দেড় মাস আগে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়

বিসিএসের নতুন সার্কুলার আটকে আছে কোটায়

বয়স চলে যাচ্ছে হাজার হাজার প্রার্থীর * ৪০তম বিসিএসে নিয়োগ করা হবে ২ হাজারের বেশি পদে

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মুসতাক আহমদ

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় দেড় মাস আগে ৪০তম বিসিএসের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি)। কিন্তু কোটা ব্যবস্থা সম্পর্কে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় সংস্থাটি সার্কুলার দিতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে প্রতিবছর জুনের মধ্যে বিসিএসের সার্কুলার দেয়ার রেয়াজ থাকলেও এবার দেরি হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। কেননা হাজার হাজার প্রার্থীর বয়স চলে যাচ্ছে। বিলম্ব করলে ওইসব প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না। ফলে ক্যাডার সার্ভিসের চাকরির স্বপ্ন তাদের অধরাই রয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

সার্কুলার বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক যুগান্তরকে বলেন, আমরা প্রতিবছরই একটি নতুন বিসিএসের সার্কুলার দেয়ার চেষ্টা করি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকেও সে অনুযায়ী চাহিদাপত্র দেয়া হয়। ৪০তম বিসিএসের চাহিদাপত্র পাওয়া গেছে। কিন্তু আরও কিছু তথ্য-উপাত্ত দরকার। সেগুলো চাওয়া হয়েছে। ওইসব তথ্য পাওয়া মাত্র সার্কুলার জারি করা হবে। তবে কোটা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের জন্য সার্কুলার আটকে নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অবশ্য পিএসসির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কোটায়ই আটকে আছে ৪০তম বিসিএসের সার্কুলার। ১১ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সংসদে কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ওই ঘোষণার আলোকে কোটার ব্যাপারে পরবর্তী প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে। কিন্তু এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।

নাম প্রকাশ না করে পিএসসির শীর্ষপর্যায়ের দুই কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কোটার বিষয়টি নিষ্পত্তি ছাড়া বিসিএসের নতুন সার্কুলার দিলে দুই ধরনের সমস্যা হতে পারে। একটি হচ্ছে- সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা ফের আন্দোলনে নামতে পারে। অপরটি কোন নীতির আলোকে প্রার্থী সুপারিশ করা হবে, সেটা সার্কুলার জারির সময়েই নির্ধারণ করতে হয়। বর্তমানে যে ৪টি বিসিএসের কাজ চলছে, সেগুলো কোটা সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আগেই সিদ্ধান্ত নেয়া। তাই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর কোনো বিসিএসের সার্কুলার দিতে হলে আগেভাগেই কোটা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়া দরকার। এজন্যই পিএসসি প্রজ্ঞাপনের জন্য অপেক্ষা করছে।

একজন প্রার্থী টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, জুনের মধ্যে সাধারণ বিসিএসের সার্কুলার দেয়া হয়। ৩৬তম বিসিএসের সার্কুলার দেয়া হয়েছিল ২০১৫ সালের ৩১ মে। ৩৭তম বিসিএসের সার্কুলার দেয়া হয় ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। ৩৮তম বিসিএসের সার্কুলার দেয়া হয় গত বছরের ২০ জুন। ৩৯তম বিশেষ বিসিএস হওয়ায় এর হিসাব আলাদা হয়। এটির সার্কুলার দেয়া হয় ৮ এপ্রিল। অবশ্য ৩৫তম বিসিএসের সার্কুলার দিতে দেরি হয়েছিল। ২০১৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সেই সার্কুলার জারি হয়। ওই প্রার্থী বলেন, পিএসসির বর্তমান প্রশাসন বেকারবান্ধব। কিন্তু সার্কুলার জারিতে দেরি করায় আমরা হতাশ।

পিএসসির দুই শীর্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, তাদেরও ইচ্ছা দ্রুতই ৪০তম বিসিএসের সার্কুলার দেয়া। শুধু কোটা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনের জন্য অপেক্ষার কারণে বিলম্ব হচ্ছে।

এদিকে কোটার কারণে এমন পরিস্থিতি হলেও খুব শিগগিরই কোটা সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিষ্পত্তি হচ্ছে না বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। কেননা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হলেও সেটি ফেরত আসেনি। এ কারণে কোটা পর্যালোচনার কাজও শুরু হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বুধবার এ তথ্য জানান।

অপরদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে কাজ করছে। সবকিছুই শেষ পর্যায়ে। কিন্তু এটা নিয়ে যে কমিটি গঠনের কথা ছিল, সেটি এখনও হয়নি। ফলে এটা চূড়ান্ত হতে সময় লাগতে পারে।’ ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে কমিটি গঠনের কথা থাকলেও এ বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞ খোঁজা হচ্ছে। বিকল্প খুঁজতেই সময় লেগে যাচ্ছে।’ কমিটি গঠন এবং কোটা পর্যালোচনার প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে কমপক্ষে দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে ওই কর্মকর্তার ধারণা।

তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কোটার কাজটি কেবল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের না, অন্য মন্ত্রণালয়ও জড়িত। এ নিয়ে কাজ হয়েছে। তবে গত দু’একদিনের পরিস্থিতি আমার জানা নেই।’

উল্লেখ্য, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে দেড় মাস আগে পাঠানো ৪০তম বিসিএসের চাহিদাপত্রে দুই হাজারের বেশি পদে নিয়োগের কথা আছে। চাহিদাপত্রে (৪০তম বিসিএসের) প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার পদ ২২৮টি, পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার ৭০টি, পররাষ্ট্র ক্যাডারে সহকারী সচিব ২৫টি, আনসার ক্যাডারে ১২, মৎস্য ক্যাডারে ৩৪৪, নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারে সহকারী মহা-হিসাবরক্ষক ১৫, শিক্ষা ক্যাডারে বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাষক পদে প্রায় ১ হাজার। এছাড়া স্বাস্থ্য ক্যাডারের সহকারী সার্জন, সহকারী ডেন্টাল সার্জন, কৃষি ক্যাডারের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, সহকারী বন সংরক্ষক, ভেটেরিনারি সার্জন, সহকারী প্রকৌশলী, কর ক্যাডারের সহকারী করকমিশনার, তথ্য ক্যাডার, রেলওয়ে প্রকৌশল ক্যাডারের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সমমানের পদ, ইকোনমিক ক্যাডারের সহকারী প্রধান, রেলওয়ে পরিবহন ও ডাক ক্যাডারে সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল পদে ৫ শতাধিক কর্মকর্তা নিয়োগের চাহিদার কথা রয়েছে।