মেলনে সেতুমন্ত্রী
‘খেলা হবে’ জনগণের পছন্দের স্লোগান আমি দিয়ে যাব

  কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি  

০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘খেলা হবে’ জনগণের পছন্দের স্লোগান। আমি আজীবন এ স্লোগান দিয়ে যাব। এ স্লোগান জনগণ খুবই পছন্দ করে। তাই আমি বলব, খেলা হবে, হবে খেলা। সোমবার নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শহিদ ভুলু স্টেডিয়ামে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, এই ডিসেম্বরে খেলা হবে। আগামী নির্বাচনে খেলা হবে। অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে খেলা হবে। টাকা চুরির বিরুদ্ধে খেলা হবে। হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে খেলা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে খেলা হবে। যদিও এ স্লোগান ফখরুলসহ আরও কয়েকজনের পছন্দ না।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড ও জেলখানায় জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যাকাণ্ডের মাস্টার মাইন্ড ছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। ইতিহাসের বর্বর হত্যাকাণ্ডের সময় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা যদি বিদেশে না থাকতেন, তারাও এ হায়েনাদের হাতে নিহত হতেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একরামুল করিম চৌধুরী (স্থানীয় সংসদ-সদস্য) আমার ছোট ভাই। দল এবং নোয়াখালীর স্বার্থে আমি একরামুল করিম চৌধুরী এমপি ও আমার ভাই আবদুল কাদের মির্জাসহ তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি কোন্দলমুক্ত নোয়াখালী দেখতে চাই। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাও কোন্দল আর কোলাহল দেখতে চান না, পছন্দও করেন না।’

বিশেষ অতিথি আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বাস-ট্রেনে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করবেন, আর গ্রেফতার হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা বলবেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নামে নাইকো দুর্নীতি মামলাসহ আরও মামলা রয়েছে। এসব মামলার রায় হলে হয়তো খালেদা জিয়া ও তাদের নেতাদের বাকি জীবন কারাগারেই থাকতে হবে। বিএনপিকে আহ্বান করে বলব, দেশে আইন আছে, সরকার ও সংবিধান আছে। যেখানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সরকার সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে, সেখানে সমাবেশ করুন। অন্যভাবে সমাবেশ করার চেষ্টা করলে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে জনগণ আপনাদের নৈরাজ্য-অপকর্ম রুখে দেবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। দল পরিচালনা করতে গিয়ে পরিবারকেও সময় দেওয়া যায় না। কত কুতুব যে এখন আওয়ামী লীগে আছে। ওদের ঠান্ডা করে দল চালানো খুবই কষ্টকর। আমি দায়িত্ব পেয়ে এখানে ৫০ জন লোকও পাইনি।

জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র মো. সহিদ উল্যাহ খান সোহেলের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ আবদুস সবুর, মোরশেদ আলম, এইচএম ইব্রাহিম, মামুনুর রশীদ কিরণ, আয়েশা ফেরদাউস, ফরিদা খানম সাকি এমপি প্রমুখ।

সম্মেলনে অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ঘোষণা করেন ওবায়দুল কাদের। সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে এই পদে নাম ঘোষণা করা হবে। এই পদে ডেলিগেটদের প্রত্যক্ষ ভোটেও হতে পারে বলে জানান তিনি। এজন্য দলীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা আ.লীগের সম্মেলনে সেতুমন্ত্রী

‘খেলা হবে’ জনগণের পছন্দের স্লোগান আমি দিয়ে যাব

 কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি 
০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘খেলা হবে’ জনগণের পছন্দের স্লোগান। আমি আজীবন এ স্লোগান দিয়ে যাব। এ স্লোগান জনগণ খুবই পছন্দ করে। তাই আমি বলব, খেলা হবে, হবে খেলা। সোমবার নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শহিদ ভুলু স্টেডিয়ামে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, এই ডিসেম্বরে খেলা হবে। আগামী নির্বাচনে খেলা হবে। অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে খেলা হবে। টাকা চুরির বিরুদ্ধে খেলা হবে। হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে খেলা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে খেলা হবে। যদিও এ স্লোগান ফখরুলসহ আরও কয়েকজনের পছন্দ না।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড ও জেলখানায় জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যাকাণ্ডের মাস্টার মাইন্ড ছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। ইতিহাসের বর্বর হত্যাকাণ্ডের সময় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা যদি বিদেশে না থাকতেন, তারাও এ হায়েনাদের হাতে নিহত হতেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একরামুল করিম চৌধুরী (স্থানীয় সংসদ-সদস্য) আমার ছোট ভাই। দল এবং নোয়াখালীর স্বার্থে আমি একরামুল করিম চৌধুরী এমপি ও আমার ভাই আবদুল কাদের মির্জাসহ তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি কোন্দলমুক্ত নোয়াখালী দেখতে চাই। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাও কোন্দল আর কোলাহল দেখতে চান না, পছন্দও করেন না।’

বিশেষ অতিথি আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বাস-ট্রেনে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করবেন, আর গ্রেফতার হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা বলবেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নামে নাইকো দুর্নীতি মামলাসহ আরও মামলা রয়েছে। এসব মামলার রায় হলে হয়তো খালেদা জিয়া ও তাদের নেতাদের বাকি জীবন কারাগারেই থাকতে হবে। বিএনপিকে আহ্বান করে বলব, দেশে আইন আছে, সরকার ও সংবিধান আছে। যেখানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সরকার সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে, সেখানে সমাবেশ করুন। অন্যভাবে সমাবেশ করার চেষ্টা করলে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে জনগণ আপনাদের নৈরাজ্য-অপকর্ম রুখে দেবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। দল পরিচালনা করতে গিয়ে পরিবারকেও সময় দেওয়া যায় না। কত কুতুব যে এখন আওয়ামী লীগে আছে। ওদের ঠান্ডা করে দল চালানো খুবই কষ্টকর। আমি দায়িত্ব পেয়ে এখানে ৫০ জন লোকও পাইনি।

জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র মো. সহিদ উল্যাহ খান সোহেলের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ আবদুস সবুর, মোরশেদ আলম, এইচএম ইব্রাহিম, মামুনুর রশীদ কিরণ, আয়েশা ফেরদাউস, ফরিদা খানম সাকি এমপি প্রমুখ।

সম্মেলনে অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ঘোষণা করেন ওবায়দুল কাদের। সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে এই পদে নাম ঘোষণা করা হবে। এই পদে ডেলিগেটদের প্রত্যক্ষ ভোটেও হতে পারে বলে জানান তিনি। এজন্য দলীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন