স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নয়ন

ধাক্কা মোকাবেলায় জোর প্রস্তুতি সরকারের

সম্ভাব্য অভিঘাতের ধারণাপত্র প্রস্তুতের নির্দেশ * প্রভাব মূল্যায়ন করবে জিইডি ও পিআরআই, চূড়ান্ত মূল্যায়নপত্র যাবে জাতিসংঘে * ১০ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন

  শাহ আলম খান ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের আশা, মার্চে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএনসিডিপি) ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় চূড়ান্ত মূল্যায়নের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রথম পর্যায়ের সুপারিশ করা হবে। যার ফলে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলবে। স্বাধীনতার ৪৭ বছরের মাথায় গৌরবময় এ অর্জন দেশ ও সরকারের জন্য অত্যন্ত সুসংবাদের। একই সঙ্গে এলডিসিভুক্ত দেশ থাকায় বাংলাদেশ যেসব বাণিজ্যিক সুবিধা ও উন্নয়ন সহায়তা পেত, উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পর সেসব সুবিধা আর মিলবে না। উল্টো বেশকিছু অভিঘাত বা ধাক্কা আসবে, যেগুলো মোকাবেলা করেই উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় দেশের অবস্থান সুসংহত করতে হবে। আগামীর এ উন্নয়ন-অগ্রগতির পথটি অমসৃণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অভিঘাত মোকাবেলায় আগেভাগেই জোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সরকার।

২২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এলডিসি স্ট্যাটাস থেকে বাংলাদেশের উত্তরণপরবর্তী অভিঘাতে করণীয় নিয়ে বৈঠক হয়েছে। মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে বৈঠকে এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ যেসব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সুবিধা এবং নমনীয় হারের ঋণ ও উন্নয়ন সহায়তা পায় তা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের পাওয়া প্রায় সব ধরনের সুবিধা পর্যায়ক্রমে হ্রাস পাবে। এর ফলে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে।

উত্তরণের এ সম্ভাব্য প্রতিকূলতা ও ক্রান্তিকাল যাতে মসৃণ হয় এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা, উন্নয়ন কর্মসূচি এবং প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয় সেজন্য এখন থেকেই কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও কার্যক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার নিবিড় সম্পৃক্ততা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয় বৈঠকে। এতে সিদ্ধান্ত হয়, এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কী কী সমস্যা এবং সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অতি সত্বর একটি ধারণাপত্র দিতে হবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাছ থেকে প্রাথমিক এ ধারণাপত্র সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) এলডিসি থেকে উত্তরণপরবর্তী চূড়ান্ত প্রভাব মূল্যায়ন করে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিবেদন তৈরি করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান (থার্ড পার্টি) হিসেবে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটকে (পিআরআই) সুপারিশ করেছে।

প্রণীত মূল্যায়ন প্রতিবেদন ফেব্রুয়ারির মধ্যে সদ্যগঠিত ১০ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির কাছে জমা দিতে হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রম মনিটরিং করবে এ টাস্কফোর্স, যার সভাপতি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদকে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন ৩ জানুয়ারি জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় টাস্কফোর্স কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষে প্রণীত প্রতিবেদনটি জাতিসংঘে পাঠানো হবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ধারণাপত্র সংগ্রহের দায়িত্ব পেয়ে সরব হয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। ইতিমধ্যে এ বিভাগ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রধানদের কাছে আধা সরকারি পত্র (ডিও) দেয়া হয়েছে। এতে ধারণাপত্রের ইংরেজি ও বাংলায় সফট এবং হার্ডকপি আগামীকালের মধ্যে ইআরডিতে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে। জানতে চাইলে পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি আমরা নানা মাধ্যমে জেনেছি। তবে এখনও ফর্মাল প্রস্তাব পাইনি। তবে কাজটি যেহেতু দেশের জন্য, তাই অর্থবহ একটা প্রভাব মূল্যায়ন করে দিতে পারলে সেটি কাজের পরিধিকে আরও সমৃদ্ধ করবে। দায়িত্ব পেলে কাজ শুরু করব এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করব।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণপরবর্তী সময়ে গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর একটা চাপ তৈরি হতে পারে। তখন জিএসপি সুবিধা থাকবে না। ফলে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা হারাতে হবে। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার ঋণে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো নির্ধারিত উচ্চহারের সুদে ঋণ নিতে হবে। এ চাপ কমাতে প্রস্তুতি হিসেবে বিকল্প পদক্ষেপে যেতে হবে। জিএসপির পরিবর্তে জিএসপি প্লাস, বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোর সঙ্গে ফ্রি ট্রেডে যেতে হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও জোরদার করতে হবে। নিজেদের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

প্রভাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনো দেশকে আইডল ধরা হবে কিনা জানতে চাইলে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভিয়েতনামের অর্থনীতির একটা মিল আছে, যদিও তারা এখন আমাদের চেয়ে এগিয়ে গেছে। এক্ষেত্রে তারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তা থেকে কতটা লাভবান হতে পেরেছে- সে বিষয়গুলো সামনে আসতে পারে।

 
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter