আ’লীগ-বিএনপির একাধিক প্রার্থী জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ

  আতাউল করিম খোকন ও অমিত রায়, ময়মনসিংহ ব্যুরো ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার মধ্যে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনটি রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শক্ত সাংগঠনিক অবস্থান রয়েছে এ আসনে। আছেন বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী। এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এমপির বিকল্প নেই। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও দলের দীর্ঘদিনের লড়াই-সংগ্রামের কাণ্ডারি বর্তমান ধর্মমন্ত্রী আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকাসহ অনেক তরুণ নেতা নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন চাইবেন। অন্যদিকে বিএনপি থেকে এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন ড্যাব নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতা।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনটি একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে

১৯৮৬ ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, ’৯১ ও ৯৬-এর ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির একেএম ফজলুল হক, ’৯৬ ও ’১৪ সালে জাতীয় পার্টির বেগম রওশন এরশাদ, ২০০১ সালে বিএনপির দেলোয়ার হোসেন খান দুলু নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে দীর্ঘ সময় আসনটি কোনো দলই একনাগাড়ে ধরে রাখতে পারেনি।

বেগম রওশন এরশাদের বাড়ি ময়মনসিংহ সদরে হওয়ায় ২০১৪ সালের নির্বাচনে মহাজোটের শরিক দল হিসেবে প্রার্থী হয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। এরপর তিনি জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ২০১৪ সালের নির্বাচনে শরিক জাতীয় পার্টিকে ওই আসন ছেড়ে দেয়ায় পুরস্কৃত হন ধর্মমন্ত্রীর পদে ভূষিত হয়ে। তবে এবারের নির্বাচনে অধ্যক্ষ মতিউর রহমান প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রীপুত্র ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোহিত-উর রহমান শান্ত। তিনি জানান, সদরবাসী চান অধ্যক্ষ মতিউর রহমান আবারও নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে আসুক। তবে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি যাকে মনোনয়ন দেবেন, তাকে বিজয়ী করার লক্ষ্যেই আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।

জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি জাহাঙ্গীর আহম্মেদ জানান, নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গোছানোর কাজ চলছে। আওয়ামী লীগের শরিক দল হিসেবে অথবা জাতীয় পার্টি এককভাবে এ আসনে নির্বাচন করবে, প্রার্থী হবেন বেগম রওশন এরশাদ। তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগ বাস্তবায়নে রওশন এরশাদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। সদরের সার্বিক উন্নয়নে তিনি কাজ করতে আগ্রহী।

এছাড়াও মর্যাদাপূর্ণ এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা। যিনি নিষ্ঠার সঙ্গে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জহিরুল হক খোকা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মরহুম মাহবুবুল হক শাকিলের পিতা হওয়ায় নেত্রীর আলাদা সফট কর্নার রয়েছে বলে ধারণা কর্মী-সমর্থকদের। মনোনয়ন চাইবেন এক সময়ের রাজপথ কাঁপানো ছাত্রনেতা ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। ইতিমধ্যেই যিনি জেলা আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি দলীয় সব কর্মকাণ্ড, সভা-সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন। মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতি করার পর আওয়ামী রাজনীতিতে যোগ দেই। সাধারণ মানুষের সেবা প্রদানে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার জন্যই নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী। জননেত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই সিদ্ধান্তই মেনে নেব।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব ও ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. এমএ আজিজ। মনোনয়ন প্রত্যাশায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলে কাজ করে যাচ্ছেন। তার বাড়ি সদরের চরাঞ্চলে হওয়ার চরাঞ্চলের ৫টি ইউনিয়নে রয়েছে তার জনপ্রিয়তা। চিকিৎসা সেবায় সদরবাসীকে নানাভাবে সহযোগিতা করার পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের কাছে ইতিমধ্যে তিনি একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন বলে ধারণা তার কর্মী-সমর্থকদের। ডা. এমএ আজিজ জানান, ‘ময়মনসিংহবাসীর সেবায় সব সময় কাজ করছি। সভা-সমাবেশ ও ভোটারদের কাছে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। নৌকা প্রতীক পেলে বিপুল ভোটে জয়ী হব ইনশাআল্লাহ।’

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী, এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আমিনুল হক শামীম দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডিতে সভাপতি হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য সব সময় কাজ করছি, সহযোগিতা করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেন, তাহলে বিপুল ভোটে জয়ী হব।

এদিকে বিএনপি থেকেও এ আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইবেন। ড্যাব নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কোতোয়ালি বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম মো. ওয়ালিদ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য দেলোয়ার হোসেন খান দুলু সংস্কারপন্থী হিসেবে চি?িহ্নত হওয়ায় দলের সদস্যপদ বঞ্চিত হয়ে এখন কিছুটা কোণঠাসা। তবে সাধারণ ভোটার ও তার সমর্থকদের কাছে এখনও তিনি জনপ্রিয়। দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বিএনপির আসনটি পুনরুদ্ধারে দেলোয়ার হোসেন খান দুলুর বিকল্প নেই। এবার তিনিও বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান।

মনোনয়ন প্রত্যাশী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ছাত্রদল থেকে শুরু করে দলীয় রাজনীতিতে রাজপথে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছি। প্রশাসন ও শাসক দলের নানা বাধা উপেক্ষা করে দলীয় কর্মকাণ্ড পালনের পাশাপাশি তৃণমূলকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছি। দল চাইলে এবং মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।

দলীয় মনোনয়ন সম্পর্কে কামরুল ইসলাম মো. ওয়ালিদ বলেন, কলেজে দু’বার ভিপি ও দু’বার ময়মনসিংহ পৌরসভায় কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছি। কোতোয়ালি বিএনপির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। তৃণমূলে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছি। তিনি জানান, দলীয় ও ভোটের রাজনীতিতে তিনি অগ্রগামী। তাই দলের মনোনয়ন চাইবেন।

সাবেক সংসদ সদস্য দেলোয়ার হোসেন খান দুলু বলেন, ১৯৯৩ সালে বিএনপির হয়ে ময়মনসিংহ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। পরে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ২০০১ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হই। জনগণের প্রত্যাশ পূরণের জন্যই নির্বাচনে আগ্রহী। সংস্কারপন্থী বিষয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে বলেও তিনি জানান।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.