সংক্রমণ রোধে সব বন্দরে নজরদারি জোরদার
jugantor
করোনার নতুন উপধরন
সংক্রমণ রোধে সব বন্দরে নজরদারি জোরদার
পরীক্ষা বাধ্যতামূলক * প্রতিকারের চিন্তা না করে প্রতিরোধ করতে হবে -স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চীন ও ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাসের নতুন উপধরন বিএফ.৭ দেখা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে চীন থেকে বাংলাদেশে আসা এক চীনা নাগরিকের শরীরে নতুন উপধরন ধরা পড়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে দেশের সব বিমান, স্থল ও সমুদ্রবন্দরে স্ক্রিনিং ও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব বন্দরে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করে আক্রান্তদের আইসোলেশনে নিতে বলা হয়েছে।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ওমিক্রনের নতুন উপধরন বিএফ.৭ সংক্রমণে চীন বিপর্যস্ত। এরই মধ্যে ভারতসহ ৯১টি দেশে নতুন ধরনটি শনাক্ত হয়েছে। এটি প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশ আন্তর্জাতিক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং নমুনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। আগেভাগেই বাংলাদেশ সরকার সতর্কতা অবলম্বন করেছে। এ ছাড়া করণীয় নির্ধারণে গত সপ্তাহে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, করোনার নতুন উপধরন প্রতিকারের চিন্তা না করে প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সময় নষ্ট না করে এখনই ধাপে ধাপে পদক্ষেপের কর্মকৌশল প্রণয়ন করতে হবে। কারণ ভারতে করোনা প্রাদুর্ভাবের অল্প দিনের মধ্যেই বাংলাদেশে দেখা দেয়। ডেলটা ধরনের ক্ষেত্রে এমন হয়েছিল। এজন্য প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে থাকা সীমান্তে এখনই কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। তারা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে অবস্থা বুঝে যৌক্তিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। যেসব দেশে উপধরনটি শনাক্ত হচ্ছে সেখান থেকে লোকজনের দেশে আসার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। পরিস্থিতি খারাপ হলে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিএফ.৭ উপধরন মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, বাংলাদেশের প্রবেশপথগুলোয় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ডেডিকেডেট হাসপাতাল আরও বেশি সুসজ্জিত করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাতে বেশি রোগী ভর্তি ও সেবা নিশ্চিত করা যায়। করোনা আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে গেলেও যাতে চিকিৎসা সংকট না দেখা দেয় সেজন্য দেশের সব হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনার নতুন উপধরন ধরাপড়া চীনা নাগরিককে ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল বলেন, বিদেশ থেকে দেশে প্রবেশের সব স্থানে স্ক্রিনিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ কমিটিকে আরও সক্রিয় করতে হবে। মানুষকে বিএফ.৭ উপধরনের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন উপধরন কখন আসবে, সে অপেক্ষা করা ঠিক হবে না।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা যুগান্তরকে জানান, বিমানবন্দরে চীন ও ভারত থেকে আসা যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। অস্বাভাবিক মনে হলে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তবে এখনো কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনের নির্দেশনা আসেনি।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক তাহমিনা শিরীন বলেন, দেশে করোনার নতুন কোনো ধরন অথবা উপধরন এলে, দ্রুত শনাক্তের সব ব্যবস্থা আমাদের রয়েছে। জিনোম সিকোয়েন্স করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত দেশে ওমিক্রনের নতুন কোনো উপধরন শনাক্ত হয়নি।

করোনার নতুন উপধরন

সংক্রমণ রোধে সব বন্দরে নজরদারি জোরদার

পরীক্ষা বাধ্যতামূলক * প্রতিকারের চিন্তা না করে প্রতিরোধ করতে হবে -স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চীন ও ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাসের নতুন উপধরন বিএফ.৭ দেখা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে চীন থেকে বাংলাদেশে আসা এক চীনা নাগরিকের শরীরে নতুন উপধরন ধরা পড়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে দেশের সব বিমান, স্থল ও সমুদ্রবন্দরে স্ক্রিনিং ও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব বন্দরে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করে আক্রান্তদের আইসোলেশনে নিতে বলা হয়েছে।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ওমিক্রনের নতুন উপধরন বিএফ.৭ সংক্রমণে চীন বিপর্যস্ত। এরই মধ্যে ভারতসহ ৯১টি দেশে নতুন ধরনটি শনাক্ত হয়েছে। এটি প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশ আন্তর্জাতিক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং নমুনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। আগেভাগেই বাংলাদেশ সরকার সতর্কতা অবলম্বন করেছে। এ ছাড়া করণীয় নির্ধারণে গত সপ্তাহে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, করোনার নতুন উপধরন প্রতিকারের চিন্তা না করে প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সময় নষ্ট না করে এখনই ধাপে ধাপে পদক্ষেপের কর্মকৌশল প্রণয়ন করতে হবে। কারণ ভারতে করোনা প্রাদুর্ভাবের অল্প দিনের মধ্যেই বাংলাদেশে দেখা দেয়। ডেলটা ধরনের ক্ষেত্রে এমন হয়েছিল। এজন্য প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে থাকা সীমান্তে এখনই কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। তারা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে অবস্থা বুঝে যৌক্তিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। যেসব দেশে উপধরনটি শনাক্ত হচ্ছে সেখান থেকে লোকজনের দেশে আসার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। পরিস্থিতি খারাপ হলে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিএফ.৭ উপধরন মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, বাংলাদেশের প্রবেশপথগুলোয় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ডেডিকেডেট হাসপাতাল আরও বেশি সুসজ্জিত করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাতে বেশি রোগী ভর্তি ও সেবা নিশ্চিত করা যায়। করোনা আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে গেলেও যাতে চিকিৎসা সংকট না দেখা দেয় সেজন্য দেশের সব হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনার নতুন উপধরন ধরাপড়া চীনা নাগরিককে ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল বলেন, বিদেশ থেকে দেশে প্রবেশের সব স্থানে স্ক্রিনিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ কমিটিকে আরও সক্রিয় করতে হবে। মানুষকে বিএফ.৭ উপধরনের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন উপধরন কখন আসবে, সে অপেক্ষা করা ঠিক হবে না।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা যুগান্তরকে জানান, বিমানবন্দরে চীন ও ভারত থেকে আসা যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। অস্বাভাবিক মনে হলে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তবে এখনো কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনের নির্দেশনা আসেনি।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক তাহমিনা শিরীন বলেন, দেশে করোনার নতুন কোনো ধরন অথবা উপধরন এলে, দ্রুত শনাক্তের সব ব্যবস্থা আমাদের রয়েছে। জিনোম সিকোয়েন্স করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত দেশে ওমিক্রনের নতুন কোনো উপধরন শনাক্ত হয়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

২৯ ডিসেম্বর, ২০২২
২৮ ডিসেম্বর, ২০২২