আ.লীগের ঘাঁটিতে একের পর এক ডুবছে নৌকা
jugantor
কলাপাড়ায় ৫ ইউপিতে নির্বাচন
আ.লীগের ঘাঁটিতে একের পর এক ডুবছে নৌকা
নেপথ্যে স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের কোন্দল

  আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল  

১৮ মার্চ ২০২৩, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের ভোটের ঘাঁটি পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে একের পর এক হারছে নৌকা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘটছে এই ঘটনা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সেখানে অনুষ্ঠিত ৫ ইউনিয়নের নির্বাচনে ৩টিতেই হেরেছে আওয়ামী লীগ। ২টিতে জয় পেয়েছে চরমোনাই পিরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা। বাকি একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী।

এর আগেও কলাপাড়ার ধুলাসার ইউনিয়নে নৌকা ডুবিয়েছেন হাতপাখার প্রার্থী। সর্বশেষ নির্বাচনের ভোটের হিসাবে হাতপাখা এখন এই নির্বাচনি এলাকার ২য় শক্তি। ক্ষমতাসীন দলের নিশ্চিত আসনে ইসলামী আন্দোলনের এই উত্থান সহজভাবে দেখছেন না নৌকার সমর্থকরা। দলের স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের কোন্দলেই এমন পরিস্থিতি বলে জানান তারা। সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন আর আধিপত্য বজায় রাখার দ্বন্দ্ব দলকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে অভিযোগ তাদের।

বৃহস্পতিবার কলাপাড়ার ৫টি ইউনিয়নের নির্বাচন হয়। একই দিনে বরগুনার তালতলী উপজেলার একটি ইউনিয়নে হয়েছে ভোটগ্রহণ। এই ৬ ইউনিয়নের নির্বাচনে ৪টিতেই হেরেছে আওয়ামী লীগ। ৪ ইউনিয়নের ৩টিতে হাতপাখা এবং একটিতে জিতেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী।

বরগুনা প্রশ্নে বিষয়টি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও গোল বেঁধেছে কলাপাড়ার ৫ ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে। এখানে ৫টির ৩টিতেই কেন নৌকা হারল, সেটাই এখন সবার আলোচনার বিষয়। এ ঘটনা যে এবারই প্রথম তা নয়। ১২ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কলাপাড়ার চিত্র প্রায় একইরকম।

সর্বশেষ অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এখানে ১২ ইউনিয়নের ৮টিতেই হেরেছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ৩টিতে হাতপাখা, ২টিতে বিএনপি সমর্থিত এবং ৩টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরেছে নৌকা। অথচ এখানে জাতীয় নির্বাচনে কখনোই হারেনি আওয়ামী লীগ। একানব্বইয়ের পর যত নির্বাচন হয়েছে, সবকটিতেই বিপুল ভোটে জেতেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা।

পাখিমারা এলাকার বাসিন্দা রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, ‘কেবল জাতীয় নির্বাচন কেন বলছেন, পৌরসভা, উপজেলা আর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও হারার ইতিহাস ছিল না আওয়ামী লীগের। এই এলাকার সিংহভাগ মানুষ নৌকা আর আওয়ামী লীগ ছাড়া চিনত না কিছুই। কিন্তু এখন কী হচ্ছে বুঝতে পারছি না। বিএনপি তো নির্বাচনে নেই। এরপরও কেন হারছে নৌকা, তা দলের নেতারাই ভালো বলতে পারবেন।’

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মিঠাগঞ্জ ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নে জিতেছে হাতপাখা। নৌকা জিতেছে বালিয়াতলী আর ধানখালী ইউনিয়নে। চম্পাপুর ইউনিয়নে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। কাছাকাছি সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর মধ্যে বৃহস্পতিবারের এই ভোটকেই সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য বলছেন স্থানীয়রা। বিপুলসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি আর শান্তিপূর্ণ নিরপেক্ষ পরিবেশের ভোটে খুশিও তারা। বিএনপি বর্জন করলেও এই নির্বাচন পরিস্থিতি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘পটুয়াখালী-৪ নির্বাচনি এলাকার দুই উপজেলায় মোট ইউনিয়নের সংখ্যা ১৮। এর মধ্যে ৯টি ইউনিয়নেই ভোটে হেরেছে নৌকা। যেটা এর আগে আর কখনো হয়নি। রাঙ্গাবালী উপজেলার ৬ ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ছিল প্রার্থী ও ভোটারদের। ফলে সেখানে ৬ ইউনিয়নের ৫টিতে নৌকা জিতলেও সেই জয় কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এককথায়-ভোটের ঘাঁটিতে ক্রমেই পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের। এ অবস্থা চলতে থাকলে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে আগামী জাতীয় নির্বাচনে।’

কেন বারবার হারছে নৌকা, খোঁজ নিতে গিয়ে মেলে সেখানকার শীর্ষ নেতাদের দ্বন্দ্বের খবর। বর্তমান এমপি মুহিব ও সাবেক এমপি মাহবুবের রেষারেষি রয়েছে। এর মধ্যে মাহবুব আবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। একসময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, ‘তাদের একজন চাইছেন সংসদ-সদস্য পদ ধরে রাখতে আর অন্যজন চাইছেন ফিরে পেতে। তাদের এই দ্বন্দ্বের ডালপালা ছড়াচ্ছে তৃণমূলে। যে কারণে নৌকা জেতানোর চেয়ে দোষারোপের রাজনীতি আর একে অপরকে ছোট করাই মুখ্য তাদের কাছে। মূলত এ কারণেই হারছে নৌকা। তাছাড়া বিএনপির ভোটাররা যেহেতু নৌকায় ভোট দেবেন না, তাই বিকল্প হিসাবে বেছে নিচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন তথা হাতপাখার প্রার্থীদের। ফলে ভোটের মাঠে দ্বিতীয় শক্তি হিসাবে আভির্ভূত হচ্ছে হাতপাখা। তাছাড়া রাজনীতির মাঠে এমপি মুহিব যতটা সহজসরল আর ভদ্র, ঠিক ততটাই জটিল তার প্রতিপক্ষ। এখানে দলকে ধ্বংস করে হলেও এমপি মুহিবকে ছোট করার একটা চেষ্টা চলে আওয়ামী লীগে। যে চেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় দল।’

ধানখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘এখানে নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন মাহবুব তালুকদারের বেয়াই রিয়াজ। সবকটি ইউনিয়নে নির্বাচনি প্রচারে গেলেও এখানে আসেননি উপজেলা সভাপতি মাহবুব। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তাতে লাভ হয়নি। নৌকাই জিতেছে এখানে।’

কলাপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র বিপুল হালদার বলেন, ‘সাবেক ও বর্তমান এমপির মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে, এটা যেমন ঠিক; তেমনই মনোনয়ন পালটে যাওয়াও পরাজয়ের একটি কারণ। যে দুটি ইউনিয়নে নৌকা হেরেছে, সেখানে সাবেক চেয়ারম্যানদের মনোনয়ন দিয়েছিল কেন্দ্র। অথচ আমরা তৃণমূল থেকে যে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছিলাম সেখানে তাদের নাম ছিল না।’

শীর্ষ দুই নেতার দ্বন্দ্ব নির্বাচনের ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী বিধি-নিষেধের কারণে এমপি সাহেব তো ভোটের মাঠে নামতে পারেননি। তবে তার স্ত্রী বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে প্রচারে অংশ নিয়েছেন। অপরদিকে সাবেক এমপি ও উপজেলা সভাপতি মাহবুব তালুকদার ২/১টি বাদে সব ইউনিয়নেই প্রচার চালিয়েছেন। মূলত বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণেই হেরেছেন দলের প্রার্থীরা।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব তালুকদার বলেন, ‘সঠিক প্রার্থী নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্ত ও অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে সব ইউনিয়নে জিততে পারিনি আমরা।’

এ প্রসঙ্গে সংসদ-সদস্য মহিববুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করে লাভ নেই। বিধিনিষেধের কারণে মাঠে নামার সুযোগ ছিল না আমার। যা কিছু তার সবটাই করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। এই কমিটির সভাপতি আছেন, সাধারণ সম্পাদক আছেন, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন কেন হারলেন দলের প্রার্থীরা? প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে গিয়ে যারা দল ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে নামেন, তাদের দিয়ে আর যাই হোক, আওয়ামী লীগের কোনো উপকার হবে না।’

কলাপাড়ায় ৫ ইউপিতে নির্বাচন

আ.লীগের ঘাঁটিতে একের পর এক ডুবছে নৌকা

নেপথ্যে স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের কোন্দল
 আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল 
১৮ মার্চ ২০২৩, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের ভোটের ঘাঁটি পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে একের পর এক হারছে নৌকা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘটছে এই ঘটনা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সেখানে অনুষ্ঠিত ৫ ইউনিয়নের নির্বাচনে ৩টিতেই হেরেছে আওয়ামী লীগ। ২টিতে জয় পেয়েছে চরমোনাই পিরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা। বাকি একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী।

এর আগেও কলাপাড়ার ধুলাসার ইউনিয়নে নৌকা ডুবিয়েছেন হাতপাখার প্রার্থী। সর্বশেষ নির্বাচনের ভোটের হিসাবে হাতপাখা এখন এই নির্বাচনি এলাকার ২য় শক্তি। ক্ষমতাসীন দলের নিশ্চিত আসনে ইসলামী আন্দোলনের এই উত্থান সহজভাবে দেখছেন না নৌকার সমর্থকরা। দলের স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের কোন্দলেই এমন পরিস্থিতি বলে জানান তারা। সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন আর আধিপত্য বজায় রাখার দ্বন্দ্ব দলকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে অভিযোগ তাদের।

বৃহস্পতিবার কলাপাড়ার ৫টি ইউনিয়নের নির্বাচন হয়। একই দিনে বরগুনার তালতলী উপজেলার একটি ইউনিয়নে হয়েছে ভোটগ্রহণ। এই ৬ ইউনিয়নের নির্বাচনে ৪টিতেই হেরেছে আওয়ামী লীগ। ৪ ইউনিয়নের ৩টিতে হাতপাখা এবং একটিতে জিতেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী।

বরগুনা প্রশ্নে বিষয়টি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও গোল বেঁধেছে কলাপাড়ার ৫ ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে। এখানে ৫টির ৩টিতেই কেন নৌকা হারল, সেটাই এখন সবার আলোচনার বিষয়। এ ঘটনা যে এবারই প্রথম তা নয়। ১২ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কলাপাড়ার চিত্র প্রায় একইরকম।

সর্বশেষ অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এখানে ১২ ইউনিয়নের ৮টিতেই হেরেছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ৩টিতে হাতপাখা, ২টিতে বিএনপি সমর্থিত এবং ৩টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরেছে নৌকা। অথচ এখানে জাতীয় নির্বাচনে কখনোই হারেনি আওয়ামী লীগ। একানব্বইয়ের পর যত নির্বাচন হয়েছে, সবকটিতেই বিপুল ভোটে জেতেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা।

পাখিমারা এলাকার বাসিন্দা রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, ‘কেবল জাতীয় নির্বাচন কেন বলছেন, পৌরসভা, উপজেলা আর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও হারার ইতিহাস ছিল না আওয়ামী লীগের। এই এলাকার সিংহভাগ মানুষ নৌকা আর আওয়ামী লীগ ছাড়া চিনত না কিছুই। কিন্তু এখন কী হচ্ছে বুঝতে পারছি না। বিএনপি তো নির্বাচনে নেই। এরপরও কেন হারছে নৌকা, তা দলের নেতারাই ভালো বলতে পারবেন।’

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মিঠাগঞ্জ ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নে জিতেছে হাতপাখা। নৌকা জিতেছে বালিয়াতলী আর ধানখালী ইউনিয়নে। চম্পাপুর ইউনিয়নে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। কাছাকাছি সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর মধ্যে বৃহস্পতিবারের এই ভোটকেই সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য বলছেন স্থানীয়রা। বিপুলসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি আর শান্তিপূর্ণ নিরপেক্ষ পরিবেশের ভোটে খুশিও তারা। বিএনপি বর্জন করলেও এই নির্বাচন পরিস্থিতি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘পটুয়াখালী-৪ নির্বাচনি এলাকার দুই উপজেলায় মোট ইউনিয়নের সংখ্যা ১৮। এর মধ্যে ৯টি ইউনিয়নেই ভোটে হেরেছে নৌকা। যেটা এর আগে আর কখনো হয়নি। রাঙ্গাবালী উপজেলার ৬ ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ছিল প্রার্থী ও ভোটারদের। ফলে সেখানে ৬ ইউনিয়নের ৫টিতে নৌকা জিতলেও সেই জয় কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এককথায়-ভোটের ঘাঁটিতে ক্রমেই পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের। এ অবস্থা চলতে থাকলে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে আগামী জাতীয় নির্বাচনে।’

কেন বারবার হারছে নৌকা, খোঁজ নিতে গিয়ে মেলে সেখানকার শীর্ষ নেতাদের দ্বন্দ্বের খবর। বর্তমান এমপি মুহিব ও সাবেক এমপি মাহবুবের রেষারেষি রয়েছে। এর মধ্যে মাহবুব আবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। একসময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, ‘তাদের একজন চাইছেন সংসদ-সদস্য পদ ধরে রাখতে আর অন্যজন চাইছেন ফিরে পেতে। তাদের এই দ্বন্দ্বের ডালপালা ছড়াচ্ছে তৃণমূলে। যে কারণে নৌকা জেতানোর চেয়ে দোষারোপের রাজনীতি আর একে অপরকে ছোট করাই মুখ্য তাদের কাছে। মূলত এ কারণেই হারছে নৌকা। তাছাড়া বিএনপির ভোটাররা যেহেতু নৌকায় ভোট দেবেন না, তাই বিকল্প হিসাবে বেছে নিচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন তথা হাতপাখার প্রার্থীদের। ফলে ভোটের মাঠে দ্বিতীয় শক্তি হিসাবে আভির্ভূত হচ্ছে হাতপাখা। তাছাড়া রাজনীতির মাঠে এমপি মুহিব যতটা সহজসরল আর ভদ্র, ঠিক ততটাই জটিল তার প্রতিপক্ষ। এখানে দলকে ধ্বংস করে হলেও এমপি মুহিবকে ছোট করার একটা চেষ্টা চলে আওয়ামী লীগে। যে চেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় দল।’

ধানখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘এখানে নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন মাহবুব তালুকদারের বেয়াই রিয়াজ। সবকটি ইউনিয়নে নির্বাচনি প্রচারে গেলেও এখানে আসেননি উপজেলা সভাপতি মাহবুব। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তাতে লাভ হয়নি। নৌকাই জিতেছে এখানে।’

কলাপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র বিপুল হালদার বলেন, ‘সাবেক ও বর্তমান এমপির মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে, এটা যেমন ঠিক; তেমনই মনোনয়ন পালটে যাওয়াও পরাজয়ের একটি কারণ। যে দুটি ইউনিয়নে নৌকা হেরেছে, সেখানে সাবেক চেয়ারম্যানদের মনোনয়ন দিয়েছিল কেন্দ্র। অথচ আমরা তৃণমূল থেকে যে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছিলাম সেখানে তাদের নাম ছিল না।’

শীর্ষ দুই নেতার দ্বন্দ্ব নির্বাচনের ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী বিধি-নিষেধের কারণে এমপি সাহেব তো ভোটের মাঠে নামতে পারেননি। তবে তার স্ত্রী বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে প্রচারে অংশ নিয়েছেন। অপরদিকে সাবেক এমপি ও উপজেলা সভাপতি মাহবুব তালুকদার ২/১টি বাদে সব ইউনিয়নেই প্রচার চালিয়েছেন। মূলত বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণেই হেরেছেন দলের প্রার্থীরা।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব তালুকদার বলেন, ‘সঠিক প্রার্থী নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্ত ও অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে সব ইউনিয়নে জিততে পারিনি আমরা।’

এ প্রসঙ্গে সংসদ-সদস্য মহিববুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করে লাভ নেই। বিধিনিষেধের কারণে মাঠে নামার সুযোগ ছিল না আমার। যা কিছু তার সবটাই করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। এই কমিটির সভাপতি আছেন, সাধারণ সম্পাদক আছেন, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন কেন হারলেন দলের প্রার্থীরা? প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে গিয়ে যারা দল ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে নামেন, তাদের দিয়ে আর যাই হোক, আওয়ামী লীগের কোনো উপকার হবে না।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন