বিতর্কিত সেই আবহাওয়াবিদ ফের বিমানের ডিএমএস
jugantor
বিতর্কিত সেই আবহাওয়াবিদ ফের বিমানের ডিএমএস
বিতর্কিত হলেও ম্যানেজমেন্টের কাছে কোনো অপশন নেই-বিমান এমডি

  মুজিব মাসুদ  

০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিতর্কিত ও বহুল আলোচিত সেই আবহাওয়াবিদকে ফের বিমানের পরিচালক মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস (ডিএমএস) হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তাকে এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নিয়েছিলেন খোদ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও নিজে। কিন্তু সম্প্রতি তিনি পদটি ছেড়ে দেন। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এই পরিচালকের নাম মাহবুব জাহান খান। বর্তমানে তিনি বিমানের পরিচালক প্ল্যানিং হিসাবে দায়িত্বে আছেন। পাশাপাশি পরিচালক মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস হিসাবে তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ আছে, বিমান পরিচালনা পর্ষদের একজন প্রভাবশালী সদস্যের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় বিতর্কিত হলেও বারবার তাকে এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এর আগে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আগামী এপ্রিলে তার দ্বিতীয় চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। মাত্র ৪ মাসের জন্য এ রকম একজন অনভিজ্ঞ ও বিতর্কিত কর্মকর্তাকে বিমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষায়িত বিভাগ মার্কেটিং অ্যান্ড সেলসের পরিমাপক হিসাবে দায়িত্ব দেওয়ায় পুরো বিমানে তোলপাড় উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিতর্কিত হলেও এই মুহূর্তে বিমানের কাছে আর কোনো অপশন নেই। দীর্ঘদিন ধরে বিমানের গুরুত্বপূর্ণ এই পোস্টটি খালি পড়ে আছে। সামনে বিমানের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে এগ্রিমেন্ট করতে হবে। তিনি বলেন, এটি সাময়িক নিয়োগ। দ্রুত এই পদে বিশেষজ্ঞ কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

মার্কেটিং বিভাগে নতুন দায়িত্ব পাওয়া পরিচালক মাহবুব জাহান খান যুগান্তরকে বলেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় এই পদ নেননি। বিমান বোর্ড ও ম্যানেজমেন্ট জোরপূর্বক তাকে এই পদ দিয়েছেন। আমি ভালো কাজ করেছি বলেই তারা আমাকে এটি দিয়েছেন। এর আগে এক বছরের চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন তারা। তিনি বলেন, আমার কারণে বিমান শত শত কোটি টাকা আয় করেছে। বিমানের অনেক অনিয়ম-দুর্নীতি আমি বন্ধ করেছি। বিমানের পরিকল্পনা, মার্কেটিং ও সেলস বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে আগে কোনো নীতিমালা ছিল না। তিনি নতুন নতুন নীতিমালা তৈরি করেছেন। তার সুফল ভোগ করছে বিমান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একাধিক পরিচালক ও একজন বোর্ড সদস্য যুগান্তরকে বলেন, এর আগে করোনাকালীন এক বছর এই মাহবুব জাহান খান বিমানের পরিচালক মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময় বিমানের যাত্রী কেবিনে কার্গো পণ্য বহন করে বিমানের ৮টি নতুন উড়োজাহাজের ব্যাপক ক্ষতি করে বিমানকে এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে ফেলেছিলেন। এই ঘটনায় মাহবুব জাহান খানকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গঠন করা হয়েছিল একাধিক তদন্ত কমিটি। খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন বিমান ম্যানেজমেন্ট তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। শুধু মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

যাত্রী কেবিনে কার্গো পণ্য বহন করে বিমানের ক্ষতির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের মার্চ থেকে অন্তত ৮টি উড়োজাহাজে মালামাল পরিবহণ করা হয়েছে। এতে উড়োজাহাজগুলোর আসন, হাতল, বিনোদন ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ সজ্জা, টয়লেট, মেঝে, লাগেজ রাখার ওভারহেড কেবিনের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিমানগুলোর মধ্যে ছিল নতুন ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, ২টি বোয়িং ৭৩৭ ও দুটি ভাড়া করা উড়োজাহাজ। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এসব ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, সামান্য কয়েক কোটি টাকা লাভের জন্য বিমান ওই উড়োজাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষতি করে। এসব ক্ষতির মোট মূল্যমান প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বলে জানায় সংসদীয় কমিটি।

সংসদীয় কমিটি বিমানের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামালকে এই ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত উল্লেখ করে ১ মাসের মধ্যে রিপোর্ট করার জন্য বললেও তিনি অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ায় পুরো ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। অভিযোগ আছে ওই সময় খোদ বিমান বোর্ডের একজন প্রভাবশালী সদস্য পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিমান ম্যানেজমেন্টকে চাপ দিয়েছিলেন।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, এ রকম অভিযুক্ত একজন কর্মকর্তাকে ফের বিমানের পরিচালক মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া রহস্যজনক। তার ধারণা মূলত উড়োজাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতির তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার জন্য তাকে ফের এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া ভেস্তে যেতে পারে। তাছাড়া যে কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ আর মাত্র ৪ মাস বাকি আছে তাকে শেষ মুহূর্তে এ রকম একটি পদে নিয়োগ দেওয়া মূলত আখেরি লুটপাটের টার্গেট।

শুধু তাই নয়, এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিমানের লন্ডন অফিসে ৬০ লাখ টাকার কার্গো কেলেঙ্কারির একটি ঘটনা তদন্ত না করার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে সম্প্রতি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। জানা গেছে বিমান বোর্ডের ২৩৪তম সভায় বিমানের লন্ডন অফিসের কার্গো কেলেঙ্কারির ঘটনাসহ ৫ট অভিযোগের তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় মাহবুব জাহান খানকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ আছে তদন্ত কর্মকর্তা মোট ৪টি অভিযোগের তদন্ত করলেও ৬০ লাখ টাকার কার্গো কেলেঙ্কারির ঘটনাটি কৌশলে ধামাচাপা দিয়ে দেন। ঘটনাটি ফাঁস হলে সম্প্রতি বিমানজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ফের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর পরিচালক গ্রাহক সেবাকে সভাপতি ও উপমহাব্যবস্থাপক আইনকে সদস্য করে দুই সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে বলা হয়, লন্ডনে বিমানের জিএসএ থাকার পরও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং অপ্রয়োজনে সিএসএ নিয়োগের মাধ্যমে বিমানকে অতিরিক্ত ৬০ লাখ টাকার কমিশন দিতে হয়েছে। ২৩৪তম বোর্ড সভার এজেন্ডা-৬ এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক একটি তদন্ত কমিটি হলেও রহস্যজনক কারণে তা এড়িয়ে গেছে ওই কমিটি। বর্তমানে এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিহ্নিতকরণে পুনরায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে এই কমিটি কাজ করবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, মাহবুব জাহান খান রহস্যজনক কারণে এই অভিযোগটি ধামাচাপা দিয়ে যান। যার কারণে বিমানকে ৬০ লাখ টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের কার্গো শাখার একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, করোনাকালীন বিমানের যাত্রী কেবিনে কার্গো পণ্য বহন করে একটি সিন্ডিকেট ৩শ থেকে ৫শ কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। যার পুরোটাই সিন্ডিকেটের পকেটে গেছে। এই ঘটনায় বিমানের একজন পাইলট ও তার পাইলট স্ত্রী সরাসরি জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বিমান ম্যানেজমেন্ট। উলটো তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে পরবর্তীকালে।

বিতর্কিত সেই আবহাওয়াবিদ ফের বিমানের ডিএমএস

বিতর্কিত হলেও ম্যানেজমেন্টের কাছে কোনো অপশন নেই-বিমান এমডি
 মুজিব মাসুদ 
০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিতর্কিত ও বহুল আলোচিত সেই আবহাওয়াবিদকে ফের বিমানের পরিচালক মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস (ডিএমএস) হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তাকে এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নিয়েছিলেন খোদ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও নিজে। কিন্তু সম্প্রতি তিনি পদটি ছেড়ে দেন। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এই পরিচালকের নাম মাহবুব জাহান খান। বর্তমানে তিনি বিমানের পরিচালক প্ল্যানিং হিসাবে দায়িত্বে আছেন। পাশাপাশি পরিচালক মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস হিসাবে তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ আছে, বিমান পরিচালনা পর্ষদের একজন প্রভাবশালী সদস্যের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় বিতর্কিত হলেও বারবার তাকে এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এর আগে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আগামী এপ্রিলে তার দ্বিতীয় চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। মাত্র ৪ মাসের জন্য এ রকম একজন অনভিজ্ঞ ও বিতর্কিত কর্মকর্তাকে বিমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষায়িত বিভাগ মার্কেটিং অ্যান্ড সেলসের পরিমাপক হিসাবে দায়িত্ব দেওয়ায় পুরো বিমানে তোলপাড় উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিতর্কিত হলেও এই মুহূর্তে বিমানের কাছে আর কোনো অপশন নেই। দীর্ঘদিন ধরে বিমানের গুরুত্বপূর্ণ এই পোস্টটি খালি পড়ে আছে। সামনে বিমানের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে এগ্রিমেন্ট করতে হবে। তিনি বলেন, এটি সাময়িক নিয়োগ। দ্রুত এই পদে বিশেষজ্ঞ কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

মার্কেটিং বিভাগে নতুন দায়িত্ব পাওয়া পরিচালক মাহবুব জাহান খান যুগান্তরকে বলেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় এই পদ নেননি। বিমান বোর্ড ও ম্যানেজমেন্ট জোরপূর্বক তাকে এই পদ দিয়েছেন। আমি ভালো কাজ করেছি বলেই তারা আমাকে এটি দিয়েছেন। এর আগে এক বছরের চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন তারা। তিনি বলেন, আমার কারণে বিমান শত শত কোটি টাকা আয় করেছে। বিমানের অনেক অনিয়ম-দুর্নীতি আমি বন্ধ করেছি। বিমানের পরিকল্পনা, মার্কেটিং ও সেলস বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে আগে কোনো নীতিমালা ছিল না। তিনি নতুন নতুন নীতিমালা তৈরি করেছেন। তার সুফল ভোগ করছে বিমান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একাধিক পরিচালক ও একজন বোর্ড সদস্য যুগান্তরকে বলেন, এর আগে করোনাকালীন এক বছর এই মাহবুব জাহান খান বিমানের পরিচালক মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময় বিমানের যাত্রী কেবিনে কার্গো পণ্য বহন করে বিমানের ৮টি নতুন উড়োজাহাজের ব্যাপক ক্ষতি করে বিমানকে এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে ফেলেছিলেন। এই ঘটনায় মাহবুব জাহান খানকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গঠন করা হয়েছিল একাধিক তদন্ত কমিটি। খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন বিমান ম্যানেজমেন্ট তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। শুধু মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

যাত্রী কেবিনে কার্গো পণ্য বহন করে বিমানের ক্ষতির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের মার্চ থেকে অন্তত ৮টি উড়োজাহাজে মালামাল পরিবহণ করা হয়েছে। এতে উড়োজাহাজগুলোর আসন, হাতল, বিনোদন ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ সজ্জা, টয়লেট, মেঝে, লাগেজ রাখার ওভারহেড কেবিনের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিমানগুলোর মধ্যে ছিল নতুন ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, ২টি বোয়িং ৭৩৭ ও দুটি ভাড়া করা উড়োজাহাজ। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এসব ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, সামান্য কয়েক কোটি টাকা লাভের জন্য বিমান ওই উড়োজাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষতি করে। এসব ক্ষতির মোট মূল্যমান প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বলে জানায় সংসদীয় কমিটি।

সংসদীয় কমিটি বিমানের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামালকে এই ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত উল্লেখ করে ১ মাসের মধ্যে রিপোর্ট করার জন্য বললেও তিনি অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ায় পুরো ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। অভিযোগ আছে ওই সময় খোদ বিমান বোর্ডের একজন প্রভাবশালী সদস্য পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিমান ম্যানেজমেন্টকে চাপ দিয়েছিলেন।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, এ রকম অভিযুক্ত একজন কর্মকর্তাকে ফের বিমানের পরিচালক মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া রহস্যজনক। তার ধারণা মূলত উড়োজাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতির তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার জন্য তাকে ফের এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া ভেস্তে যেতে পারে। তাছাড়া যে কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ আর মাত্র ৪ মাস বাকি আছে তাকে শেষ মুহূর্তে এ রকম একটি পদে নিয়োগ দেওয়া মূলত আখেরি লুটপাটের টার্গেট।

শুধু তাই নয়, এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিমানের লন্ডন অফিসে ৬০ লাখ টাকার কার্গো কেলেঙ্কারির একটি ঘটনা তদন্ত না করার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে সম্প্রতি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। জানা গেছে বিমান বোর্ডের ২৩৪তম সভায় বিমানের লন্ডন অফিসের কার্গো কেলেঙ্কারির ঘটনাসহ ৫ট অভিযোগের তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় মাহবুব জাহান খানকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ আছে তদন্ত কর্মকর্তা মোট ৪টি অভিযোগের তদন্ত করলেও ৬০ লাখ টাকার কার্গো কেলেঙ্কারির ঘটনাটি কৌশলে ধামাচাপা দিয়ে দেন। ঘটনাটি ফাঁস হলে সম্প্রতি বিমানজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ফের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর পরিচালক গ্রাহক সেবাকে সভাপতি ও উপমহাব্যবস্থাপক আইনকে সদস্য করে দুই সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে বলা হয়, লন্ডনে বিমানের জিএসএ থাকার পরও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং অপ্রয়োজনে সিএসএ নিয়োগের মাধ্যমে বিমানকে অতিরিক্ত ৬০ লাখ টাকার কমিশন দিতে হয়েছে। ২৩৪তম বোর্ড সভার এজেন্ডা-৬ এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক একটি তদন্ত কমিটি হলেও রহস্যজনক কারণে তা এড়িয়ে গেছে ওই কমিটি। বর্তমানে এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিহ্নিতকরণে পুনরায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে এই কমিটি কাজ করবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, মাহবুব জাহান খান রহস্যজনক কারণে এই অভিযোগটি ধামাচাপা দিয়ে যান। যার কারণে বিমানকে ৬০ লাখ টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের কার্গো শাখার একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, করোনাকালীন বিমানের যাত্রী কেবিনে কার্গো পণ্য বহন করে একটি সিন্ডিকেট ৩শ থেকে ৫শ কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। যার পুরোটাই সিন্ডিকেটের পকেটে গেছে। এই ঘটনায় বিমানের একজন পাইলট ও তার পাইলট স্ত্রী সরাসরি জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বিমান ম্যানেজমেন্ট। উলটো তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে পরবর্তীকালে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন