কাগজ দিয়ে ঢেকে রাখা হয় ক্যামেরার চোখ
jugantor
বাসে সিসিটিভির সুফল মিলছে না
কাগজ দিয়ে ঢেকে রাখা হয় ক্যামেরার চোখ

  ইকবাল হাসান ফরিদ  

০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যাত্রী তথা নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকার ১০০ বাসে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। কিন্তু সরকারি অর্থে লাগানো এসব ক্যামেরার সুফল মিলছে না। অভিযোগ আছে, বিভিন্ন বাসে অকার্যকর করে রাখা হয় এই ক্যামেরা। কাপড় কিংবা কাগজ দিয়ে ঢেকে রাখা হয় ক্যামেরার চোখ। যৌন হয়রানি, টিকিট ছাড়া ভাড়া আদায়, ধূমপানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম আড়াল করতেই এমনটা করা হয় বলে জানা গেছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা এসব বিষয় নিয়মিত মনিটরিং করছেন। আর পরিবহণ বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নগরীতে চলা ৫ সহস্রাধিক বাসের মধ্যে মাত্র ১০০ বাসে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে নারীর কিংবা যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কেউ কেউ এ প্রকল্পকে সরকারি অর্থ খরচের অজুহাত হিসাবেও দেখছেন।

৩০ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টা। রাজধানী সুপার সার্ভিসের বাসে মিরপুর-১২ নম্বর থেকে এ প্রতিবেদকের গন্তব্য যমুনা ফিউচার পার্ক। ই-টিকিটিংয়ে চলা বাসটিতে সিসি ক্যামেরা লাগানো। দেখা গেল কাগজ দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে ক্যামেরার চোখ। কেন এভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে, এর সদুত্তর মেলেনি সংশ্লিষ্ট কারও কাছে। ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০১১৩ নম্বরের ওই বাসে ভাড়া আদায়ের দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজারকে প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, কাগজ লাগানো অবস্থায়ই জায়গামতো রেকর্ড হয়। এদের এমন আচরণ নিয়ে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাসের এক যাত্রী যুগান্তরকে বলেন, সরকারের প্রকল্পের টাকার সিসি ক্যামেরায় বাসের হেলপার-ড্রাইভার কাগজের চশমা লাগিয়ে দিয়েছে। এসব দেখবে কে? যারা নজরদারি করছেন, তারা হয়তো লোক দেখানো নজরদারি করছেন। নয়তো এত সুন্দর একটা উদ্যোগে এমন অনিয়ম হবে কেন?

শুধু রাজধানী সুপার সার্ভিসের এ বাসটিতেই নয়, এভাবে কাগজ কিংবা কাপড় দিয়ে ক্যামেরার চোখ বন্ধ করে রাখার অভিযোগ রয়েছে সিসিটিভি লাগানো বিভিন্ন বাসে। এ বিষয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এবং এ প্রকল্পের কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় যুগান্তরকে বলেন, বাসে যে ক্যামেরাগুলো লাগানো হয়েছে, এগুলো মনিটরিংয়ের জন্য আমাদের একটা ডিসপ্লে রয়েছে। আমি নিজে সকাল-বিকাল মনিটরিং করি। তিনি বলেন, ক্যামেরা বন্ধ করে রাখার বিষয়টি আমাদেরও নজরে এসেছে। আমরা মালিকদের জানিয়েছি। এছাড়াও আমাদের একটি মনিটরিং টিম আছে। তারা বাসগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে।

তিনি বলেন, ১০০টি বাসে ক্যামেরা লাগানো হলেও সব বাস প্রতিদিন সড়কে বের করা হয় না। দিনে ৬০-৬৫টি বাস রাস্তায় নামে। আর রাস্তায় যেসব বাস নামে, সেগুলোই আমরা নজরদারি করতে পারি। রাস্তায় বাস নামিয়েও যদি সিসি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়, তবে তা ধরার কোনো উপায় আছে কি না-এ ব্যাপারে তিনি বলেন, এ প্রকল্পে আমি দায়িত্ব নিয়েছি বেশি দিন হয়নি। প্রকল্পের সাবেক পিডি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পাপিয়া ঘোষকে ফোন করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দীপ্ত ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া কে হাসান যুগান্তরকে বলেন, সরকারের অর্থে আমরা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। প্রতিটি বাসে চালকের পেছনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি করে রোভিং সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। আমাদের চারজনের একটি মনিটরিং টিম রয়েছে। তিনি বলেন, একটি বাসে ক্যামেরার চোখ কাপড় দিয়ে বন্ধ করা হয়েছিল। বিষয়টি আমরা মালিককে জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, রাজধানীতে বাস চলাচল করে প্রায় ৫ হাজার। এর মধ্যে ১শ বাসে ক্যামেরা লাগিয়ে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা এবং চালক-শ্রমিকদের নিয়োগ, কর্মঘণ্টা এসব নিশ্চিত করা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিবহণ শ্রমিক যুগান্তরকে জানান, বাসে ই-টিকিট চালু হলেও অনেক সময় যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে টিকিট দেওয়া হয় না। এই টাকা ভাগবাঁটোয়ারা করে নেন বাসের কর্মচারীরা। যেসব বাসে সিসি ক্যামেরা লাগানো, সেসব বাসে এই অনিয়মে ভয় থাকে। তাই কর্মচারীরা ক্যামেরার চোখ বন্ধ করে রাখেন। এছাড়া পরিবহণ শ্রমিকদের অধিকাংশই ধূমপায়ী। তাদের একটা বড় অংশ বিভিন্ন ধরনের নেশায়ও সম্পৃক্ত। সিসি ক্যামেরা চালু থাকলে সিগারেট কিংবা মাদকসেবনে সমস্যা হয়, এ কারণেও ক্যামেরা বন্ধ রাখে তারা।

অভিযোগ রয়েছে, বাসে ওঠার সময় সহযোগিতা কিংবা বিভিন্ন অজুহাতে নারী যাত্রীদের শরীর স্পর্শ করেন বাসের কোনো কোনো হেলপার। সিসি ক্যামেরা লাগানো থাকায় দীর্ঘদিনের এ অভ্যাসে ব্যাঘাত ঘটে। এটিও সিসি ক্যামেরা বন্ধ রাখার একটি কারণ।

জানা যায়, চলন্ত বাসে ধর্ষণ এবং নারীদের যৌন হয়রানি রোধের লক্ষ্যেই মূলত মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় বাসে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের একটি পাইলট প্রজেক্ট হাতে নেয়। এটি শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত দুই বছর মেয়াদে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ১৯ হাজার টাকায় এ কর্মসূচি অনুমোদন দেওয়া হয়। করোনা মহামারির কারণে ওই সময় প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে না পারায় এর মেয়াদ বাড়ানো হয়। সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে দীপ্ত ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও।

মার্চে আঁচল ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ঢাকায় যে তরুণীরা গণপরিবহণ ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে এক জরিপ করে দেখেছে ৪৫ দশমিক ২৭ শতাংশ তরুণী গণপরিবহণে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। গণপরিবহণে আপত্তিকর স্পর্শের শিকার হন ৬৪ দশমিক ৯২ শতাংশ তরুণী। ২০ দশমিক ৪ শতাংশ কুদৃষ্টি এবং অনুসরণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বাস এবং বাসস্ট্যান্ডে যৌন হয়রানির সম্মুখীন হন ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ তরুণী।

বাসে সিসিটিভির সুফল মিলছে না

কাগজ দিয়ে ঢেকে রাখা হয় ক্যামেরার চোখ

 ইকবাল হাসান ফরিদ 
০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যাত্রী তথা নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকার ১০০ বাসে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। কিন্তু সরকারি অর্থে লাগানো এসব ক্যামেরার সুফল মিলছে না। অভিযোগ আছে, বিভিন্ন বাসে অকার্যকর করে রাখা হয় এই ক্যামেরা। কাপড় কিংবা কাগজ দিয়ে ঢেকে রাখা হয় ক্যামেরার চোখ। যৌন হয়রানি, টিকিট ছাড়া ভাড়া আদায়, ধূমপানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম আড়াল করতেই এমনটা করা হয় বলে জানা গেছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা এসব বিষয় নিয়মিত মনিটরিং করছেন। আর পরিবহণ বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নগরীতে চলা ৫ সহস্রাধিক বাসের মধ্যে মাত্র ১০০ বাসে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে নারীর কিংবা যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কেউ কেউ এ প্রকল্পকে সরকারি অর্থ খরচের অজুহাত হিসাবেও দেখছেন।

৩০ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টা। রাজধানী সুপার সার্ভিসের বাসে মিরপুর-১২ নম্বর থেকে এ প্রতিবেদকের গন্তব্য যমুনা ফিউচার পার্ক। ই-টিকিটিংয়ে চলা বাসটিতে সিসি ক্যামেরা লাগানো। দেখা গেল কাগজ দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে ক্যামেরার চোখ। কেন এভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে, এর সদুত্তর মেলেনি সংশ্লিষ্ট কারও কাছে। ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০১১৩ নম্বরের ওই বাসে ভাড়া আদায়ের দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজারকে প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, কাগজ লাগানো অবস্থায়ই জায়গামতো রেকর্ড হয়। এদের এমন আচরণ নিয়ে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাসের এক যাত্রী যুগান্তরকে বলেন, সরকারের প্রকল্পের টাকার সিসি ক্যামেরায় বাসের হেলপার-ড্রাইভার কাগজের চশমা লাগিয়ে দিয়েছে। এসব দেখবে কে? যারা নজরদারি করছেন, তারা হয়তো লোক দেখানো নজরদারি করছেন। নয়তো এত সুন্দর একটা উদ্যোগে এমন অনিয়ম হবে কেন?

শুধু রাজধানী সুপার সার্ভিসের এ বাসটিতেই নয়, এভাবে কাগজ কিংবা কাপড় দিয়ে ক্যামেরার চোখ বন্ধ করে রাখার অভিযোগ রয়েছে সিসিটিভি লাগানো বিভিন্ন বাসে। এ বিষয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এবং এ প্রকল্পের কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় যুগান্তরকে বলেন, বাসে যে ক্যামেরাগুলো লাগানো হয়েছে, এগুলো মনিটরিংয়ের জন্য আমাদের একটা ডিসপ্লে রয়েছে। আমি নিজে সকাল-বিকাল মনিটরিং করি। তিনি বলেন, ক্যামেরা বন্ধ করে রাখার বিষয়টি আমাদেরও নজরে এসেছে। আমরা মালিকদের জানিয়েছি। এছাড়াও আমাদের একটি মনিটরিং টিম আছে। তারা বাসগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে।

তিনি বলেন, ১০০টি বাসে ক্যামেরা লাগানো হলেও সব বাস প্রতিদিন সড়কে বের করা হয় না। দিনে ৬০-৬৫টি বাস রাস্তায় নামে। আর রাস্তায় যেসব বাস নামে, সেগুলোই আমরা নজরদারি করতে পারি। রাস্তায় বাস নামিয়েও যদি সিসি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়, তবে তা ধরার কোনো উপায় আছে কি না-এ ব্যাপারে তিনি বলেন, এ প্রকল্পে আমি দায়িত্ব নিয়েছি বেশি দিন হয়নি। প্রকল্পের সাবেক পিডি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পাপিয়া ঘোষকে ফোন করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দীপ্ত ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া কে হাসান যুগান্তরকে বলেন, সরকারের অর্থে আমরা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। প্রতিটি বাসে চালকের পেছনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি করে রোভিং সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। আমাদের চারজনের একটি মনিটরিং টিম রয়েছে। তিনি বলেন, একটি বাসে ক্যামেরার চোখ কাপড় দিয়ে বন্ধ করা হয়েছিল। বিষয়টি আমরা মালিককে জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, রাজধানীতে বাস চলাচল করে প্রায় ৫ হাজার। এর মধ্যে ১শ বাসে ক্যামেরা লাগিয়ে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা এবং চালক-শ্রমিকদের নিয়োগ, কর্মঘণ্টা এসব নিশ্চিত করা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিবহণ শ্রমিক যুগান্তরকে জানান, বাসে ই-টিকিট চালু হলেও অনেক সময় যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে টিকিট দেওয়া হয় না। এই টাকা ভাগবাঁটোয়ারা করে নেন বাসের কর্মচারীরা। যেসব বাসে সিসি ক্যামেরা লাগানো, সেসব বাসে এই অনিয়মে ভয় থাকে। তাই কর্মচারীরা ক্যামেরার চোখ বন্ধ করে রাখেন। এছাড়া পরিবহণ শ্রমিকদের অধিকাংশই ধূমপায়ী। তাদের একটা বড় অংশ বিভিন্ন ধরনের নেশায়ও সম্পৃক্ত। সিসি ক্যামেরা চালু থাকলে সিগারেট কিংবা মাদকসেবনে সমস্যা হয়, এ কারণেও ক্যামেরা বন্ধ রাখে তারা।

অভিযোগ রয়েছে, বাসে ওঠার সময় সহযোগিতা কিংবা বিভিন্ন অজুহাতে নারী যাত্রীদের শরীর স্পর্শ করেন বাসের কোনো কোনো হেলপার। সিসি ক্যামেরা লাগানো থাকায় দীর্ঘদিনের এ অভ্যাসে ব্যাঘাত ঘটে। এটিও সিসি ক্যামেরা বন্ধ রাখার একটি কারণ।

জানা যায়, চলন্ত বাসে ধর্ষণ এবং নারীদের যৌন হয়রানি রোধের লক্ষ্যেই মূলত মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় বাসে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের একটি পাইলট প্রজেক্ট হাতে নেয়। এটি শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত দুই বছর মেয়াদে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ১৯ হাজার টাকায় এ কর্মসূচি অনুমোদন দেওয়া হয়। করোনা মহামারির কারণে ওই সময় প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে না পারায় এর মেয়াদ বাড়ানো হয়। সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে দীপ্ত ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও।

মার্চে আঁচল ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ঢাকায় যে তরুণীরা গণপরিবহণ ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে এক জরিপ করে দেখেছে ৪৫ দশমিক ২৭ শতাংশ তরুণী গণপরিবহণে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। গণপরিবহণে আপত্তিকর স্পর্শের শিকার হন ৬৪ দশমিক ৯২ শতাংশ তরুণী। ২০ দশমিক ৪ শতাংশ কুদৃষ্টি এবং অনুসরণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বাস এবং বাসস্ট্যান্ডে যৌন হয়রানির সম্মুখীন হন ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ তরুণী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন